• ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:৫৭
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

অনিচ্ছাকৃত ভুলে বিপদে যুবলীগ কর্মী

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত আগস্ট ২৮, ২০২১, ১৯:১২ অপরাহ্ণ
অনিচ্ছাকৃত ভুলে বিপদে যুবলীগ কর্মী
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।। তাকে পাপ থেকে মুক্ত করো কান্নায় কান্নায়, এসেছে কান্নার দিন। কাঁদো বাঙ্গালি কাঁদো’- ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে শব্দ প্রয়োগে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুলের’ দায়ে বিপদে পড়েছেন এক যুবলীগ কর্মী। শুধু বিপদ নয়, সেটি বুঝতে পারা মাত্র পোস্টটিও ডিলিট করে দিয়েছেন। স্বীকার করেছেন নিজের ভুল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের করা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যেতে হয়েছে সরকার দলীয় এই কর্মীকে।
কারাগারে যাওয়া ওই যুবলীগ কর্মীর নাম সেলিম মিয়া। তিনি উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের খেতারচর গ্রামের মৃত আবুল হাসেম সরকারের ছেলে। তার বাবা প্রয়াত আবুল হাসেম সরকার দাঁতভাঙা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও প্রায় ১২ বছর ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।
জানা গেছে, সেলিম মিয়া জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টের একটি অংশে ‘তাকে পাপ থেকে মুক্ত করো কান্নায় কান্নায়’ বাক্যাংশে ‘তাকে পাপ থেকে মুক্ত করো’ শব্দগুচ্ছে বঙ্গবন্ধুকে ‘অবমাননা’ করা হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। পোস্টে এক মন্তব্যকারীর মন্তব্যের উত্তরে সেলিম মিয়া লেখেন, ‘জন্মের শিক্ষা হয়েছে মামা, পোস্টটি আমি নিজে করিনি। মোবাইল নিয়ে অন্য একজন করেছে, তারপরও আমি সরি’। এরপর সেলিম মিয়া নিজের ভুল বুঝতে পেরে পোস্টটি সরিয়ে নেন। এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য জাইদুল ইসলাম মিনু বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর ২৫ (ক) (খ)/ ৩১ ধারায় সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে রৌমারী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ বৃহস্পতিবার সেলিম মিয়াকে গ্রেফতার করে শুক্রবার কারাগারে প্রেরণ করে।
সেলিম মিয়ার দাবি, তিনি দোকানে মোবাইল রাখলে তার মোবাইল থেকে অন্য একজন পোস্টটি দেয়। বিষয়টি বোঝামাত্র ভুল স্বীকার করে পোস্টটি ডিলিট করেন। এরপরও তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পানি ঘোলা করার উদ্দেশে তাকে মামলায় ‘ফাঁসিয়েছে’।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দাঁতভাঙা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সেলিম মিয়া আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। ফেসবুকে তার পোস্টটি সে নিজে করেনি বলে আমাকে জানিয়েছিল। সেটা তার অনিচ্ছাকৃত ভুল। সে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে এবং পোস্টটি ডিলিট করেছে। তারপরও তার বিরুদ্ধে এভাবে মামলা করাটা সমীচীন হয়নি।’ সেলিম মিয়া যুবলীগের সক্রিয় কর্মী বলেও জানান তিনি।
অভিযুক্ত সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে জানতেন না দাবি করেছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, ‘সেলিম মিয়া আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান এবং যুবলীগের কর্মী। বিগত নির্বাচনে সে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে। আলোচিত পোস্টটি সে নিজে করেনি বলে দাবি করেছে এবং সেটা তার অনিচ্ছাকৃত ভুল। কিন্তু তার বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়ে আমার সাধারণ সম্পাদক আমার সঙ্গে কোনও পরামর্শ করেননি।’ এর বাইরে তিনি কোনও মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা ও গ্রেফতার ‘ষড়যন্ত্র’ বলে মনে করছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার ফলে তিনি চক্রান্তের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিনু। তিনি বলেন, ‘সেলিম মিয়া চক্রান্তের শিকার। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সেলিম মিয়া মামলার বাদী ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন।’
মামলার বাদী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য জাইদুল ইসলাম মিনু বলেন, ‘বিবাদী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংগঠনের প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে অশ্লীল, অশালীন, প্রোপাগান্ডামূলক কুরুচিপূর্ণ লেখনি, শব্দাবলীযুক্ত ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে মানহানিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করেছে। যা সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে আমার মনে হওয়ায় আমি বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছি।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সেলিম মিয়া যুবলীগের কোনও পর্যায়ের সদস্য নয়। আমার যুবলীগের ব্যানার ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করায় আমি থানায় মামলা করেছি।’
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোন্তাছের বিল্লাহ বলেন, ‘বাদীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযুক্তের মোবাইল ফোন জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

Sharing is caring!