খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ ঈদের আগে পাচ্ছেন না নেতাকর্মীরা

102

নুরুজ্জামান লিটন ।। 

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না নেতাকর্মীরা। এ সময় পর্যন্ত পরিবার ও চিকিৎসক ছাড়া আর কারও সঙ্গেই দেখা করবেন না তিনি।

সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত হওয়ার পর ২৫ মার্চ গুলশানের ভাড়াবাড়ি ‘ফিরোজা’য় উঠেছেন খালেদা জিয়া। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ করে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি এখনও কোয়ারেন্টিনেই আছেন ও চিকিৎসা নিচ্ছেন।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব মেনে তিনি বাসায় থাকবেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বেশ উদ্বিগ্ন। দলীয় নেতা ও পরিবার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, অন্য কোনো কারণ নয়, সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসন কারও সঙ্গেই দেখা করবেন না। শুধু ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাচ্ছেন। আমি ও আমার ভাইয়ের বউ (শামীম ইস্কান্দারের স্ত্রী) নিয়মিত তাকে দেখতে যাচ্ছি। আর কেউ আসছে না। দলের নেতাকর্মী এমনকি অন্য আত্মীয়স্বজনরাও যাচ্ছেন না। ঈদের আগে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সম্ভাবনা খুবই কম।

সেলিমা ইসলাম বলেন, কোয়ারেন্টিনে থাকা ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার পরিচর্যার জন্য সার্বক্ষণিক একজন নার্স ও গৃহকর্মী ফাতেমা সঙ্গেই থাকেন। খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে দেশে মৃত্যু ও জনগণের দুর্ভোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খুবই ব্যথিত।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখনও অসুস্থ। তার শারীরিক অবস্থা ভালো হতে আরও সময় লাগবে। এ সময় তার সঙ্গে দেখা করতে আমরাও চাই না। এ ছাড়া বর্তমানে রাজনৈতিক তেমন কোনো ইস্যুও নেই।

জানা গেছে, স্বজনদের মধ্যে শুধু সেলিমা ইসলাম সন্ধ্যায় ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা সকালের দিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সময় কাটান। এ ছাড়া নিয়মিত বিকালে আসেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্যানেলের সদস্য ডা. মামুন।

করোনা পরিস্থিতির কারণে বাসায় থেকেই খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে জানান তার চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ম্যাডাম অসুস্থ। তার চিকিৎসা জরুরি। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি এমন যে, এখন এটি সম্ভব হচ্ছে না।