সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের দ্বি বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

69

যশোর ব্যুরো ##  : বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে),ও একাংশের সভাপতি এম আব্দুল্লাহ বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশকে নরকে পরিণত করেছেন। গণতন্ত্রকে পাঠিয়েছেন কবরে। মিডিয়ার স্বাধীনতা আজ সুদুর পরাহত। বিলুপ্ত গণতন্ত্র পুনুরুদ্ধারে ও মিডিয়ার হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন সংগ্রামের কোন বিকল্প নেই। আর এই ক্ষেত্রে পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য হিসেবে সাংবাদিকদেরই অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে হবে। কোন রাজনৈতিক দলকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসানো বা কোন রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতাচ্যুত করা পেশাজীবী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব নয়। আমরা শুধুমাত্র মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার এবং পেশা হিসেবে স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ^াসী । আমরা মর্যাদার সাথে পেশায় টিকে থাকতে চাই। কিন্তু বর্তমান ফ্যাসিবাদী এই স্বৈরাচারী সরকার সেই পথটুকুও রুদ্ধ করে দিয়েছে। আর এই কারনেই আমরা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছি। নন্দিত সাংবাদিক সাগর রুনি হত্যাকান্ডসহ গত ১২ বছরে দেশে সংঘটিত সকল সাংবাদিকসহ পেশাজীবী হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করে তিনি সাংবাদিকদের আগামী আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থাকার উদ্ধাত্ত আহবান জানান।
আজ শুক্রবার সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের দ্বি বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিক নেতা এম আব্দুল্লাহ এসব কথা বলেন। জেইউজের সভাপতি শহিদ জয়ের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, সহ সভাপতি রাসেদুল ইসলাম ও ওবায়দুর রহমান শাহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক খুরশীদ আলম ও কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সদস্য এইচ এম আলাউদ্দিন। এছাড়া সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সভাপতি ও বিএফইউজের সাবেক সহকারী মহাসচিব নূর ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম আইউব, তৌহিদ জামান, সাইফুল ইসলাম সজল ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান বক্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান সাইফ ।
বর্তমান সরকারের শাসন আমলকে সংবাদমাধ্যমের কালোঅধ্যায় হিসেবে অভিহিত করে এম আব্দুল্লাহ বলেন, গত একযুগে সাগর-রুনিসহ দেশে ৪১জন সংবাদকর্মী খুন হয়েছেন। শুধুমাত্র গত একবছরে (২০২০ সালে) সাংবাদিক নির্যাতন, নিপীড়ন, মামলা ও কারাবন্দির শিকার হয়েছেন ২৪৮জন। এ পর্যন্ত কোনও সাংবাদিক হত্যার বিচার হয়নি। সুষ্ঠু ও নিরপে সাংবাদিকতাকে কবরস্থানে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আমার দেশ, চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামী টিভিসহ বিভিন্ন মিডিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। করোনাকালের অজুহাতে শ’য়ে শ’য়ে সাংবাদিককে চাকরিচ্যূত হয়েছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকতে আজ তারা অনলাইনে মধু বিক্রি করছেন, কাপড় বিক্রি করছেন।
এই অবস্থা চিরস্থায়ী নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই অবস্থার পরিবর্তনে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অবশ্যই নতুন সূর্যোদয় হবে; পরিবর্তন অবশ্যসম্ভাবী।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনে বক্তারা ইউনিয়নের গত ২ বছরের কর্মকান্ডের চুলচেরা বিশ্লেষন করেন।