• ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ১০:৪৮
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

করোনায় মৃতদের পোড়াতে দিল্লিতে তৈরী হচ্ছে গণচিতা

bmahedi
প্রকাশিত এপ্রিল ২৪, ২০২১, ২০:১৬ অপরাহ্ণ
করোনায় মৃতদের পোড়াতে দিল্লিতে তৈরী হচ্ছে গণচিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ##

করোনা ঝড়ে বিধ্বস্ত ভারত। সামনে আরও ভয়ংকর পরিস্থিতির আভাস দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন অবস্থায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে রাজধানী দিল্লিতে। সেখানে করোনায় মৃতদের পোড়াতে আগের শ্মশানে কাজ হচ্ছে না। তাই শবদাহ করতে একটি পার্কে বানানো হয়েছে গণচিতা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, দিল্লিতে এমন হারে মৃত্যু বাড়ছে যে, মৃতদের সৎকার করার লাইন পড়ে গিয়েছে শ্মশানে। প্রিয়জনকে সসম্মানে শেষ বিদায়টুকু জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন না রাজধানীবাসী। নীতীশ কুমার নামের এক ব্যক্তি কোভিডে মৃত মায়ের শবদেহ দু’দিন নিজের বাড়িতে রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন। কারণ, রাজধানীর সব শ্মশানে সব ‘স্লট’ ভর্তি।

অবশেষে গত বৃহস্পতিবার মায়ের অন্ত্যেষ্টি করতে পেরেছিলেন নীতীশ। কিন্তু শ্মশানে নয়। উত্তর-পূর্ব দিল্লির সীমাপুরী শ্মশানের পার্কিং লটে তৈরি অস্থায়ী গণদাহ কেন্দ্রে!

নীতীশ জানান, ‘দু’দিন শহরের প্রত্যেকটা শ্মশানে হন্যে হয়ে দৌড়ে বেড়িয়েছিলাম। কিন্তু কোথাও জায়গা পাইনি। সব ভর্তি। শ্মশানের লোক বলল, মৃতদেহ সৎকারের কাঠ আর নেই তাদের কাছে।’

মায়ের চিকিৎসা করানোর সময়ও কম সমস্যায় পড়তে হয়নি তাকে। দশদিন আগে কোভিড ধরা পড়ে তার মায়ের। যিনি ছিলেন সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী। অনেক চেষ্টা করেও প্রশাসন তার জন্য হাসপাতালের শয্যা জোগাড় করতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘সরকার কিছুই করছে না। আমাদেরই যা করার করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় আমরা একদম একা’।

শহিদ ভগৎ সিং সেবাদল নামের এনজিও চালান জিতেন্দর সিং শান্তি। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘দিল্লির কেউ কোনোদিন এই দৃশ্য দেখেনি। পাঁচ বছরের শিশুর অন্ত্যেষ্টি হচ্ছে। ১৫ বছরের বাচ্চা, ২৫ বছরের তরুণ পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। নবদম্পতির একসঙ্গে সৎকার হচ্ছে। এসব দেখা খুব কঠিন।’

পিপিই কিট এবং হলুদ পাগড়ি পরা শান্তি জানিয়েছেন, গত বছর যখন কোভিডের প্রকোপ সর্বোচ্চ ছিল, একদিনে সবচেয়ে বেশি ১৮টা মৃতদেহ সৎকারে সাহায্য করেছিলেন তিনি। সে সময় দৈনিক দাহের সংখ্যা থাকত আট থেকে দশ। সেখানে চলতি বছরে মৃত্যুর হার বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। গত মঙ্গলবার একটা কেন্দ্রেই ৭৮টা মৃতদেহের সৎকারে সাহায্য করতে হয়েছে তাকে।

 

Sharing is caring!