• ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৫২
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

করোনায় ঘরবন্দী শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশে যা করবেন

bmahedi
প্রকাশিত এপ্রিল ২৬, ২০২১, ১৭:১৩ অপরাহ্ণ
করোনায় ঘরবন্দী শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশে যা করবেন

রায়হান সোবহান ## করোনা মহামারির কারণে এক বছরের বেশি সময় ধরে ঘরবন্দী শিশুরা। অনেক নবজাতক জন্মের পর থেকেই বাড়িতে বন্দী। এমন অনেক শিশু আছে, যাদের শুধু বাবা-মা বা গৃহকর্মীর বাইরে কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ হচ্ছে না। করোনার এই সময়ে কোমলমতি শিশুদের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে না। বাড়ির বাইরেও যেতে পারছে না। বাইরের পরিবেশও তাদের কাছে অচেনা। একারণে নিজের আত্মীয় স্বজনকে দেখলেও অনেক শিশু ভয় পাচ্ছে বা নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে। এমন অবস্থায় বাইরের আলো বাতাসসহ শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশ জরুরি হয়ে পড়েছে।

 

 

করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা ও দফায় দফায় লকডাউনে গৃহবন্দী শিশুরা। দীর্ঘদিন বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিশু-কিশোরদের মন খারাপের দিন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। কিছু সময় অনলাইনে ক্লাস হলেও স্কুলের পরিবেশ ও বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গ না পাওয়ায় বিষন্নতা তৈরি হচ্ছে শিশুর মনে। দীর্ঘদিন বাড়িতে থেকে তারা একঘেয়েমি জীবনে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে। পড়াশোনার আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং রাগ ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। আচরণগত সমস্যাও তৈরি হচ্ছে।

 

 

শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘসময় গৃহবন্দী থাকায় শিশুদের মানসিক গঠনে নেতিবাচক প্রভাব পরছে। তারা আত্মকেন্দ্রীক হয়ে উঠছে। অনেক শিশুরই মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে। খাওয়া, ঘুম, টিভি দেখা গোসল সব কিছুরই রুটিন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।

 

আরও পড়ুন >>> চোখের আকৃতি প্রকাশ করে মানুষের ব্যক্তিত্ব

 

 

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা সংকটের কারণে ঘরবন্দী এই সময়ে সন্তানদের গড়ে তুলতে একটু চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সন্তানদের সঙ্গে অভিভাবকদের কৌশলী আচরণ করতে হবে। ঘরের মধ্যে সংস্কৃতি চর্চা ও সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে। শিশুদের স্বাস্থ্যবিধি মানার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। করোনা সংকটের এই সময়ে নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সন্তানদের অভ্যস্ত করাতে হবে। সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হতে হবে।

 

আরও পড়ুন >>> ইফতারে অবশ্যই দই-কিসমিস রাখুন, জানুন জাদুকরী উপকারিতা

 

এ বিষয়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ আরটিভি নিউজকে বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক শিশু-কিশোরকে অনলাইনে ক্লাস করতে হচ্ছে। অনেক শিশু ক্লাসের বাইরেও মোবাইল নিয়ে থাকছে। এ কারণে শিশুদের কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন ব্যবহারে আসক্তি বাড়ছে। করোনার এই সময়ে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, শিশুর ভালোলাগা মন্দলাগাকে বুঝতে হবে। বাবা মাকে তাদের মনোজগতটার সঙ্গে মিশে যেতে হবে। এ সময় শিশুদের পড়াশোনার জন্য চাপ দেয়া যাবে না। মারধর করা যাবে না। এ পরিস্থিতিতে বাড়িতে শিশুদের সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখতে হবে। নাচ-গান, খেলাধুলা ও ঘরের কাজে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। যাতে করে একঘেয়েমি ভাবটা দূর হয়ে যায়। গল্পের বই পড়ার উৎসাহ দিতে হবে। তাদের শারীরিক ও মানসিক চাপ দেয়া যাবে না।

Sharing is caring!