• ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:০৮
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

ইরানি গল্প কুঁজো দাউদ

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত জুলাই ২৫, ২০২১, ১৭:৪০ অপরাহ্ণ
ইরানি গল্প কুঁজো দাউদ

বার্তাকণ্ঠ ডেস্ক ।।

আধুনিক পারস্য সাহিত্যের দিকপাল সাদেক হেদায়েতের জন্ম ১৯০৩ সালে তেহরানে। উচ্চ শিক্ষার জন্য ১৯২০ সালে ফ্রান্সে যান। পরবর্তীকালে বেশ কয়েক বছর বোম্বেতেও কাটান। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বহু মূল্যবান ভাবনার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে আধুনিক পারস্য সাহিত্যকে তিনি সমৃদ্ধশালী করে তোলেন। গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনী, নাটক, সাহিত্য সমালোচনা ও অনুবাদ নিয়ে তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা যে সুপ্রাচুর্য তা কিন্তু নয় একেবারে, তবুও সাধারণ মানুষের দুঃখ- বেদনা এবং ভাষার অনন্যতায় তাঁর ছোট গল্পগুলো আজও নিঃসন্দেহে বৈশিষ্ট্যের দাবি রাখে। ১৯৫১ সালে মাত্র আটচল্লিশ বছর বয়সে অকৃতদার চিরবিষণ্ণ এই মানুষটি আত্মহত্যা করেন শহর ‘পারি’তে। ‘অন্ধ পেঁচা’ ১৯৩৬ তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস এবং ‘জীবন্মৃত’ ১৯৩০, ‘তিন ফোঁটা খুন’ ১৯৩২ এবং ‘হারানো কুকুর’ ১৯৪৩ তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পসংকলন। 

‘না না, এ ধরনের কাজ আমি আর কখনো করবো না। আসলে আমাকে আশা করাটাই ছেড়ে দিতে হবে! অন্যকে যেটা আনন্দ দেয়, আমার জন্মে সেটা দুঃখ-কষ্ট ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনে না। নাহ, সত্যিই আমি আর কখনো…’ নিজের মনেই বলতে বলতে দাউদ হাতের হলদে ছড়িটা বার বার মাটিতে গাঁথছিল। রীতিমতো কষ্ট করে সে হেঁটে চলেছে, যেন দেহের ভারসাম্য বজায় রাখতে তার খুবই অসুবিধে হচ্ছে। শীর্ণ দুটি কাঁধের মাঝখান থেকে বিরাট মাথাটা ঝুঁকে এসেছে সামনের দিকে ঠেলে বেরিয়ে আসা উঁচু বুকটার ওপর। সারা মুখে বিতৃষ্ণায় ভরা নিস্তেজ একটা অভিব্যক্তি- পাতলা ঠোঁট দুটি সুসংলগ্ন, সংকীর্ণ একজোড়া, বাঁকানো ভ্রু, চোখের পাতা দুটি আনত, ফ্যাকাশে চামড়ার নিচে স্পষ্ট হয়ে ওঠা চোয়ালের হাড়; কিন্তু কুঁজো পিঠের ওপর রেশমি কামিজ, মাথায় উঁচু টুপি, অদ্ভুত রকমের গাম্ভীর্য আর স্থির সংকল্প নিয়ে সে যেভাবে ছড়িখানা মাটিতে গাঁথছে- দূর থেকে দেখলে তাকে হাস্যকর কোনো বস্তুর মতোই মনে হয়।

শহর থেকে আসা রাজপথের ওপর পহলবী এভিনিউ থেকে বাঁক নিয়ে সে দৌলৎ ফটকের দিকে এগিয়ে চলেছে। সূর্য প্রায় অস্তগামী। তখনো বেশ গরম রয়েছে। তার বাঁ দিকে সারি সারি পাকা দেয়াল, সূর্যাস্তের ভঙ্গুর আভা জড়ানো ইটের থামগুলো নিঃশব্দে আকাশের দিকে মুখ উঁচিয়ে রয়েছে। ডানদিকে, সাম্প্রতিক জলে ভরিয়ে তোলা গড়টার ধার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রয়েছে ছাড়া ছাড়া কয়েকটা অসমাপ্ত বাড়ি। তুলনামূলক ভাবে জায়গাটাকে নির্জনই বলা চলে, শুধু মাঝে মধ্যে দু-একটা মোটর বা ঘোড়ায়-টানা গাড়ি- রাস্তার দু’ধারেই নতুন করে বসানো উৎসধারার সঙ্গে সংযোগকারী নলের সাহায্যে জল ছিটানো সত্ত্বেও ছোট ছোট ধুলোর মেঘ উড়িয়ে চলে যাচ্ছে।

নিজেরই ভাবনার মধ্যে মগ্ন হয়ে দাউদ হেঁটে চলেছে। ছোটবেলা থেকে সে বরাবরই হাসি অথবা করুণার বস্তু। তার মনে পড়লো একবার ইতিহাস পড়ানোর সময় মাস্টারমশাই যখন বলেছিলেন, স্পার্টানরা তাদের বিকলাঙ্গ বা রুগ্ন শিশুদের মেরে ফেলতো, ক্লাসের সমস্ত ছেলেমেয়ে তখন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তার দিকে ফিরে তাকিয়ে ছিল। সেদিন নিজেকে তার ভীষণ নিঃসঙ্গ আর রিক্ত মনে হয়েছিল; কিন্তু এখন মনে হয় সারা পৃথিবীজুড়েই এই আইন চালু করা উচিত, অন্তত আর কিছু না হোক, বিকৃতদের বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেওয়া উচিত। সে ভালো করেই জানে তার থ্যাবড়া মুখ, ঠেলে বেরিয়ে আসা চিবুক, গর্তে ঢোকা চোখ, হা হয়ে থাকা মুখ- তার যা কিছু বিকৃতি, সে সবই পেয়েছে বাবার কাছ থেকে। মৃত্যুশয্যায় বাবার চেহারাটা তার চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠল। বেশি বয়েসে উপদংশ রোগাক্রান্ত অবস্থাতেই বাবা বিয়ে করেছিলেন। ফলে তাঁর সব ছেলে- মেয়েরাই জন্মেছিল হয় অন্ধ নয়তো বিকলাঙ্গ অবস্থাতে। দু’বছর আগে মারা যাওয়া তার এক ভাই ছিল মূক এবং জড়। হয়তো তারা ভাগ্যবানই ছিল।

কিন্তু মানবিক যা কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে, এ পৃথিবী আর নিজের সম্পর্কে অসুখী একটা ধারণা নিয়ে সে-ই কেবল টিকে গেছে। বলতে গেলে এক রকম নিঃসঙ্গতার মধ্যেই সে বড় হয়ে উঠেছে। স্কুলে সে কখনো খেলাধুলোয় অংশ নিতে পারেনি, অথচ হাসি-ঠাট্টা, দৌড় প্রতিযোগিতা, বল খেলা, ব্যাঙ -লাফানো প্রভৃতি আরও অনেক খেলা তার সমবয়েসীদের খুশিতে উদ্বেল করে তুলত। প্রতিযোগিতার সময় সে স্কুল-প্রাঙ্গণের এক কোণে বই মুখে দিয়ে চুপটি করে বসে থাকত আর চোরা চোখে ছেলেমেয়েদের লক্ষ্য করত। সাধারণত সে অসম্ভব খেটে পড়া- শোনা করত যাতে অন্তত অন্যদের চেয়ে ভালো ফল পেতে পারে। দিনরাতই সে খাটত। শুধু এই কারণে দু-একজন অলস সহপাঠী তার সঙ্গে ভাব জমাবার চেষ্টা করত যদি তার খাতা থেকে প্রশ্নের জবাবগুলো টুকে নেওয়া যায়। কিন্তু সে ভালো করেই জানত এই বন্ধুত্বের স্থায়িত্বকাল নির্ভর করত শুধু যতটুকু আদায় করে নেওয়া যায় তার ওপরেই। সে হিংসে করত হাসান খাঁকে, যাকে দেখতে খুব সুন্দর আর সব সময় বেশ ভালো ভালো পোশাক পরত। অধিকাংশ ছেলেমেয়েরা তার সঙ্গেই বন্ধুত্ব পাতাবার চেষ্টা করত। শুধু দু-একজন শিক্ষকই যা তার প্রতি সদয় ব্যবহার করতেন; কিন্তু সেটা তার পড়াশোনার জন্য নয়, বরং বলা যায় তার প্রতি করুণা করেই। শেষ পর্যন্ত, তীব্র মানসিক দ্বন্দ্ব আর হতাশায় লেখাপড়াটাও সে শেষ করতে পারেনি।

এখন সে সম্পূর্ণই নিঃস্ব। সবাই তাকে এড়িয়ে চলে। পুরনো বন্ধুরা তার সঙ্গে হাটতে লজ্জা পায়। ‘এই, দ্যাখ দ্যাখ, কুঁজোটাকে দ্যাখ!’ মেয়েদের এই ধরনের মন্তব্যই তাকে সব চাইতে বেশি দমিয়ে দেয়। কয়েক বছর আগে সে বার দুয়েক বিয়ের কথা ভেবেছিল, দুবারেই তাকে বিদ্রুপ সহ্য করতে হয়েছে। মেয়ে দুটির মধ্যে একটির নাম জিবাদী, ফিসারাবাদের খুব কাছাকাছিই থাকত। পরস্পরের বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে, এমন কি মেয়েটা তার সঙ্গে কথাও বলেছে। কোন কোন দিন সন্ধ্যেবেলায় স্কুল থেকে ফেরার পথে সে মেয়েটাকে দেখতে যেত। যে জিনিসটা তার আজও স্পষ্ট মনে পড়ে- মেয়েটার ঠোঁটের কোণে একটা তিল আছে। পরে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে নিজের চাচিকে যখন মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়েছিল, জিবাদি তাচ্ছিল্যের সুরে বলেছিল- ‘কেন, দেশে কি ছেলের এতই অভাব যে, হতকুচ্ছিত একটা কুঁজোকে বিয়ে করতে হবে?’ এতে ওর বাবা-মা ওকে খুবই গঞ্জনা দিয়েছিল, তবু ও কিছুতেই বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়নি। দাউদ কিন্তু মেয়েটাকে এখনও ভালোবাসে। যৌবনের সেই অনন্য স্মৃতিটাকে সে আজও আগলে রেখেছে বুকের মধ্যে।

জেনে কিংবা না জেনে পুরনো সেই স্মৃতির মোহে সে প্রায়ই ফিসারাবাদের আশেপাশে ঘুরত। সবকিছুর ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে সাধারণত সে একাই ঘুরতে বেরুত, যতটা সম্ভব ভিড় এড়িয়ে চেলার চেষ্টা করত। পথে যখনই কেউ হাসত কিংবা অন্যের কানে ফিসফিসিয়ে কিছু বলত, সে ভাবত ওরা বুঝি তাকে নিয়েই মজা করছে। জল্লাদের সামনে বলির পাঁঠার মতো অত্যন্ত করুণ ভাবে ঘাড় ঘুরিয়ে সে শুধু একবার অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকাত, তারপর ধীরে ধীরে হেঁটে যেত। হাঁটতে হাঁটতেই পথচারীদের সম্পর্কে তার চেতনা তীক্ষè হয়ে উঠত, তার সম্পর্কে ওরা কি ভাবছে কল্পনা করে নিতেই টান টান হয়ে উঠত মুখের মাংসপেশি।

গড়টার পাশ দিয়ে দাউদ মন্থর পায়ে হেঁটে চলেছে আর ছড়ির প্রান্ত দিয়ে জলের ওপর আঘাত করছে। তার ভাবনাগুলো এলোমেলো আর তীব্র উত্তেজনায় ভরা। সে দেখল পাথরে পা ছড়িয়ে শব্দ করে লোমশ একটা কুকুর তার দিকে মুখ তুলে তাকাল। রোগগ্রস্ত মুমূর্ষু প্রাণীটার নড়ার ক্ষমতা নেই, কেননা পরক্ষণেই ওর মাথাটা এলিয়ে পড়ল মাটিতে।

ব্যথাহত কুকুরকে দেখে দাউদ ঝুঁকে দাঁড়ালো। জ্যোৎস্নালোকে কুকুরটা একবার চোখ মেলে তাকাল। দাউদের মনে হলো জীবনে এই প্রথম সে যেন কোনো নিষ্পাপ, সরল দৃষ্টির দেখা পেল। ভাগ্য ওদের দু’জনকেই ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে, আবর্জনার মতোই ওরা পরিত্যক্ত, নিজেদের কোনো ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও ওরা সমাজ থেকে বিচ্যুত। তার ইচ্ছে হল পাশে বসে, শহরতলির এই প্রান্তে লুকাবে বলে নিজের দুঃখ-কষ্টকে যে এত দূর পর্যন্ত টেনে এনেছে, সেই কুকুরটাকে নিবিড় আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরে, ওর নরম বুকে মাথা রাখে।

পরক্ষণেই তার মনে হলো পথ চলতে গিয়ে কেউ যদি দেখে ফেলে, ওরা তখন তাকে আরও বেশি বিদ্রুপ করবে। ইউসুফাবাদ তোরণের মধ্যে দিয়ে আসার সময় সূর্যাস্ত ছিল, এখন ভারি সুন্দর আর নিটোল একটা চাঁদ উঠছে আকাশের কোলে। তারই উজ্জ্বল আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে অসমাপ্ত বাড়ি, এলোমেলো ইটের স্তূপ, গাছ আর ছাদে ঘেরা শহরটার ছায়াচ্ছন্ন বীথি, দূরের আরক্তিম পাহাড়ি চূড়াগুলো। তার চোখের সামনে যেন মেলে ধরেছে আবছা ধূসর একটা অবগুণ্ঠন। আশেপাশে জনপ্রাণীর কোনো চিহ্ন নেই। দূরে গড়টার ওপার থেকে ভেসে আসছে কার যেন চাপা গলায় গাওয়া একটা গানের সুর।

দুঃখ-বেদনায় এমনই আপ্লুত, এত ক্লান্ত যে দাউদ কিছুতেই মাথাটাকে উঁচু করে রাখতে পারছে না, চোখ দুটি টনটন করছে, মাথার ভারে মনে হচ্ছে দেহটা বুঝি নুয়ে পড়বে। ছড়ির ওপর ভর রেখে সে নর্দমা পেরিয়ে অন্য পারে গেল। কোনো কিছু না ভেবে পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সে গিয়ে বসলো রাস্তার এক ধারে। আর ঠিক তখনই সে হঠাৎ বুঝতে পারল খুব কাছেই বসে রয়েছে একটা মেয়ে, মুখখানা ওড়নায় ঢাকা। চকিতে দ্রুত হয়ে উঠল ধমনির প্রতিটা রক্তস্রোত।

এতটুকু ভূমিকা না করে মেয়েটা তার দিকে ফিরে হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করল, ‘কি ব্যাপার হোসাঙ, এতক্ষণ কোথায় ছিলে বলো তো?’

মেয়েটার স্বাভাবিক কণ্ঠস্বরে দাউদ অবাক হয়ে গেল। এটা কেমন করে সম্ভব যে তাকে দেখেও মেয়েটা সঙ্কোচে সরে গেল না! তার মনে হল পৃথিবীটাকে যেন তার পায়ের কাছে উজাড় করে দেওয়া হয়েছে- মেয়েটা তার সঙ্গে কথা বলতে চাইছে; কিন্তু এত রাত্তিরে মেয়েটা এখানে কি করছে? হয়তো ভ্রষ্টা। হয়তো প্রেমিকের খোঁজে এসেছে। তবু, সমস্ত শক্তি সঞ্চয় করে দাউদ মনে মনে ভাবল, ‘যাই হোক না কেন, অন্তত কথা বলার মতো তো কাউকে খুঁজে পেয়েছি। হয়তো ও আমাকে দু-দ- শান্তি দিতে পারবে।’

তাই আবেগ ভরা গলায় সে বলল, ‘আমার মতো তুমিও কি একা? আমি বরাবরই একা। আমার সারাটা জীবনই কেটেছে নিঃসঙ্গতার মধ্যে।’

তার কথা শেষ হবার আগেই মেয়েটা চকিতে ফিরে রঙিন চশমার মধ্যেদিয়ে তাকাল। ‘কে আপনি? আমি ভেবেছিলুম বুঝি হোসাঙ। ও যখনই এখানে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে, নানা রকমের রঙ্গতামাশা করে।’

শেষের দিকের কথাগুলো দাউদ শুনতে পেল না, এমন কি মেয়েটা কী বলছে ভালো করে বুঝতেও পারল না। আসলে সে কিছু বুঝতেই চায়নি। কত কাল, যেন কত যুগ পর কোনো মেয়ে তার সঙ্গে কথা কইছে। সে দেখল মেয়েটা বেশ রূপসীই। তার সারা শরীর বেয়ে নেমে এলো ঘামের হিমেলস্রোত।

কোনো রকমে সে বলল, ‘আমি হোসাঙ নই। আমার নাম দাউদ।’

হাসতে হাসতে মেয়েটি বলল, ‘কিছু দিন হলো চোখ দুটি ভীষণ জ্বালাচ্ছে, তাই ভালো দেখতে পাই না। ও, তুমি দাউদ! মানে কুঁজো দাউদ! (দাউদ ঠোঁট কামড়ালো।) গলাটা শুনেই চেনা-চেনা মনে হয়েছিল। আমি জিবাদী। তুমি আমাকে চিনতে পারছ না?’

মুখের এক পাশ থেকে বেণীটা সরিয়ে নিতেই ওর ঠোঁটের কোণের সেই তিলটা দাউদ স্পষ্ট দেখতে পেল। তীব্র যন্ত্রণায় দলা-পাকানো কি যেন একটা আটকে গেল তার গলার মধ্যে, কপাল থেকে ঝরে পড়ল কয়েক ফোঁটা ঘাম। চারপাশে তাকিয়ে দেখল- কেউ নেই। থেমে গেছে সেই গানের সুর। শুধু হৃৎপিণ্ডটা এমন পাগলের মতো নাচছে যে নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। অশ্রু-অবরুদ্ধ গলায় একটা শব্দও উচ্চারণ না করে সে উঠে দাঁড়াল, থর থর করে কাঁপছে সারা শরীর। ছড়িটা তুলে নিয়ে, ভারি আর এলেমেলো পায়ে, যেদিক থেকে এসেছিল সেই পথেই আবার ফিরে চলল।

বুজে আসা গলায় সে বিড়বিড় করে বলল, মেয়েটা তাহলে জিবাদী! আমাকে দেখতে পায়নি। হোসাঙ ওর স্বামী না প্রেমিক কে জানে? না না, এ কাজ আমি আর কখনো করব না! আমাকে সব আশাই ছেড়ে দিতে হবে! নাহঃ আমি আর কখনো…’

কুকুরটার কাছে ফিরে এসে সে ওর পাশে বসল, মাথাটা রাখল ওর নরম বুকে। কুকুরটা তখন মরে গেছে।

ভাষান্তর: লিখন হায়দার

Sharing is caring!