• ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ১২:১০
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

ইইউ নেতাদের তোপের মুখে ট্রাম্প

bmahedi
প্রকাশিত আগস্ট ২৬, ২০১৯, ১৮:১১ অপরাহ্ণ
আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান ।। 

বাণিজ্য হুমকি নিয়ে ইইউ নেতাদের তোপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের শিল্পোন্নত আটটি দেশের গ্রুপ জি-৭-এর সম্মেলনে গতকাল ট্রাম্প এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েন বলে জানিয়েছে এএফপি। এবারের জি-৭ সম্মেলনে বাণিজ্যযুদ্ধ, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আমাজনের আগুন ইস্যু বিশেষ জায়গা পায়।

চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে। এমন অবস্থায় গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপের হুমকি দেন। শুধু এই হুমকিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি, ফ্রান্সকেও হুমকি দেন। ফ্রান্স সরকার তার নতুন ডিজিটাল কর বাতিল না করলে ফরাসি ওয়াইনের ওপর শুল্কারোপ করা হবে, এমন হুমকি দেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের বাণিজ্য হুমকি নিয়ে সঠিক সময়ে সদুত্তর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক। এবারের জি-৭ সম্মেলনের আয়োজন দেশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও চীনের সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বরিস জনসন বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। এই যুদ্ধে যুক্তরাজ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এগিয়ে যাওয়ার এটা কোনো উপায় হতে পারে না। আমি চাই ক্রমে উত্তেজনা কমুক।’ সম্মেলনের শুরুতেই যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক পশ্চিমা নেতৃত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্ক ঠিক রাখার এটাই সম্ভবত শেষ মুহূর্ত। পৃথিবীর আমাদের সহায়তার দরকার আছে।’

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তার গোপনাস্ত্র প্রয়োগ করেন। ফরাসি বিশেষ খাবার পরিবেশন করে তিনি ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উত্তপ্ত আবস্থার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি ট্রাম্পকে ‘বিশেষ অতিথি’ হিসেবে আখ্যা দেন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে।

সম্মেলনের শুরুতে ট্রাম্প বলেন, ‘এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক চলছে। আবহাওয়াও বেশ ভালো। সবাই যার যার জায়গায় আছেন। আমার মনে হয় এখান থেকে আমরা অনেক কিছু অর্জন করব।’ এ সময় তিনি ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বিশেষ বন্ধুত্বের কথা বলেন। জি-৭ নেতারা এবারের সম্মেলনে বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্যযুদ্ধ ছাড়াও ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া মহাবন আমাজনের আগুন নেভানো ও বন উজাড় প্রসঙ্গে ব্রাজিলের কট্টর-ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোকে চাপ প্রয়োগ করা হবে, এমনটা জানান সম্মেলনসংশ্লিষ্টরা।

গত শনিবার সম্মেলনস্থলের বাইরে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভে মানবাধিকারকর্মী থেকে শুরু করে পরিবেশবাদীরাও অংশ নেন। আর এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ঠেকাতে ফ্রান্স সরকার ১৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন করে। পুরো এলাকাজুড়ে বিক্ষোভকারীদের লাল, সাদা ও সবুজ পতাকা হাতে পুঁজিবাদবিরোধী সেøাগান দিতে দেখা যায়। ফ্রান্সের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দেশটির ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারীদের দূরে রাখা। কিন্তু এএফপি জানায়, বিক্ষোভে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

Sharing is caring!