• ১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১২:৩৮
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

আওয়ামীলীগের ৭০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উজ্জীবিত তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা

bmahedi
প্রকাশিত জুন ২৩, ২০১৯, ১৪:৫৯ অপরাহ্ণ
আওয়ামীলীগের ৭০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উজ্জীবিত তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা

ঢাকা ব্যুরো ।।

আজ ২৩ জুন সত্তর বছর পূর্ণ করে একাত্তর বছরে পা দিল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ৭০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে জমকালো, রঙিন ও আনন্দ-উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করছে দেশের ঐতিহ্যবাহী দলটি। মাসব্যাপী কর্মসূচি পালনে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে উজ্জীবিত দলের হাইকমান্ড থেকে তৃণমূল।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামী লীগের ইতিহাস, বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল অর্জন, সংগ্রাম ও ত্যাগের ইতিহাস। আন্দোলন সংগ্রাম আর ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে জড়িয়ে আছে দলটির নাম। এবার রাজপথের কর্মসূচিতে বা বিভিন্ন মাধ্যমের প্রচারণায় সেই ইতিহাসকে তুলে ধরতে নানা ব্যতিক্রমী আয়োজন থাকছে। এর মধ্যে দলের প্রতিষ্ঠাকালীন কার্যালয় রোজ গার্ডেনকে রঙিন করে সাজানো হয়েছে। রঙিন আলোর ঝলকানির মাধ্যমে রোজ গার্ডেনের আশপাশের এলাকাকে রাঙিয়ে তোলা হবে। শুধু রোজ গার্ডেনই নয়, রাজধানীজুড়ে বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রধান-প্রধান সড়কে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। নবাবপুর থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও রাজধানী জুড়ে ঐতিহ্যের আলোয় সজ্জ্বিত করা হয়েছে। রাজপথ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি, আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ পুরো রাজধানী বর্ণিল আলোতে সেজেছে। আলোকসজ্জায় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে নৌকার আকৃতি লাল আর সবুজ রঙকে। পুরো শহরটাই যেন হয়ে উঠেছে বিশাল এক লাল-সবুজের পতাকা। এছাড়া বিল বোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন স্থাপন করা হয়েছে। যাতে স্থান পেয়েছে আওয়ামী লীগের ইতিহাস, ঐতিহ্যসহ দলীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ড।

জাঁকজমকভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে পেরে উজ্জীবিত দলীয় নেতা-কর্মীরাও। কেন্দ্রের পাশাপাশি সমানতালে তৃণমূলেও এবারের আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে। এ বিষয়ে তৃণমূলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তূণমূলে পাঠানো ওই নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি জেলা-উপজেলা এবং ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত আলাদা কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবর্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে গুলশান থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হেদায়েতুল্লাহ বলেন, মাসব্যাপী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে প্রস্তুত আমরা। রোববার বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মধ্যদিয়ে আমাদের মাসব্যাপী কর্মসূচী শুরু হবে।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে দেশের মানুষ সামিল হবে আশাবাদ জানিয়ে ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল বলেন, আওয়ামী লীগ তিন তিনবার টানা ক্ষমতায় এসেছে। আমরা কোন উৎসব করিনি। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাই উৎসব করা হবে। দেশের মানুষ সেই উৎসবে সামিল হবেন। কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সা্ধারণ সম্পাদক আকাশ কুমার ভোমিক বলেন, আগামী বছর মুজিববর্ষ, তারপর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। সেই দুইটি উৎসব সফলভাবে আয়োজনের জন্য এবারের প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী হতে পারে ড্রেস রিহার্সেল।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে পিছিয়ে নাই বিভিন্ন সহযোহী ও অঙ্গ সংগঠনগুলো। কথা হয় বঙ্গবন্ধু জয়বাংলা লীগের সভাপতি আহসান উল্লাহ মনি ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাউল করীম চৌধুরী বাবুলের সঙ্গে। নেতৃদ্বয় বলেন, ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীজুড়ে বর্ণিল আলোকসজ্জা বিশ্বব্যাপী জানান দিচ্ছে, ইতিহাস ঐতিহ্য ও সাফাল্যের ধারক-বাহক আওয়ামী লীগ। আমরা আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে সত্যিই আজকে গর্ববোধ করছি।

উল্লেখ্য, পুরান ঢাকার ঋষিকেশ দাস লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’। পরে ১৯৫৫ সালে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে এর নাম করা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দলটির নাম দেওয়া হয় ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’। রোজ গার্ডেন থেকে দলীয় কার্যালয় কয়েকটি জায়গায় বদল হয়। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দলের সভাপতি হয়ে দেশে ফেরার পর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় করায় হয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। মাসব্যাপী কর্মসূচীর মধ্যে আছে আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, র‌্যালি, প্রচার ও পুঞ্জিকা প্রকাশ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ থাকছে শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময়। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এবারই প্রথম প্রতি জেলা থেকে দু’জন করে প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাকে সংবর্ধনা দেবে আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যেই দুইজন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতার নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Sharing is caring!