দক্ষিণ চিন সাগরে বেইজিংয়ের তৎপরতার তীব্র বিরোধিতা করছে অস্ট্রেলিয়া।

48

ইকবাল হোসেন:=

একের পর এক বিবাদ বাঁধিয়ে চলেছে চিন। এবার সাগরে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চিনের বিরোধ লেগেছে। দক্ষিণ চিন সাগরে বেইজিংয়ের তৎপরতার তীব্র বিরোধিতা করছে অস্ট্রেলিয়া।

দক্ষিণ চিন সাগরের জলসীমান্তের একটি দ্বীপকে চিন বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে বলে জাতিসংঘে দাবি তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের কাছে সরকারি নথি পাঠিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।বিতর্কিত দ্বীপটির চিনা দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে জাতিসংঘে অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী মিশন। চিনের দাবিকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে ‘অসংগতিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছে অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়া বলছে, সমুদ্র আইন সম্পর্কিত ১৯৮২ সালের জাতিসংঘ কনভেনশনের সঙ্গে ‘অসংগতিপূর্ণ’ যেকোনো চিনা দাবি অস্ট্রেলিয়ার সরকার প্রত্যাখ্যান করে।

চিনের করা দাবির আইনগত কোনো ভিত্তি নেই বলেও উল্লেখ করে অস্ট্রেলিয়া।গত সপ্তাহে দক্ষিণ চিন সাগরে অস্ট্রেলিয়ার যুদ্ধজাহাজের মুখোমুখি হয় চিনা নৌবাহিনী।

এ সময় অস্ট্রেলীয় যুদ্ধজাহাজকে বিতর্কিত দ্বীপটির পাশ দিয়ে যেতে বাধা দেয় চিনা নৌবাহিনী। অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র-জাপানের একটি যৌথ নৌ–মহড়া চলাকালে এই ঘটনা।

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা বিতর্কিত দ্বীপটির ১২ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে প্রবেশ করেনি। যদিও অপরিকল্পিত এই মহড়ায় বিদেশি যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি নিরাপদ ও পেশাদার উপায়ে সামলে নেওয়া হয়েছিল।

চিনকে বরাবরই সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক বন্ধুর চোখে দেখেছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু চিনের যুদ্ধংদেহী স্বভাবের কারণে দেশটির প্রতি আস্থা হারাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। করোনা পরবর্তী বিশ্বের জন্য নিজেদের তাই প্রস্তুত রাখতে সামরিক বাহিনীকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। তাই এই করোনার সময়েও দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর আগামী দশ বছরের ৪০ শতাংশ বর্ধিত বাজেট পরিকল্পনা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

দূরগামী ক্ষেপণাস্ত্র, সুপারসনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ও বিমান কেনাসহ নানা খাতে প্রায় ২৭ হাজার কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার ব্যয় করার কথা ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান মরিসন সরকার। এ শুরুতে এসব ঘোষণা দিয়েছে তারা।

এশিয়া এবং প্রশান্ত-মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষমতার বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যকার সৃষ্ট প্রতিযোগিতাকেও মারাত্মক ঝুঁকি হিসেবে দেখছে অস্ট্রেলিয়া। চিনকে সন্তুষ্ট করে চলার বহু চেষ্টা বেশির ভাগ সময়ই দেখা যেত দেশটির সরকারি ও বিরোধী বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের মধ্যে।

অন্য পিঠে বৈশ্বিক রাজনীতিতে চিনের পক্ষ থেকেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাপারে ‘ভালো ও খারাপ উভয় সময়ে আমরা একত্রে থাকব’ এই বাক্য উচ্চারিত হয়েছে বহুবার।

২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার সংসদে দেওয়া ভাষণে চিনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এ কথা বলার পর থেকে দুই দেশের সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বের আগ পর্যন্ত যেকোনো দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে এ বাক্য ছিল অনেকটা স্লোগানের মতো।