• ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৫১
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

ইয়াতীমের মাল খাওয়া

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২১, ২১:১৮ অপরাহ্ণ
ইয়াতীমের মাল খাওয়া
হাফেজ মাওঃ মেহেদী হাসান।।
বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইয়াতীমের মালের সঠিক তদারকী করা হয় না। যার পরিণতিতে ইয়াতীম নাবালিগ সন্তানের মুরব্বী যেমন, মা বা বড় ভাই যারা থাকে, তারা নিজেরাই ইয়াতীমের মাল খেয়ে থাকে। আত্মীয়-স্বজন ও মেহমানদের খাওয়ায়ে তাকে। মসজিদ-মাদরাসায় দান করে থাকে। আলেম উলামাদেরকে দাওয়াত করে খাইয়ে থাকে। অনেক বছর পর ইয়াতীম সন্তান যখন বড় হয়, তখন তাকে শুধু জমি ও বাড়ির অংশ বুঝিয়ে দেয়া হয়। অথচ এত বৎসর তার ঐ সব সম্পত্তিতে যে ফসল উৎপন্ন হয়েছে বা ভাড়া পাওয়া গিয়েছে বা উপার্জন হয়েছে, তা থেকে তার পিছনে আয়ের সবটা ব্যয় হয়নি! অথচ এ বর্ধিত অংশ নিজেরা খরচ করে ফেলে, ইয়াতীমকে বুঝিয়ে দেয় না।
মনে রাখবেন, এসবই ইয়াতীমের মাল খাওয়ার দরুন হারাম ও জাহান্নাম খরীদ করার শামিল। ইয়াতীম অর্থাৎ নাবালিগ সন্তান বড়দের সমান অংশ পাবে। কোন ক্ষেত্রে এক কড়া ক্রান্তিও কম পাবে না। তারপর ইয়াতীমের অভিভাবক উক্ত মাল থেকে তার ভরণ-পোষণ, চিকিৎসা ও লেখা-পড়ার জন্য খরচ করতে থাকবে এবং অবশিষ্ট অংশ তার নামে হিফাজত করতে থাকবে। যখন ইয়াতীম সন্তান বালিগ ও বুদ্ধিমান হবে তখন তার সমুদয় সম্পত্তি এবং তার থেকে বর্ধিত আয় তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। ব্যাপারটি বড়ই নাজুক। কারণ, কুরআন শরীফে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা অবৈধভাবে ইয়াতীমের মাল খায়, তারা তাদের পেটে জাহান্নামের আগুন ভরে’। (সূরা নিসা, -১০)
উল্লেখ্য, শুধু মৃত গরীবের সন্তানকেই ইয়াতীম বলা হয় না, বরং কোটিপতির নাবালিগ ছেলে বা মেয়েও শরীআতের পরিভাষায় ইয়াতীম। সুতরাং তাদের মাল কোনভাবে খাওয়াও ইয়াতীমের মাল খাওয়া এবং জাহান্নামের আগুন খাওয়ার নামান্তর।

Sharing is caring!