উইঘুর পরিবার গুলোকে যেভাবে ছিন্নভিন্ন করছে চীন

23

মাহবুবুল আলম টুটুল ##

জুমরাত দাউতের তিন সন্তানের জন্য শুক্রবার মানেই আতঙ্কের দিন। এই দিনটিতেই স্কুলে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাদের। তদন্তকারীরা শিশুদের কাছে তাদের বাড়ির বিষয়ে জানতে চান। ঘরে তাদের বাবা-মা নামাজ পড়েছেন কি না, হযরত মুহাম্মদ (স)-এর কোনও কথা বলা হয়েছে কি না এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয় শিশুদের। কোনোটার জবাব হ্যাঁ হলেই পরিবারটিকে পাঠিয়ে দেয়া হবে তথাকথিত ‘ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার’-এ। চীনের জিনজিয়া অঞ্চলে উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে ঠিক এমন আচরণই করা হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট।

জুমরাত দাউতের ভাষ্য অনুসারে, জিনজিয়াংয়ে উইঘুরদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়। এতে বড়দের মতো ভুক্তভোগী হচ্ছে শিশুরাও। প্রতি সোমবার শিশুদের উঠানে নিয়ে চীনের জাতীয় পতাকা উত্তোলন দেখান বাবা-মায়েরা। সেটা তীব্র শীতই হোক বা কড়া রোদ্দুর, পতাকা দেখানো বাদ দেয়া যাবে না। সেটি দেখার সময় সবাইকে উৎফুল্ল থাকাও বাধ্যতামূলক। আবার, শুধু নিজেদের আচরণে খেয়াল রাখলে হবে না, নজর রাখতে হবে আশপাশের আরও ১০টি পরিবারের ওপর। কারও মধ্যে কোনও ধরনের অসন্তুষ্টির চিহ্ন দেখলেই জানাতে হবে সরকারি কর্মকর্তাদের।

দাউত জানান, তিনি গত বছর সন্তানদের দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পাড়ি জমানোর আগে দুই মাস এধরনের একটি ক্যাম্পে বন্দি ছিলেন। তার অপরাধ ছিল পাকিস্তানে থাকা স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা বলা, কয়েক বছর আগে পাকিস্তান যাওয়া, এক বিদেশির (চীনে বসবাসকারী পারিবারিক বন্ধু) কাছ থেকে অর্থ নেয়া এবং মার্কিন ভিসা পাওয়া।

এ নারী জানান, তাকে এমন একটা কক্ষে রাখা হয়েছিল, যেখানে ভিড়ের কারণে একপাশ ফিরে ঘুমাতে হতো। সন্তানদের ভয় ছিল, প্রতি শুক্রবারের জিজ্ঞাসাবাদে ভুল কিছু বললেই তাকে হয়তো আবার ওই অবস্থায় ফিরে যেতে হতো।

ইকোনমিস্ট বলছে, গত তিন বছর ধরে জিনজিয়াংয়ের বন্দিশিবিরে অন্তত ১০ লাখ উইঘুর যে দুর্দশায় রয়েছে তা ব্যক্তিপর্যায়ে প্রমাণ করা একপ্রকার অসম্ভব। অঞ্চলটি পরিদর্শনে যাওয়া বিদেশি সাংবাদিকদের সারাক্ষণ নজরদারিতে রাখা হয়। ফলে তাদের সঙ্গে কথা বলা স্থানীয়দের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। এরপরও বেশকিছু সরকারি নথিপত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া প্রমাণে এটা নিশ্চিত যে, সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে জুমরাত দাউতের বক্তব্য শুধু বিশ্বাসযোগ্যই নয়, নিয়মিত ঘটনাও বটে।