• ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৯:৫৩
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

চীন-রাশিয়া-পাকিস্তান-তুরস্ক স্বীকৃতি দিচ্ছে তালেবানকে

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত আগস্ট ১৭, ২০২১, ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
চীন-রাশিয়া-পাকিস্তান-তুরস্ক স্বীকৃতি দিচ্ছে তালেবানকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। আফগানিস্তানে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে বেশ কয়েকটি দেশ। এ তালিকায় চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলো ছাড়াও রয়েছে প্রতিবেশী পাকিস্তান ও তুরস্কের নাম। জানা গেছে, এই দেশগুলো এরই মধ্যে তালেবানকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি তালেবানকে স্বীকৃতি দিতে পারে। এ ব্যাপারে চীনা নাগরিকদের মধ্যেও ইতিবাচক মনোভাব তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। গত মাসেই সফররত তালেবান প্রতিনিধিদলের সঙ্গে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানো বেশ কিছু ছবি ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে।ওয়াং ই সে সময় তালেবানকে ‘আফগানিস্তানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যারা ‘দক্ষিণ এশীয় দেশটিতে শান্তি, পুনর্মিলন ও পুনর্গঠনে বড় ভূমিকার রাখবে’। পাশাপাশি তালেবানকে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে বলেছিলেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

রুশ প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিন থেকে বলা হয়েছে, কাবুল থেকে রাশিয়ার দূতাবাস সরানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। রাশিয়ার সরকারি মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, তালেবানের পক্ষ থেকে রাশিয়ার কূটনৈতিক মিশনের কর্মীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। তালেবানের মুখপাত্র সুহেল শাহিন সংবাদমাধ্যম এপিকে বলেছেন, মস্কোর সঙ্গে তার দলের সুসম্পর্ক রয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়াসহ অন্য দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি তালেবানের নীতির মধ্যেই পড়ে।

ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে তালেবানকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ অনেক পুরনো। রবিবার কাবুলের যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারের পতনের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, দাসত্বের শেকল ভেঙেছে আফগানিস্তান। এ ধরনের শেকল ভাঙা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দাসত্বের মানসিকতা নিয়ে কখনো বড় কিছু অর্জন করা যায় না।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, তার দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে মিলে আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতার জন্য কাজ করবে। এ ব্যাপারে যথাসাধ্য সবকিছুই করা হবে। আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা তুরস্কের জন্যও জরুরি বলে মন্তব্য করেন এরদোয়ান। কেননা, কাবুলের অস্থিরতার ফলে বিপুলসংখ্যক আফগান নাগরিক ইরান হয়ে তুরস্কে পাড়ি জমাচ্ছে। শরণার্থীদের এমন ঢেউ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

এদিকে বলা হচ্ছে আমেরিকারও তালেবানদের পক্ষে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছে। এক্ষেত্রে গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের বক্তব্যকে সামনে হাজির করা হচ্ছে। অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেন, ‘আফগানিস্তানে আর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো স্বার্থ নেই। তালেবানরা যে এতটা দ্রুত আফগানিস্তান দখল করবে তা আমাদের ধারণার মধ্যে ছিল না।’

এদিকে আফগানিস্তানের শাসনভার তালেবানদের হাতে বুঝিয়ে দেবেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। তিনি নিজে বিবিসিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। কারজাই বলেন, তিনিসহ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে যারা শান্তিপূর্ণভাবে তালেবানদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। এই তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে আছেন হেজ্ব-ই-ইসলামি পার্টির প্রধান গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার, হাই কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল রিকনসিলেশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ ও হামিদ কারজাই।

বিবিসিকে কারজাই বলেন, ‘আফগান জনগণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। তালেবান আমাকে জানিয়েছে যে, তারা শহরের নিরাপত্তার দায়িত্বে লোকজন নিযুক্ত করেছে। আমি আশা করি জলদিই অবস্থার পরিবর্তন হবে। আশরাফ ঘানি তার দায়িত্ব ত্যাগ করেছেন। গোটা দৃশ্য ত্যাগ করেছেন তিনি। এই শূন্যতা পূরণে একটি বৈধ কমিটি দরকার, যারা কাবুলসহ গোটা দেশের নিরাপত্তা দেবে। তালেবানরা এখন শাসকের ভূমিকায়। আমি আশা করি তাদের এই শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ আফগান জাতির ভালোর জন্যই হবে।’

Sharing is caring!