• ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:৩৩
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

আ’লীগে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নেই : কাদের”

bmahedi
প্রকাশিত নভেম্বর ২৮, ২০১৯, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ণ
রোকনুজ্জামান রিপন :=

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা ঘরের মধ্যে থেকে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। হলি আর্টিজান মামলা, নুসরাত হত্যা মামলার রায় হয়েছে। আবরার হত্যা মামলার আসামিরা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হলেও তাদের ছাড় দেননি। যারা অপরাধ করছে তাদেরই বিচার হবে। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগে কোনো চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, মাদক কারবারির ঠাঁই নেই। জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজের ঘরকে শাস্তি দিয়ে পরকে শেখানোর পলিসি নিয়েছেন।বুধবার যশোর ঈদগাহে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ওবায়দুল কাদের ওপরোক্ত কথা বলেন। সম্মেলন উপলক্ষে বুধবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীর জমায়েত হয় যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে। সকাল ১০টার মধ্যে ঈদগাহ কাণায় কাণায় পূর্ণ হয়ে যায়। নেতাকর্মীদের মুহুর্মুহু স্লোগানে এক উৎসবমুখর পবিবেশের সৃষ্টি হয় সম্মেলনস্থলে। বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চলা সম্মেলন ছিল খুবই শান্তিপূর্ণ। সড়কমন্ত্রী বৃহত্তর যশোরের প্রয়াত নেতাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, যশোরে আওয়ামী লীগকে বিকশিত করতে অনেক নেতাকর্মীর ত্যাগ, রক্ত আর পরিশ্রম রয়েছে। যাঁরা মারা গেছেন তাদের খোঁজখবর নেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নেতাকর্মীদের বলবো যারা মারা গেছেন তাদের পরিবারের খোঁজ খবর নেবেন। যারা অসুস্থ তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। সাধারণ কর্মীদের জন্যে নেত্রীর দরজা সব সময় খোলা। অসহায় ও অসুস্থ নেতাকর্মীদের তার কাছে পৌঁছে দিন। প্রয়োজনে তিনি বিদেশে পাঠিয়ে অসুস্থদের চিকিৎসা করাবেন।’বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, হলি আর্টিজান হামলা মামলার রায়ের মাধ্যমে আরও একবার প্রমাণ হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারে থাকলে দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকে। এই রায়ে জনজীবনে স্বস্তি এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা বেড়েছে। অন্যদিকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের পৃষ্টপোষকদের প্রতি এই রায় এক অশনি সংকেত। এটি আমাদের ভবিষ্যতকে নিরাপদ ও শান্তিময় রাখতে এবং স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা কায়েমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অনেক নেতার ভাগ্য খুলেছে। আবার অনেক নেতাকর্মীর কুড়ে ঘরে পানি পড়া বন্ধ হয়নি। মেয়ের বিয়ে দিতে পারছে না। সন্তানের লেখাপড়ার টাকাও জোগাড় করতে পারছে না অনেক কর্মী। নেতাদের বলবো তাদের পাশে দাঁড়াবেন। সহযোগিতা করবেন। মনে রাখবেন, আপনি তাদের খবর না রাখলে একদিন এমন সময় আসবে যখন আপনার প্রয়োজনে তারা আপনার খবর রাখবে না।’ ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘অনেক ত্যাগের পর যে সংগঠন গড়ে উঠেছে নিজেদের কোন্দলের জন্যে সেই দলের ক্ষতি করবেন না।’দলে সুবিধাবাদিদের না ভেড়ানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনুরোধ করি দলে সুবিধাবাদি, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, জঙ্গিবাজদের ভেড়াবেন না। শেখ হাসিনার দলে এসব লোকের দরকার নেই। শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। গোয়েন্দারা কাজ শুরু করেছে। তারা আপনার পাশেও আছে। আপনার সকল কাজ সম্পর্কে তারা তথ্য নিচ্ছে। যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা হবে। অভিযান রাজধানী থেকে শুরু হয়েছে। সেটা অচিরেই উপজেলায় পরিচালিত হবে।’আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আপনারা কমিটি করবেন-কিন্তু, পকেট কমিটি করবেন না। ত্যাগী-পরিশ্রমিদের কমিটিতে আনবেন। সুবিধাবাদিদের নিয়ে ট্রাফিকজ্যাম করাবেন না। ঘরের মধ্যে ঘর, মশারির মধ্যে মশারি টানাবেন না। মনে রাখবেন মৌসুমি পাখিরা মৌসুমে আসে আবার ফিরে যায়। দুর্দিনে মৌসুমি নেতারা হিমালয় কৈলাশ পর্বতে পালিয়ে যাবে। মিছিলে খুঁজে পাবেন না। পাঁচ হাজার ওয়াটের বাতি জ্বালিয়েও এদেরকে খুঁজে পাবেন না। ফলে তাদের ওভাবে মূল্যায়ন করবেন না। মৌসুমি পাখিদের ব্যাপারে সাবধান থাকুন, সতর্ক থাকুন।’তিনি বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা এখন বিশ্বের ১০ প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়কের একজন, দু’জন সেরা প্রধানমন্ত্রীর একজন। গত ৪৪ বছরে সবচেয়ে সৎ রাজনীতিক, দক্ষ শাসক, সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী তিনি। তার কর্মী হয়ে আমরা কোনো অপকর্ম করতে পারি না। কেননা, আমাদের একটা আচরণের আবরণে ১০টি উন্নয়নের কাজ ঢেকে যাবে।’সকাল ১০টায় সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে। এর আগে স্থানীয় নেতারা বক্তৃতা করেন। সম্মেলনের শুরুতে জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এসময় যশোরের সকল ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও অতিথিদের সাথে ছিলেন। এরপর বেলুন ওড়ান অতিথিবৃন্দ। যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে সম্মেলনের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম হানিফ এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, বঙ্গবন্ধুর ভাই আবু নাসেরের পৌত্র শেখ তন্ময় এমপি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল হোসেন, পারভীন জামাল কল্পনা, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি, ইসমাত আরা সাদেক এমপি, কাজী নাবিল আহমেদ এমপি, শেখ আফিল উদ্দিন এমপি, বাবু রণজিৎ রায় এমপি, মেজর জেনারেল (অব.) ডা. অধ্যাপক নাসির উদ্দিন এমপি এবং যশোর জেলা সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার।বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে জাতীয় সঙ্গীতের তালে তালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর ১১টা ৫২ মিনিটে বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। এসময় সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। সম্মেলনে প্রয়াত নেতাকর্মীদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করার পর সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন পেশ করেন শাহিন চাকলাদার।

Sharing is caring!