• ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৪০
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

করোনা পরিস্থিতিতে বিপদে ভিক্ষুকরা

bmahedi
প্রকাশিত মে ৩, ২০২১, ১৩:৫৯ অপরাহ্ণ
করোনা পরিস্থিতিতে বিপদে ভিক্ষুকরা
স্টাফ রিপোর্টার ## করোনা পরিস্থিতিতে অনেক মানুষই চেষ্টা করেন প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার। এছাড়া লকডাউনে সবই চলছে সীমিত পরিসরে। ফলে ফুটপাত-দোকানপাট, মার্কেটগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই আগের থেকে জনসমাগম কম। এমন পরিস্থিতিতে ভিক্ষুকরা পড়েছেন মহাবিপদে। তাদের মধ্যে অনেকেই পাচ্ছেন না কোনো সহায়তা।

মির্জাপুর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে ভিক্ষার জন্য অপেক্ষায় থাকা অন্ধ অনোয়ার বলেন, ‘এখনতো মাইনসে ভিক্ষাও দেয় না। অহন দোকানপাট খোলে না ভিক্ষাও পাই না। আগে তাও কিছু কামাই করতে পারচি। অহোন তাও পারি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভাইরে দুঃখের কথা কি কমু। সরকার থ্যাইকা সেহায্য দেয় কিন্ত মেম্বরে আমাগো কিছুই দ্যায় না। আমরা অহনও ব্যাকায়দায় আছি। আইজ আধা বেলায় পনেরটা ট্যাহা আর একটা মোরগী পাইছি।’

এসময় দুধের বাচ্চা কোলে নিয়ে অনোয়ারের স্ত্রী নাছিমাও পাশে বসে ভিক্ষা করছেন। কেন্দ্রীয় মসজিদে মুসুল্লি প্রবেশের মূল ফটকের দুই পাশে অন্ধ হেলালও স্ত্রী মমতাজকে নিয়ে ভিক্ষা করছেন। তাদের সংসারে রয়েছে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তাদের মতো ওই একই জায়গায় বসে ভিক্ষা করছেন অন্ধ কুতুব আলী ও রফিকুল। তারা প্রত্যেকেই হতাশার কথা শুনান।

তারা বলেন, হাটবারের দিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে তারা ভিক্ষা করে থাকেন। এছাড়া অন্যদিনগুলোতে বিভিন্ন গ্রামে ও বাসা বাড়িতে যান। কিন্ত লকডাউন থাকায় দোকানপাটও বন্ধ। গ্রামে ও বাসা বাড়িতেও ঢুকতে দেয় না। এতে তাদের দিনাতিপাত অনেক কষ্ট হচ্ছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম জানিয়েছেন এ উপজেলায় প্রায় ৩০০ ভিক্ষুক রয়েছে।

এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, ভিক্ষুকরা সরকারি সহায়তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবেন। প্রত্যোক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সেইভাবেই নির্দেশনা দেয়া আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Sharing is caring!