• ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৫২
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

ইলমে দীনের গুরুত্ব ও ফযীলত

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত আগস্ট ২৯, ২০২১, ২০:০৪ অপরাহ্ণ
ইলমে দীনের গুরুত্ব ও ফযীলত

হাফেজ মাওঃ মেহেদী হাসান।। ইলমে দীনের গুরুত্ব ও ফযীলত সম্পর্কে নিম্নে কতিপয় কুরআনের আয়াত ও হাদীস শরীফ উদ্বৃত্ত হলঃ

(১) কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে,

“যারা আল্লাহ্‌ ও রাসূলকে বিশ্বাস করবে এবং যাদেরকে দীনী ইলম দেয়া হবে, অর্থাৎ যারা কষ্ট-মুজাহাদা করে ইলমে দীন হাসিল করবে, আল্লাহ্‌ তা’আলা তাদেরকে অনেক উচ্চ মর্যাদা দান করবেন। (সূরাহ মুযাদালা, আয়াত-৭)

(২) আল্লাহ্‌ তা’আলা অন্যত্র ইরশাদ করেন-

“বলোতো যারা ইলমে দীন হাসিল করেছে এবং যারা কুরআনের ইলম হাসিল করেনি, তারা উভয়ে কি সমান হতে পারে?” অর্থাৎ যারা ইলম হাসিল করেনি এমনকি উলামায়ে কিরামের সাথে যাদের উঠা-বসা বা কোনরূপ যোগাযোগও নেই তাদের জন্য আল্লাহর যথার্থ গোলামী অসম্ভব। তাই গোলাম হয়ে মালিকের গোলামীর খবর না রাখায় তারা পশু স্তরেরও নীচে অবস্থান করে। তারা কখনো ইলম ওয়ালাদের সমান হতে পারে না। (সুরাহ যুমার, আয়াত-৯)

(৩) নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- “দীনী ইলম শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমান (নর-নারীর)-এর উপর ফরজে আইন।” অর্থাৎ এ ব্যাপারে অবহেলা করলে আল্লাহর দরবারে কোন প্রকার ওজর আপত্তি চলবে না। (ইবনে মাজাহ ১/১৩৬)

(৪) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “তোমাদের মধ্যে সে-ই সর্বোত্তম, যে কুরআনে কারীম শিক্ষা করে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়।” (বুখারী শরীফ ২/১২৯৪)

(৫) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-“আল্লাহ তা’আলা যার মঙ্গল কামনা করেন, তাকে দীনে ইলম দান করেন।” (বুখারী শরীফ ১/৩৯)

(৬) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-“দুনিয়া অভিশপ্ত এবং দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু আছে, সবকিছু অভিশপ্ত। তবে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী এবং তার জন্য সহযোগী উপকরণ অথবা দীনের আলেম কিংবা দীনের তালিবে ইলম অভিশপ্ত নয়। (তিরমিযী শরীফ ২৩২৭)

(৭) নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-“আলেমগণ নবীদের ওয়ারিশ। নবীগণ মীরাস সুত্রে টাকা-পয়সা, সোনা-রুপা রেখে যাননি, তাঁরা শুধু দীনী ইলম রেখে গিয়েছিলেন। সুতরাং যে ব্যক্তি ইলমে দীন হাসিল করেছে, সে অনেক বড় দৌলত হাসিল করেছে।”

এখানে শুধু নমুনা স্বরূপ কতিপয় হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে। জ্ঞানী লোকদের জন্য শুধু ইশারাই যথেষ্ট হয়ে যায়। আর মূর্খদের জন্য দলীল প্রমাণের পাহাড়ও বৃথা। সুতরাং এখানে অনেক বেশী হাদীস উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করছি না। অন্যথায় এ ব্যাপারে এতবেশী ফজীলত নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণীত হয়েছে, যা একত্রিত করলে, মোটা ভলিউমের বৃহৎ কিতাবে পরিণত হবে।আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। (আমিন)

Sharing is caring!