• ১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:০৭
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

bmahedi
প্রকাশিত এপ্রিল ২৫, ২০২১, ১৬:১৬ অপরাহ্ণ
করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

সাজ্জাদুল ইসলাম সৌরভ ## মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে উদাসীনতার কারণে দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এসেছে এমন দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনায় বিগত দিনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিলে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। আমরা ভুল করতে চাই না, ভুল থেকে শিক্ষা নিতে চাই।

বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষ্যে রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনলাইন আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘করোনা মহামারি এক বছর ধরে মোকাবিলা করে আসছি। আমরা করোনা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছিলাম। তবে জনগণের বেসামাল চলাফেরা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে দেশে দ্বিতীয় ঢেউ এসেছে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘এ বছর আমাদের হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকা কর্মসূচি চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাইউলাইন মেনে চলছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি। তবে আমরা যখনই মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছেড়ে দিয়েছি তখনই সংক্রমণ আবার বেড়ে গেছে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘করোনা মহামারির মধ্যে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা দিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।’

ম্যালিরিয়া মশা নিয়ে সতর্ক করলেন মন্ত্রী

সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশ থেকে যেন ম্যালেরিয়া মশা না আসে, সেজন্য সতর্কতা বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

জাহিদ মালেক বলেন, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আমাদের মশা নিধন করতে হবে। এজন্য নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। দেখা গেলো আমাদের দেশে ম্যালেরিয়া নির্মূল হলো, কিন্তু আশপাশের দেশ থেকে ম্যালেরিয়াবাহী মশা চলে এলো। সেজন্য আমাদের সীমান্ত এলাকাগুলোতে সতর্কতা বাড়াতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে ম্যালেরিয়া মশা নির্মূল করতে হবে। তবে অনেক সময় দেখা যায়, এয়ার ট্রান্সপোর্টেও ম্যালেরিয়া মশা চলে আসে, সে জন্য আমাদের সজাগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূল করবো। ২০২০ সালের রিপোর্টে দেখা যায়, দেশে ম্যালেরিয়া ৯৩ শতাংশ কমেছে। মৃত্যু কমেছে ৯৪ শতাংশ। আগে ১৩টি জেলায় ম্যালেরিয়া ছিল, এখন সেটি কমে ২টি জেলায় নেমে এসেছে। এটা আমাদের সাফল্য। এবার এটিকে একেবারে নির্মূল করতে হবে।

জাহিদ মালেক বলেন, ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ফান্ডিং নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অবশ্যই যেকোনো একটা কার্যক্রম পরিচালনায় একটা ফান্ডিং প্রয়োজন হয়। এটা সরকার দেবে। তবে আপনারা জানেন স্বাস্থ্য খাতেই আমাদের ফান্ডিং কম। জিডিপির ১ শতাংশের নিচে আমাদের স্বাস্থ্য বাজেট। তবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সামনের বাজেটে স্বাস্থ্যে আরও বাজেট বাড়ানো হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. খুরশিদ আলম বলেন, ম্যালেরিয়া দিন দিন আমাদের দেশ থেকে নির্মূল হচ্ছে। তবে নির্মূল হওয়া মানেই শেষ হয়ে যাওয়া নয়। কারণ আমরা দেখছি মশা কিন্তু শতভাগ নির্মূল হয় না। তাই আমাদের সবসময় সচেষ্ট থাকতে হবে। এটা নিয়ে ফান্ডিং বাড়াতে হবে।

খুরশিদ আলম বলেন, দেশে এখন করোনা মহামারি চলছে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে যদি আমরা ম্যালেরিয়া নির্মূলে এসডিজি অর্জন করতে চাই, তাহলে করোনার মধ্যে অন্য কার্যক্রমগুলো চালিয়ে যেতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার লাইন ডিরেক্টর এবং মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. খুরশিদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. ইকবাল আর্সলান প্রমুখ।

Sharing is caring!