• ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ভোর ৫:২৫
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১, ১৬:১৬ অপরাহ্ণ
খোলা আকাশের নিচে পাঠদান
শরীয়তপুর প্রতিনিধি।। 
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় তিনটি বিদ্যালয়ে জোয়ারের পানি উঠেছে। এর ফলে দুটি বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের নিচে এবং একটিতে পার্শ্ববর্তী এক বাড়ির বারান্দায় চট বিছিয়ে ও বেঞ্চ নিয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিদ্যালয় তিনটি হলো—চর জপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৃধা কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পূর্ব নড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
শিক্ষকরা বলছেন, সরকারি নির্দেশনায় এক বছর আট মাস বন্ধ থাকার পর গত রবিবার বিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে জোয়ারের পানি ঢোকায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়ার উপযোগী ছিল না। এ কারণে বিদ্যালয় থেকে কিছুটা দূরে অন্যের বাড়ির উঠানে সিমেন্টের বস্তার চট ও স্কুল থেকে বেঞ্চ এনে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়।
বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) একইভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ক্লাস শুরু হয়। চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৮ সালে পদ্মার ভাঙনের শিকার হয়ে নড়িয়া উপজেলার পূর্ব নড়িয়া গ্রাম। গ্রামটিতে ছিল পূর্ব নড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবন। পদ্মার ভাঙনে একই বছর বিলীন হয়ে যায় বিদ্যালয়ের ভবন। এতে ভেঙে পড়ে পাঠদান ব্যবস্থা। পরবর্তীতে ওই গ্রামে অস্থায়ীভাবে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি টিনের ঘর তৈরি করে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়।
অস্থায়ীভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখা হলেও দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় কমে গেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। এদিকে করোনার কারণে এক বছর আট মাস ক্লাস বন্ধ থাকে। গত ১২ সেপ্টেম্বর ক্লাস চালু হলেও বিদ্যালয়টির চারদিকে জোয়ারের পানি ও কাদা থাকায় ক্লাস করানো সম্ভব হচ্ছে না।
পূর্ব নড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসমা আক্তার বলেন, ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে বিলিন হয়। পরে ওই এলাকায় অস্থায়ী একটি টিনের ঘর তৈরি করে দেয় জেলা শিক্ষা অফিস। সেখানেই পাটদানের ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর ১২ সেপ্টেম্বর ক্লাস চালু হলেও বিদ্যালয়টির চারদিকে জোয়ারের পানি ও কাদা থাকায় ক্লাস করানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিদ্যালয়ে কাছাকাছি একটি বাড়ির আঙ্গিনায় বিদ্যালয়ের বেঞ্চ নিয়ে ক্লাস করাচ্ছি। তবে অনেকটা পানি নেমে যাওয়ায় আগামীকাল বুধবার থেকে বিদ্যালয়টিতে ক্লাস করার কথা রয়েছে। তবে দ্রুত বিদ্যালয় ভবন বরাদ্দ না পেলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশংকা রয়েছে।
চর জপসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলেনা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে জোয়ারের পানি ঢোকায় ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাড়ির উঠানে ক্লাস নিচ্ছি। এতে শিক্ষার্থী ও আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
শরীয়তপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, পূর্ব নড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর অস্থায়ী একটি স্কুলঘর তৈরি করা হয়। সেখানে সম্প্রতি জোয়ারের পানি ঢোকায় ক্লাস নেওয়ায় সম্ভব হচ্ছে না। পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে ক্লাস চলমান রয়েছে। চর জপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মৃধা কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠেও পানি। তাই অন্যত্র ক্লাস চলছে। পানি কমে গেলে বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হবে।

Sharing is caring!