• ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৭:২৫
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরীর উড়াল রেলের স্বপ্ন ও বেনাপোলবাসীর কৃতঞতা

bmahedi
প্রকাশিত জুলাই ২৩, ২০১৯, ১৮:২০ অপরাহ্ণ
কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরীর উড়াল রেলের স্বপ্ন ও বেনাপোলবাসীর কৃতঞতা

নুরুজ্জামান লিটন ।।

সপ্ন সবাই দেখে ।স্বপ্নকে সবাই বাস্তবে রুপ দিতে পারে না। বিলাশী স্বপ্ন হলে আরো কঠিন। এমনই একটি বিলাশী স্বপ্ন দেখেছেন তিনি।২০১৮ সালের জুলাই মাসের প্রখম দিকে । বেনাপোলে বুলেট ট্রেন আনার যে সপ্ন , আমি ছিলাম সে আলোচনায়।শুনে ভালো লেগেছিল।আবার অসম্ভব অবিশ্বাস্য ও মনে হয়েছিল। সেই অসম্ভব অবিশ্বাস্য বিষয়টি এখন বাস্তবতা। স্বপ্নের বেনাপোল এক্সপ্রেস এখন বেনাপোলে।দেশের  সবচেয়ে  বিলাশ বহুল ট্রেন। মাত্র এক বছরের মধ্যে বেনাপোলের  এই বিশাল প্রাপ্তি। কি স্বপ্ন দেখেছিলেন  তিনি।চলুন তার ফেসবুক পোস্ট থেকে দেখি। গত ১০ জুলা্ই ২০১৮ তারিখে তিনি তার ওয়ালে লেখেন:

একটি  উড়াল রেলের স্বপ্ন! ঘুমিয়ে নয়, জেগে দেখা স্বপ্ন!  লাখো যাত্রী বণিকের আকণ্ঠ লালিত স্বপ্ন।
ঠিক চিনের সর্বোচ্চ ৪৩১ কি:মি: গতির সাংহাই ম্যাগলেভের মতো। চুমুক দিয়ে গরম কফির পেয়ালায়! শেষ হবার আগেই বেনাপোল থেকে ঢাকায়!

বেনাপোল বালিকা আজিকার দুঃস্বপ্ন! আপাত সুদূর পরাহত। মমতার স্বপ্নের মতো। মনন সীমার বাইরে হয়তো! হোক না আশায় নক্ষত্রের দূরত্ব। কেবল একটা ‘গুলি রেল’(বুলেট ট্রেইন)!
বেনাপোলের জন্য। মুসাফিরের জন্য। চেকপোস্ট পারের বারো হাজার যাত্রীর জন্য। দুস্থ মানবতার জন্য! আবাল বৃদ্ধ বণিতা রোগী, বৃদ্ধ, শিশুর জন্য। ত্রিশ হাজার কোটি টাকা বাণিজ্য বন্দরে রশদদাতার জন্য।

কলিকালের সেই “ইস্টিশনের রেলগাড়ি”র মতো বারটা বাজার অপেক্ষায় পৃথিবী বসে নেই। বিশ্ব নাগরিকরা এখন আর সেই গদাই লস্করি চালে চলে না। দুর্বল গতিহীন ট্রেনে ভ্রমণ করে না। তবে বেনাপোল কেন!

এখন ট্রেন বিমানের গতিতে ছুটে! চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে যায়। কালক্ষেপণের প্রশ্নই আসে না। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, চীন, জাপান, রাশিয়া সবাই যেন একে অপরের সাথে পাল্লা দিয়ে নিজেদের ট্রেনের গতি বাড়িয়ে চলেছে। সম্প্রতি চীন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সর্বোচ ৬শ’ কিলোমিটার গতির চুম্বক গতির ট্রেন বানাতে গবেষণা করছে। অন্যরাও করছে।

চিনের ৬০০কি.মি. এর চুম্বক ট্রেন নাহোক, জাপান ম্যাগলেভ বা সাংহাই ম্যাগলেভ নাহোক, শিংকেসেন বা ইউরো রেল নাহোক ৩০০কি.মি. গতির একটি বুলেট ট্রেনের স্বপ্ন বেনাপোলবাসী দেখতেই পারে….উড়াল রেল হলেই ক্ষতি কি…..! সেদিনকে এদিনের কাছে নাকি এদিনকে সেদিনের কাছে! নিতে পারে! বেনাপোল পারে! ধনিক বণিক শ্রমিক বাহক পারে……! অচিরেই পারে। স্বপ্নবিলাসী বেনাপোলিয়ান্স, চলো স্বপ্ন নির্মাণে, স্বপ্ন প্রসারে লড়ি…. স্বপ্নের বেনাপোল গড়ি..

বেনাপোল এক্সপ্রেস চালুর পেছনের এ কারিগর গত এক বছরে নিরলস লেগে ছেলেন। মাননীয় অর্থ উপদেস্টা ড. মশিউর রহমানের যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশকে বারবার অনুরোধ করে গেছেন।মধ্য আলোচনার এক  সভায় বুলেট ট্রেন দ্রুত দেয়া সম্ভব না হলে ১০/১২ হাজার পাসপোর্ট যাত্রীর জন্য একটি আন্ত: নগর ট্রেন পাবার জন্য চেস্টা চালান।সে দীর্ঘ চেস্টার ফসল বেনাপোল এক্সপ্রেস।

তিনি একদিন চলে যাবেন বদলী হয়ে । বেনাপোল এক্সপ্রেস বেনাপোলেই রেখে যাবেন। রেখে যাবেন অসংখ্য স্মৃতি।  তার সমঋতি বহন করে চলবো আমরা বেনাপোলবাসী। বেনাপোল এক্সপ্রেসের প্রতিটি যাত্রী কে কৃতঞতায় আবদ্ধ করেছেন তিনি।

আলাপ চারিতায় তিনি বলেন,একদিন বুলেট ট্রেনও আসবে।একটি বিমানবন্দর হবার প্রয়োজনীয়তাও অনুভূত হতে পারে অদূর ভবিষ্যতে।

দূর্বলের স্বপ্ন ও শক্তিমানের স্বপ্নের পার্থক্য বেনাপোলবাসী দেখলো।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার স্বপ্নে ভর করে আজ বাংলাদেশ উন্নত দেশ হবার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরীর স্বপ্নকে ভর করে বেনাপোলে হবে একদিন  বুলেট ট্রেন ও বিমান বন্দর । এগিয়ে যাবে বহুদুর, দৃস্টান্তের বন্দর নগরী হিসেবে। আদর্শ বেনাপোল হয়ে।

 

Sharing is caring!