• ৬ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:৫২
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

ইউপি নির্বাচন : প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা, বেড়েছে ভোটারদের কদর

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত নভেম্বর ২, ২০২১, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
ইউপি নির্বাচন : প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা, বেড়েছে ভোটারদের কদর

মুরাদ হাসান, রূপগঞ্জ ।।

র ক’দিন বাদেই ভোট। প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে। দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। জনগনের মাঝেও নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। এরই মাঝে দু’এক স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায় সাধারণ ভোটাররা আতঙ্কেও রয়েছেন।  সবমিলিয়ে চলছে প্রচার প্রচারণা। চায়ের দোকানগুলোতে ভড়ি বেড়েছে। ভোটারদেরও কদর বেড়েছে। প্রর্থীরা ভোটারদেও খোঁজ খবর নিচ্ছেন। কুশলাদি বিনিময় করছেন। এটা ওটা করে দিবেন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে।
স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত গোটা এলাকা। মাইকের আওয়াজে কান জ¦ালাপালা। উচ্চ শব্দে মাইক বাজানোর কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীদেও লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে। নির্বাচনী ক্যাম্পগুলো আজান নামাজও মানছে না। উচ্চস্বরে বিভিন্ন স্লোগানসহ প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীদের সমর্থখরা।
কথা হয় এসএসসি পরীক্ষার্থী ছাদিয়া আক্তারের সাথে। তিনি বলেন, সারাদিন যেমন তেমন সন্ধ্যা হলে নির্বাচনী মাইকগুলো যেন একসঙ্গে উচ্চস্বরে বাঁজাতে শুরু করে। পড়ালেখায় মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। একজন অভিভাবক বলেন, কি আর করব? এভাবেই চলতে হবে। দরজা জানালা বন্ধ করে, কানে তুলা দিয়ে লেখা পড়া করতে হয়। মাইক বন্ধ বা কম শব্দে বাজাতে বললে আরো বেশি শব্দ কওে বাজায়।
আগামী ১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন পরিষদে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা। দিনরাত অবিরাম ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থীরা। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতির বাণী। নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলা জুড়ে ভোটারদের মধ্যে বইছে উৎসাহ-উদ্দীপনাও। মাঝে মধ্যেই প্রার্থীদেও সমর্থকদেও মধ্যে সংঘর্ষেও ঘটনাও ঘটছে। তাই আছে শঙ্কা ভয়ও।
কায়েতপাড়ায় ভোটের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে নাম প্রকার না করার শর্তে একজন ভোটার বলেন, “কাকে ভোট দিমু কন, একজন রেজিস্ট্রি বন্ধ কওে দেয়। আরেকজন জমি না কিনে বালু ভরাট করে ফেলে। আমাদেও মত জনগনের সবদিকেই বিপদ”। আরেকজন ভোটর বলেন, এখন ভোট দেয়া লাগে না। এমনি চেয়ারম্যান, মেম্বার হয়ে যায়।
৩ টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভুলতা , গোলাকান্দাইল ও মুড়াপাড়ায় নির্বাচনী আমেজ নেই বললেই চলে। তাছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে বেশ কিছু মেম্বারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। কায়েতপাড়ায় তিন হেভী ওয়েট প্রার্থী লড়ছেন এবার। সবার দৃষ্টি এখন কায়েতপাড়ায় দিকে। প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি ক্ষমতার দাপট আর পেশি শক্তি দেখাতেই ব্যস্ত সবাই। গোপা রূপগঞ্জের দৃষ্টিই এখন কায়েতপাড়ার দিকে।
সরেজমিনে উপজেলার ভুলতা , গোলাকান্দাইল, মুড়াপাড়া, ভোলাব ও কায়েতপাড়া  ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থান পোস্টারে ছেয়ে গেছে। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বাজছে নির্বাচনী নানান সঙ্গীতও। প্রার্থীরা ভোটের জন্য ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরই মাঠে নেমেছেন রূপগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থীরা। আগামী ১১ নভেম্বর এই উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।
কায়েতপাড়ায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা প্রার্থীরা নির্ঘুম রাত কাটালেও জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে চশমা প্রতীক নিয়ে গোলজার হোসেন এগিয়ে রয়েছেন বলে ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে। চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলজার হোসেন বলেন,‘আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরে যেমন ইউনিয়নবাসীর পাশে ছিলাম। এখনও আছি, ভবিষ্যতেও থাকব, ইনশায়াল্লা।
সুখে-দুঃখে, আপদে-বিপদে এলাকার জনগন সবসময় আমাকে পাশে পেয়েছে। এলাকার উন্নয়ণ আমার দ্বারা যতটুকু সম্ভব আমি করেছি। এই নির্বাচনেও যদি এলাকার মানুষ আমাকে নির্বাচিত করে তবে আমি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পারবো। এছাড়াও আমি ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামে একটি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাআল্লাহ।
আয়শা আক্তার নামে একজন ভোটার বলেন, যে প্রার্থী আমাদের গ্যাস দিবে, তারেই ভোট দিমু। ময়লার জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে দিলেই ভোট দিমু। নুরজাহান বেগম নামে আরেকজন ভোটার বলেন, এলাকার কাজ করব, মানুষের উপকার করব, মাদকমুক্ত সমাজ যে প্রার্থী গড়তে পারব তেমন প্রার্থীকেই এবার ভোট দিমু।
স্বতন্ত্রপ্রার্থী মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি নির্বাচনে বিজয়ী হলে আমার বড় ভাই বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক ভাইয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পূর্ণ করব। কায়েতপাড়াকে একটি মডেল ইউনিয়ন বানাব।
আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী জাহেদ আলী বলেন, আমি কায়েতপাড়া বাসীর সাথে বিপদে আপদে সব সময় ছিলাম, আছি এবং থাকব। আমি নির্বাচিত হলে কায়েতপাড়ায় গ্যাসের ব্যবস্থা করে দিব। পয়োঃনিষ্কাশনের ড্রেনেজ করে দিব।
ভোলাবতে বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্রপ্রার্থী আলমগীর হোসেন টিটু ও  সরকারদলীয় প্রার্থী তায়ুবুর রহমান নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচন নিয়ে বর্তমান ও আওয়ামী প্রার্থী এ দুই চেয়ারম্যানের ব্যস্ততা বেশি। ভোট আদায় করতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন তারা। ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বর্তমানে চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটুরু ফিল্ড ভালো রয়েছে।
আলাপ করলে তিনি বলেন,আমি বিগত সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করেছি আমার ইউনিয়নে। সব সময় মানুষের পাশে ছিলাম। এখনো আছি। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নসহ ইউনিয়নবাসীর সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকবো।’
উপজেলা নির্বাচন অফিসার মাহবুবুর রহমান বলেন, সব প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। নির্বাচন সুষ্ট, অবাধ হবে। আমাদের প্রশাসন মাঠে রয়েছে। আশা করছি একটি সুষ্ঠ, সুন্দও, অবাধ নির্বাচন উপহার দিব।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুশরাত জাহান বলেন, দু’একটি স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। টহল জোড়দার করা হয়েছে। সহকারী কমিশনার ভূমি আতিকুল ইসলামে নেতৃত্বে আমাদের মোবাইল টিম মাঠে রয়েছে।

 বার্তাকণ্ঠ/এন

Sharing is caring!