• ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ১০:০৬
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

খালেদা জিয়ার মুক্তি আদালত নির্ধারণ করবে —-আব্দুর রহমান

bmahedi
প্রকাশিত নভেম্বর ১৭, ২০১৯, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
মাহবুবুল আলম টুটুল :=

খালেদা জিয়ার মুক্তি আদালত নির্ধারণ করবে খালেদা জিয়ার মুক্তি আদালত নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেছেন, এতিমের টাকা আত্মসাৎকারী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বিএনপি রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু, খালেদার মুক্তি হবে কি হবে না তা নির্ধারণ করবে আদালত। আর আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আওয়ামী লীগ আন্দোলন, সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জনগণের দল হিসেবেই এই অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। প্রয়োজনে ৬২, ৬৯ বা ৭১-এর মতো আবারও রাজপথ প্রকম্পিত করে সকল ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে। শনিবার যশোর সদর ও শহর শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আব্দুর রহমান উপরোক্ত কথা বলেন।তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বে সমাদৃত হচ্ছে। অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রনায়কেরা তাদের দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে শেখ হাসিনার মডেল অনুসরণের আহবান জানাচ্ছেন। কীভাবে একটি দেশকে শূন্য থেকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেয়া যায়, তাই দেখিয়েছেন জননেত্রী ও সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। অথচ আমাদের দেশের কিছু অকার্যকর দল, বিশেষ করে বিএনপি ও তার দোসররা শেখ হাসিনার সরকারকে অকার্যকর করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। জনগণকে সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সৈনিক হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সকল ষড়যন্ত্র ও ষড়যন্ত্রকারীর সমুচিত জবাব দেবে। দুপুরে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন দলের যশোর জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন। এসময় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল হোসেন, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি, ও জেলা সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মজিদ, পৌরমেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ।শুদ্ধি অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে আব্দুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজঘরেই এই অভিযান শুরু করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার সুদৃঢ় নেতৃত্বের কারণে দেশবাসী বিশ্বাস করে, তিনি যতদিন বেঁচে আছেন- সবাই তাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই পেতে চান।আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রিয়ভাজন হচ্ছেন দলের কর্মীরা, নেতারা নন। ওয়ান ইলেভেনের সময় অনেক বড় বড় নেতা পালিয়ে গেছেন, গা ঢাকা দিয়েছেন। কিন্তু কর্মীরা তার মুক্তির দাবিতে রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন। আজ যারা বড় নেতা হয়েছেন, জনপ্রতিনিধি হচ্ছেন- মনে রাখবেন, তারা না থাকলে আপনারা কিছুই না। তারাই নেতা জন্ম দেন, জনপ্রতিনিধি বানান। দলে বহু জাঁদরেল নেতা ছিলেন, কিন্তু তাদের ওপর থেকে যখন নেত্রীর আশীর্বাদ উঠে গেছে, তখন তারা জিরো। ড. কামালের মতো নেতা আজ বিএনপির কোলে চড়েও কোনো গতি করতে পারেননি। নেত্রী তৃণমূলের কর্মীদের মূল্যায়ন করেন-নেতাকে নন। সে কারণে তৃণমূলকর্মীদের অবজ্ঞা করবেন না।এস এম কামাল হোসেন বলেন, বিএনপি আজ গণতন্ত্র নিয়ে গলাবাজি করছে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে তাদের শাসনামলে বাংলাদেশ পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। একটি অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে দেশকে তারা বিশ্বে পরিচিত করে। সেই অবস্থা থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। দেশের কৃষক এখন সার-কীটনাশকের দাবিতে রাজপথে গুলিতে মারা যাচ্ছে না। কৃষক এখন সার, বীজ, কীটনাশকের জন্যে হাহাকার করে না।যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলা বাস্তবায়নে জননেত্রী শেখ হাসিনা নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে দেশের নারীশিক্ষার বিস্তার ঘটেছে, স্বাস্থ্যসেবার মান বেড়েছে, শিশুমৃত্যুর হার কমেছে, বিদ্যুতের উৎপাদন বেড়েছে।সম্মেলন ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল ঈদগাহসহ যশোর শহরে। সকাল দশটা থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সম্মেলন স্থলের দিকে আসতে থাকে। অনুরূপভাবে সদর উপজেলার সকল এলাকা থেকেও নেতাকর্মীদের মিছিল আসে ঈদগাহে। বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও প্রিয় নেতাদের পক্ষে কর্মীদের মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শহর। সকাল ১১টার মধ্যেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে পুরো ঈদগাহ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে পৌরসভা অডিটোরিয়ামে বসে কাউন্সিল অধিবেশন।

Sharing is caring!