• ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৫৪
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

আজ ভারত বাংলাদেশ ম্যাচ জয়ের বিকল্প নেই

bmahedi
প্রকাশিত জুলাই ২, ২০১৯, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ণ
আজ ভারত বাংলাদেশ  ম্যাচ জয়ের বিকল্প নেই

বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট ম্যাচ মানেই  ভার্চুয়াল জগতে কী লঙ্কাকাণ্ড না ঘটায়। খেলা উপভোগের মাধ্যম। কিন্তু সেটিকে ঘিরে দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে কয়েক বছর ধরে ঘৃণার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে কেবল। আজ বার্মিংহামের এজবাস্টনে সমর্থকদের সামনে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল ও সমর্থকরা অবশ্য খুব চাপে থাকবে। ভারতকে এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের আট নম্বর ম্যাচটিতে হারাতে না পারলে যে সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্নের মৃত্যু ঘটে যাবে।

সাইবারের যুদ্ধ চলছে। হয়তো চলবে। কিন্তু ভারতের সমর্থকরা বুদ্ধি করে প্রথম সুযোগেই এই ম্যাচের সিংহভাগ টিকিট নিজেদের দখলে রেখেছে। গ্যালারিতে ব্যবধান ৮০-২০ হলে বাংলাদেশ দলের সমর্থকদের হুঙ্কার চাপা পড়ারই কথা। ইংল্যান্ডের মাটিতে তাই হোম গ্রাউন্ডে খেলার স্বাদ মিলবে বিরাট কোহলির ভারতের। কিন্তু তারাও কি চাপে থাকবে না?

এই যে সমর্থকদের মধ্যে ভিন্ন যুদ্ধ তার প্রভাবও তো গিয়ে পড়ে দলের ওপর। ২০০৪ সালে প্রথমবার ভারত যখন বাংলাদেশের কাছে হারে তখন নেটের এমন বহুল ব্যবহার ছিল না। ভারতের মিডিয়ায় তখনো সেই হার মানতে না চাওয়ার উদ্ধত প্রকাশ মিলেছে। ২০০৭ বিশ্বকাপে কিংবদন্তিদের নিয়ে বাংলাদেশের কাছে হারল ভারত। শেষে তো প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়। ভারতের বিদায় নিয়ে বারবার তখনকার উঠতি বাংলাদেশের নাম চলে আসে। এটা ওই যুগে ভারতীয়দের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন ছিল। ২০১১ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে হারানোটা প্রতিশোধ হিসেবে নিয়েছিল তারা। ২০১৫ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ায় যে জয়টা পেল তা আবার বাংলাদেশের সমর্থকদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। ওখান থেকে সাইবার যুদ্ধটা ছড়িয়ে পড়ে। এবং ২০১৫ সালেই বাংলাদেশে এসে যখন ‘ফিজ’ জাদুতে ভারত ২-১-এ তিন ম্যাচের  সিরিজ হেরে বসে তখন সবকিছু উল্টে পড়ার জোগাড়।

না, ওই সিরিজ হারের পরের তিন দেখায় একবারও হারেনি ভারত। ২৯-৫ ব্যবধানে তারা এগিয়েও। কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন বাংলাদেশ তখন বুঝি পাকিস্তানের বিপক্ষের ম্যাচের চেয়েও আজকাল সতর্ক তারা। ৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা সেমি থেকে এক জয়ের দূরত্বে। শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে তাদের লড়ে জিততে না চাওয়ার মানসিকতা আবার উসকে দিয়েছে বাংলাদেশি সন্দেহবাতিকগ্রস্ত সাইবার যোদ্ধাদের। এই ম্যাচের দিকে শ্যেনদৃষ্টি তাদের। যদিও বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফী সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘উত্তেজনা থাকা ভালো। কিন্তু সীমা লঙ্ঘন করা গ্রহণযোগ্য না।’

তিনটি দুর্ধর্ষ জয় এবং বৃষ্টির কারণে হারানো ১ পয়েন্টের যোগফলে ৭ বাংলাদেশের। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে বারবার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় এবং অন্যদের জয়-পরাজয়ে এখনো বাংলাদেশের আশা বেঁচে আছে। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে হারলে শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার প্রেরণাও হয়তো মিলবে না। কারণ, তখন সুপার ফোরে খেলার স্বপ্নের লাশ কাঁধে বয়ে নিয়ে মাঠে শেষের শুরু আজ নামতে হবে। সাকিব আল হাসানের ৪৭৬ রান ও ১০ উইকেট এই বিশ্বকাপের প্রবল বিস্ময়। একটি দলের অনেক দুর্বলতা একজন মানুষের ব্যাট ও বলে কতবার না ঢাকা পড়ছে। কিন্তু এমন প্রবল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ দিয়ে কি চলবে? বাংলাদেশের ওপেনিং পার্টনারশিপ বড় করার এবং ওপেনারদের বড় ইনিংস খেলার স্লোগান উঠেছে। মুশফিকুর রহিম দারুণ ফর্মে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আফগানদের হারানো ম্যাচে খেলা গ্ল্যাডিয়েটর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ জানিয়েছেন, চোট থেকে ফিরতে ১২০ ভাগ চেষ্টা করেছেন। না খেলতে পারার কোনো কারণ নেই। খেলতে না পারলে সেটা দুর্ভাগ্য।

বাংলাদেশের ব্যাটিং অসাধারণ। মজার ব্যাপার, এই বিশ্বকাপে তিন সেঞ্চুরি করা রোহিত শর্মা, টানা ৫ ফিফটি করা কোহলিদের ব্যাটিং মাঝপথে এসে সংশয় জাগাচ্ছে। বিশেষ করে শিখর ধাওয়ান ইনজুরিতে বিদায় নেওয়ার পর। লোকেশ রাহুল ফর্মে নেই। তাকে বাদ দিয়ে শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি ফাইনালে অবিশ্বাস্য জয় আনা দিনেশ কার্তিককে ফেরানোর কথা শোনা যাচ্ছিল। কারণ, রোহিত-কোহলি-এমএস ধোনির সঙ্গে হার্দিক পান্ডিয়ার সামান্য সময়ের তাণ্ডব হচ্ছে এখনকার ভারতের ব্যাটিং যোগফল। ওপরের দিকে দ্রুত পতন হলে নিচের দিকের সামর্থ্যরে দেখা মিলছে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বেঁচে গেলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজয় দিয়ে সেটা প্রমাণ করেছে ভারতের বোলিং। তাদের দুর্ধর্ষ বোলিং বড় ভরসা।

বাংলাদেশের ওই বোলিংয়ে যত সমস্যা। নতুন বলে মাশরাফী খুব কার্যকর হতে পারছেন না এই বিশ্বকাপে। মোস্তাফিজুর রহমান কিংবা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও না। উইকেট আসছে না। এই ফাঁকে প্রতিপক্ষের প্রথম দিকের ব্যাটসম্যানরা বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিচ্ছেন। ভারতকে সেই সুযোগ দিলে স্রেফ খুন হয়ে যেতে হবে। মাঝের বিশ্রামে কোচ কোর্টনি ওয়ালশ কাজ করেছেন। কিন্তু এই সামান্য ক’দিনে কি খুব পাল্টায় কিছু? পাল্টাবে কি ফিল্ডিংয়ে অধারাবাহিকতা?

 

Sharing is caring!