• ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:১৮
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

চোরাই গাড়ি বিক্রি হয় ধোলাইখালে !

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত আগস্ট ২৮, ২০২১, ১৯:০৪ অপরাহ্ণ
চোরাই গাড়ি বিক্রি হয় ধোলাইখালে !
সেলিম রেজা ।। প্রথমে চালকদের সঙ্গে ভাব জমিয়ে কিংবা অন্য কোনও কৌশলে গাড়ি চুরি করে একটি চক্র। পরে গাড়ির মালিককে ফোন করে টাকা দাবি করে তারা। টাকা পেলে কোনও একটি জায়গায় গাড়ি ফেলে যায় চক্রের সদস্যরা, আর না পেলে গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশ বিক্রি করে দেয় রাজধানীর ধোলাইখালে। র‌্যাব বলছে, তারা জানতে পেরেছেন, এসব চোরাই গাড়ি কেনাবেচার সাথে ধোলাইখালের ১৫ থেকে ২০টি দোকান জড়িত। এসব বিষয় খতিয়ে দেখে অভিযান চালানো হবে।
গাড়ি চোরদের এই চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব-৪ এর একটি দল। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় মোবাইল, চাকু, দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল। উদ্ধার করা হয় বেশ কয়েকটি চোরাই গাড়ি।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আজিম উদ্দিন (৩৮), রফিক উল্লাহ (২৬), সেলিম (৫০), কামরুল হাসান (২৬) এবং ওমর ফারুক (৩৫)।
আজ শনিবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি চুরির সাথে জড়িত। চক্রের ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আজিম উদ্দিন গাড়ি চোরাইচক্রের মূলহোতা। এর আগে গত ১১ আগস্ট রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি চোর চক্রের বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব। পরবর্তী সময়ে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় এই চক্রটি।
গত চার-পাঁচ বছর ধরে এই চক্রটি প্রায় ২০ থেকে ২৫টি জায়গায় গাড়ি চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে উল্লেখ করে র‌্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় শতাধিক গাড়ি চুরি করেছে তারা। চোরাই বিভিন্ন গাড়ি ও যন্ত্রাংশ রাজধানীর ধোলাইখালে বেশ কয়েকটি দোকানে বিক্রি করতো।
গাড়ি বিক্রি ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে চুরি করে মালিকদের কাছ থেকেও প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। তিনি জানান, মূলত ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে গাড়ি চুরি করে চক্রটি। এছাড়া কেরানীগঞ্জ ও গাজীপুরেও সক্রিয় তারা। চক্রের সদস্যরা চোরাই গাড়ির রঙ পরিবর্তন করে নামও পরিবর্তন করেন। পরবর্তী সময়ে তারা এসব চোরাই গাড়ির বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে কম মূল্যে বিক্রি করেন। বিক্রিতে কোনও সমস্যা হলে যন্ত্রাংশ খুলে পরবর্তী সুবিধামতো সময়ে অন্য গাড়িতে স্থাপন করে বিক্রি করেতেন তারা।
র‌্যাব বলছে, চক্রের মূলহোতা আজিমের তিনজন ঘনিষ্ট রয়েছের, যারা চোরাই গাড়ির নকল কাগজপত্র তৈরি, ভূয়া নম্বর প্লেট তৈরি, চোরাই গাড়ি মালিকদের সাথে দাবিকৃত অর্থ আদায়ের সমন্বয় করার দায়িত্ব পালন করেন। এই আজিমের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মামলা রয়েছে। এছাড়াও গ্রেফতারকৃত অন্যদের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে।
আজিমের বিরুদ্ধে আগে মাদকের মামলা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক চোরাকারবারীসহ বিভিন্ন চোরাকারবারীতে এসব চোরাই গাড়ি ব্যবহৃত হয়েছে। তাদের সঙ্গে আজিমের পরিচয় মূলত জেলে। একসঙ্গে থাকার সময় তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে।
যেভাবে গাড়ি চুরি হয়……
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গাড়ি চুরির কৌশল সম্পর্কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, চক্রের একটি দল বিভিন্ন স্থানে গাড়ির তথ্য সংগ্রহ করে, বিভিন্ন পার্কিং সম্পর্কে তথ্য নেয়, গাড়ি মালিক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। এক পর্যায়ে গাড়ির মুভমেন্ট সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করে। চক্রটির একটি দল এসব তথ্য সংগ্রহের সাথে জড়িত। প্রথম দিকে তারা লক্ষ্যে থাকা পিকআপ-সিএনজির চালকদের তথ্য সংগ্রহ করে তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। সম্ভভ না হলে অনেক সময় প্রলোভন দেখানো হয়। অনেক সময় তাদের চেতনানাশক ঔষধ খাইয়ে অজ্ঞান করে গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয় চক্রটি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে চালকও এই চক্রের সঙ্গে মিলে গিয়ে তারা সম্মিলিতভাবে ভুক্তভোগী গাড়ির মালিককে হেনস্থা করে থাকে।
চক্রটির এক সদস্য গাজী মেকানিক হওয়ায় তিনি গাড়ির লক খোলা এবং গাড়ি স্টার্ট দিতে সক্ষম। এছাড়া তাদের কাছে এক ধরনের মাস্টার কি থাকে, যে কোন গাড়ি স্পটেই তারা স্টার্ট করতে পারে।
চক্রের অন্য একটি গ্রুপ চুরি হওয়া গাড়ির মালিকের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। পরবর্তী সময়ে মালিকের সঙ্গে অনিবন্ধিত মোবাইল সিম দিয়ে মালিকদের সাথে যোগাযোগ করেন। চোরাই ট্রাক, পিকআপ কিংবা সিএনজি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা দাবি করেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তারা টাকা সংগ্রহ করেন। দাবি অনুযায়ী টাকা পেলে চোরাইকৃত গাড়িটি কোনও এক জায়গায় ফেলে রেখে সেখানকার তথ্য দেয় গাড়িটি নিয়ে যাওয়ার জন্য।

Sharing is caring!