ইরাকে এক ইঞ্চি ভূমিতেও মার্কিন সেনা নিরাপদে থাকবে না

81

মতিয়ার রহমান ## ইরাকের কুর্দিস্তান এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ঘাঁটিতে রকেট হামলার পর ইরাকের সশস্ত্র বিদ্রোহীরা মার্কিন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আরও হামলার হুমকি দিয়েছে। আউলিয়া আল দাম নামে শিয়া সশস্ত্র একটি গোষ্ঠী ইরাকের এক ইঞ্চি জমিতেও আমেরিকান বাহিনী নিরাপদ থাকবে না বলে এ হুমকি দেয়।

এর আগে সোমবার রাতে কুর্দিস্তানের ইরবিল এলাকায় বেশ কয়েকটি রকেট হামলা এক বিদেশি ঠিকাদার নিহত হয়। এছাড়া এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকসহ আটজন আহত হয়েছে।

আল জাজিরার খবরে গতকালের হামলাকে বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জোটের ওপর ভয়াবহ হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, গত বছরের পর দুই মাসের ব্যবধান পশ্চিমা সেনাবাহনী ও কূটনৈতিকদের ওপর এই রকেট হামলা হলো।

অস্বাভাবিক এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আউলিয়া আল দাম নামে স্বল্প পরিচিত একটি শিয়া গোষ্ঠী। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী বলছে তারা ইরান সমর্থিত উপদল কাতাইব হিযবুল্লাহ এবং আসাইব আহল আল হকের সম্মুখ গোষ্ঠী।

আরও পড়ুন: ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে রকেট হামলা, হতাহত

সশস্ত্র গোষ্ঠীদের অনলাইন পর্যবেক্ষণকারী গোয়েন্দা জানিয়েছে, হামলার পর সশস্ত্র গোষ্ঠী আউলিয়া আল দাম তাদের মাতৃভূমির যেকোনো ইঞ্চিতে আমেরিকান বাহিনী নিরাপদ থাকবে না বলে হুমকি দিয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের আধা-সায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তানের ইরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকিন রকেট হামলায় তারা ক্রুদ্ধ বলে জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে হামলায় একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছে এবং যৌথবাহিনী, যুক্তরাষ্ট্রের সার্ভিসহম্যানসহ কয়েকজন আহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র হামলায় দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রতিজ্ঞা করেছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী বারহাম সালিহ এক টুইট বার্তায় রকেট হামলাকে ভয়াবহ উসকানি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কুর্দিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানি আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছেন।

হামলা প্রসঙ্গে যৌথবাহিনীর মুখপাত্র ওয়েইন মারাত্তো বলেন, ইবরিলে যৌথবাহিনীর ওপর পরোক্ষ আগুন পতিত হয়, বিমানবন্দরের চারদিকে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

যে ঠিকাদার নিহত হয়েছেন তিনি ইরাকি নন বলে জানিয়েছেন যৌথবাহিনীর এই মুখপাত্র । তবে নিহতের বিস্তারিত পরিচয় জানাননি তিনি।

ইরাক এবং পশ্চিমা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এএফপি নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, শহরের বিমানবন্দর লক্ষ্য করে কমপক্ষে তিনটি রকেট ছোড়া হয়। ওই এলাকায় আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অংশ হিসেবে বিদেশি সেনাদের ঘাঁটি রয়েছে। হামলার পর বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং নিরাপত্তার জন্য ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়।

২০১৭ সালের শেষে ইরাক আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে বিজয় ঘোষণা করে। এরপর ওই এলাকায় যৌথবাহিনীর সংখ্যা কমিয়ে ৩৫শ তে রাখে যুক্তরাষ্ট্র। এরমধ্যে ২৫শ যুক্তরাষ্ট্রে সেনা। তাদের অধিকাংশই ইরবিল বিমানবন্দরের সামরিক ভবনে থাকেন।

হামলার পর স্থানীয় গণমাধ্যম রোডো কুর্দির আঞ্চলিক সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য দিয়ে এক খবরে জানায়, ইরবিলের আশেপাশে বেশ কয়েকটি রকেট হামলা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

ঘটনার নিরাপত্তাবাহিনী একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং সাধারণ মানুষেদেরকে বাড়িতে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এরআগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে কিরকুক প্রদেশের ঘাঁটিতে রকেট হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের এক ঠিকাদার নিহত হন। ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র কাতাইব হিযবুল্লাহর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক বিমান হামলা চালায়। ২০২০ সালের মার্চ মাসে আরেকটি রকেট হামলায় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রেরই দুইজন সৈনিকসহ একজন ঠিকাদার নিহত হয়।