বাংলাদেশে ৪০ লাখ মানুষ হাড় ক্ষয় রোগে আক্রান্ত্র

29

মো: ইদ্রিস আলী ## হাড় ক্ষয় রোগ একটি নীরব ঘাতক। বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৫০ বছরের বেশি বয়সের মানুষের প্রত্যেক তিনজন নারীর মধ্যে একজন ও পাঁচজন পুরুষের একজন এ রোগে ভুগছেন। সেই হিসেবে দেশে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ নারী-পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত।

বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোগ দিবস উপলক্ষে সচেতনতার অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগ ও রিউমাটোলজি বিভাগের ক্লাসরুমে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয় বৈজ্ঞানিক সেমিনার। এত এ তথ্য জানানো হয়।

প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. জিলন মিঞা সরকার। সভাপতিত্ব করেন রিউমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম।

সেমিনারে জানানো হয়, বাংলাদেশে নারীরা গড়ে প্রায় ৭৪ বছর বাঁচেন। পুরুষরা বাঁচেন প্রায় ৭০ বছর। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু দিনে দিনে বাড়ছে। এ খুশির খবরের উল্টোপিঠে উঁকি দিচ্ছে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয় রোগ। বাংলাদেশের জনগণের গড় আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওপরের হিসাবের ধারাবাহিকতায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ নারী-পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত। এ রোগটি হাড় ভাঙার পূর্ব পর্যন্ত উপসর্গবিহীন থাকে বিধায় রোগীরা এ বিষয়ে সচেতন থাকেন না। এর ফলে এ রোগ দ্রুত বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, আক্রান্ত রোগীরা অল্প আঘাতে মেরুদণ্ডের হাড়, কুচকির হাড়, কব্জির হাড়সহ অন্য হাড় ভাঙাজনিত কারণে হুইল চেয়ার বা লাঠি নির্ভর জীবন-যাপন করেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য অনেক রোগ তাদের নিত্যসঙ্গী হয়। যেমন ডায়াবেটিস, হাইপ্রেসার, বয়সজনিত বাত ব্যথার কষ্ট ইত্যাদি। এর সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যায় বিধায় অনেক বয়স্ক মানুষ অবহেলিত জীবন-যাপনেও বাধ্য হন।

বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বাত ব্যথা রোগী ও বয়স্ক মানুষগুলোর সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের জন্য সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বল্প সময়ের মধ্যে রিউমাটোলজি বিভাগ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।