• ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ৬:৩৩
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

চন্দনাইশে বেপরোয়া গরু চোর সিন্ডিকেট

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত অক্টোবর ৫, ২০২১, ১২:০২ অপরাহ্ণ
চন্দনাইশে বেপরোয়া গরু চোর সিন্ডিকেট
ইসমাইল ইমন, চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি।।
চন্দনাইশ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ডে চুরির ঘটনা অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন রাতে ইউনিয়নের কোন না কোন গ্রামে পাশাপাশি কৃষকদের গোয়াল ঘর থেকে গরু চুরি হচ্ছে। এমনকি চোরের দল ভয়-ভীতি দেখিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে কৃষকদের একমাত্র সম্বল গরু নিয়ে চম্পট দিচ্ছে চোখের সামনেই।
সরেজমিন ঘুরে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সম্প্রতি ৪ বার গরু চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
এছাড়াও ঈদুল আযহার পূর্বে ইউনিয়নের ৬/৮নম্বর ওয়ার্ডে গরু চুরির ঘটনা সংঘটিত হয়।
দীর্ঘ এক বছর ধরে চন্দনাইশের পৌরসভা এলাকা হতে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামে এরকম গরু চুরি ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় থানা পুলিশ কে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান ভুক্তভোগিরা।
বরকল ইউনিয়নের ৭ সাত নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন জানান, গত ঈদুল আযহা পরবর্তী তার এলাকায় বেশ কয়েকটি দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত চারদিন আগে কৃষক আব্দুল হকের দেড় লক্ষ টাকা দামের দুইটি বড় ষাঁড় গরু, ১৯ দিন আগে মজিদ মেম্বার বাড়ি কৃষক আবুল কাসেমের ৬০ হাজার টাকা দামের একটি বড় ষাঁড় গরু, ২ মাস আগে পাঠানদন্ডীর দরফের বাড়ির কৃষক জিল্লুর রহমানের ২
 লাখ টাকা দামের দুইটি বড় ষাঁড় গরু সহ মোট পাঁচটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা।
৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রিপন জানান ঈদুল আযাহার পূর্বে তার ওয়ার্ডের কৃষক সজল পালের একসাথে বড়-ছোট মিলিয়ে পাঁচটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই ব্যাপারে প্রশাসনকে জানিয়েও আজ পর্যন্ত কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে জানান।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল হক জানান গত ২৮ শে সেপ্টেম্বর রাত দুইটার দিকে চোরের দল তার গোয়াল ঘরে হানা দেয় এ সময় দুইজন আব্দুল হক কে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে।
বাকিরা গরু নিয়ে গাড়িতে উটিয়ে পালিয়ে যাই।এই সময় চোরের দলের সকলের মুখ কাপড়ের মুখোশে ডাকা ছিল।
এই ব্যাপারে তিনি চন্দনাইশ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বরকল ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান গত দুইদিন আগে স্থানীয় মেম্বার ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল হকের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছেন। বৈঠকে পরামর্শ অনুযায়ী সাতবাড়িয়া পুকুরপাড় ব্রীজঘাট এবং ছামুদরিয়া ব্রিজ এলাকায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। থানার ওসিকে সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনের নাম দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে এই ব্যাপারে চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান গরু চুরির ব্যাপারে চন্দনাইশ থানায় কোন অভিযোগ আসেনি,এই বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান ইদানিং উপজেলা ও পৌরসভা সদরের আশেপাশের ওয়ার্ডেও গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। গত ৩ রা অক্টোবর হারলা, সমবায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের কেরানী বাড়ির আব্দুল আজিজের গোয়াল ঘরের তালা ভেঙে একটি গাভী বাছুর সহ নিয়ে যায় সংবদ্ধ চোরের দল,যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।
৪টা অক্টোবর চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভা এলাকায় শ্রী শ্রী লোকনাথ সেবাশ্রমের মূর্তি থেকে স্বর্নের চেইন ও মন্দিরের দানবক্স রাতের অন্ধকারে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগে আরো জানা যায়, আশেপাশে পাড়া, মহল্লার ঝাড়, জঙ্গল ও পুকুর,দীঘির পাড়ে মাদকাসক্ত, ইয়াবা সেবনেকারীদের দৌরাত্ম্যে বৃদ্ধি পেয়েছে।নেশার টাকা যোগাড় করতেই এই সব চিন্হিত মাদকাসক্ত, ইয়াবাসেবীরা রাতের অন্ধকারে এলাকায় গরু চুরি সহ অপরাধ কর্ম কান্ডের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। বর্তমানে এলাকাবাসী পালা করে রাতের বেলায় পাহাড়ার ব্যাবস্থা করছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এলাকাবাসী।স্থানীয় জনসাধারণের দাবি উপজেলার ও পৌরসভা সদরের ঝুঁকি পুর্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়নে রাতে টহল পুলিশের অভিযান পরিচালনার করা হোক। সেই সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

Sharing is caring!