স্বামী সন্তান ফেলে প্রেমিকের সাথে সংসার করতে গিয়ে প্রেমিকা খুন

24
মোস্তাফিজুর রহমান, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ= 
সন্তান ও স্বামী’কে রেখে ৪২ বছর বয়সী দিপালী দেবী সিংহ’র সাথে ২২ বছর বয়সী রিকন মিয়ার মোবাইলে মিস কলের সূত্র ধরে পরিচয়। এই পরিচয় থেকে প্রেম। দীর্ঘ ৩ বছর ধরে মোবাইলে কথা বলার পর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা। কিন্তু প্রেমিক রিকন মিয়ার সাথে জুটি বাঁধতে বাড়ি থেকে বের হয়ে খুনের শিকার হলেন দিপালী দেবী সিংহ।এমন নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের পুর্ব বেজগ্রাম এলাকায়। দিপালী দেবী সিংহ ওই এলাকার পরিমল দেব সিংহের স্ত্রী ও রিকন মিয়া হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জ উপজেলার জলশুকা দক্ষিন পাড়া গ্রামের হিরন মিয়ার পুত্র বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, দিপালী দেবী সিংহ’র সাথে রিকন মিয়ার মোবাইল ফোনের মিস কল থেকে ৩ বছর আগে পরকীয়া প্রেমের সূত্রপাত। গত ৯ জুলাই রিকন মিয়াকে বিয়ে করতে সন্তান ও স্বামী ছেড়ে দিপালী দেবী সিংহ তার স্বামীর ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়।পরে দিপালী দেবী ওই এলাকার আফজাল হোসেনের পুত্র রমজান আলী ও ধনর উদ্দিনের পুত্র নজরুল ইসলামের শরণাপন্ন হন। রমজান আলী ও নজরুল ইসলাম দুজনে দিপালী দেবীকে নিয়ে ওইদিন রাতে পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম হলদিবাড়ী এলাকার আবুল হোসেনের পুত্র ওসমান আলীর বাড়িতে আশ্রয় নেন।১৪ জুলাই রাতে ওসমান আলী ও ওই এলাকার মেছের আলীর পুত্র রবিউল ইসলাম দিপালী দেবীকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী জলঢাকার কথা বলে তিস্তা নদীর চরে নৌকাযোগে নিয়ে যায়। ওইদিন গভীর রাতে তারা দু’জনে টাকার লোভে দিপালী দেবী সিংহকে হত্যা করে বালুচরে পুঁতে রাখে।
এসময় দিপালী দেবী সিংহ’র ব্যাগে থাকা টাকা তারা ভাগাভাগি করে নেয়। ঘটনার পর দিপালীর ভাসুর বিমল চন্দ্র দেব সিংহ বাদী হয়ে হাতীবান্ধা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে রমজান আলী, নজরুল ইসলাম এবং ওসমান আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রার্প্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি আটক তিনজন’ই স্বীকার করেছেন।তিনি আরও জানান, গত ১৯ জুলাই লালমনিরহাট সদর উপজেলায় তিস্তা নদী থেকে যে নারী’র লাশ উদ্ধার করা হয়েছে; সেই লাশ’ই দিপালী দেবী সিংহ’র লাশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।