• ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ১০:৫৯
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

ছাত্রলীগ নেতার ফোনালাপ ফাঁস: সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়

bmahedi
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯, ০৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
ছাত্রলীগ নেতার ফোনালাপ ফাঁস: সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের ৭ মিনিট ২৭ সেকেন্ডের অডিও ক্লিপ ফাঁস হওয়ার পর ক্যাম্পাসে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এ মুহূর্তে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছাত্রলীগের সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সেই ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপ প্রসঙ্গ।

ইতিমধ্যে ৭ মিনিট ২৭ সেকেন্ডের অডিও ক্লিপটি বার্তা কন্ঠের  কাছে  এসেছে। ফোনালাপটি ঈদুল আজহার আগের বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

অডিও ক্লিপটিতে শোনা গেছে ইবি শাখা ছাত্রলীগের সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সঙ্গে অজ্ঞাত এক কণ্ঠস্বরের ফোনালাপ।

যেখানে রাকিব বলছেন তিনি টাকার বিনিময়ে এ অঞ্চলের নেতা বানানোর বিষয়টি দেখভাল করে থাকেন।

ফোনালাপে রাকিবুল ইসলাম রাকিব পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটিতে মাহমুদুল হাসান নামের এক প্রার্থীকে নেতা বানাতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

এ নিয়ে তারা ফোনালাপে বলেছেন:

অজ্ঞাত ব্যক্তি: পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওই ছেলেটা, ও বাড়ি টাঙ্গাইল। মেইনলি হচ্ছে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের সাপোর্টে আছে, ঠিক আছে?

রাকিব: নতুন এই কমিটিতে পোস্ট কি হইছে?

অজ্ঞাত ব্যক্তি: কি সম্পাদক যেন! সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, সেক্রেটারীর সাথে ভালো সম্পর্ক, ভিসির সাথেও ভাল সম্পর্ক। ঠিক আছে? তোমার মতই ভিসির সাথে ভাল সম্পর্ক।

অজ্ঞাত ব্যক্তি: টাঙ্গাইলের ওই ছেলে, ওই ছেলের হচ্ছে টাকা পয়সার অভাব নাই। সেই পরিবারের ছেলে নেতা হবে। এখন কি পলিসি খাটাবো?

রাকিব: ঢাকা যায়ে খাটতে হয়। খাটতে বলতে কি, বহুত কাঠ-খড়ি আছে.. তবে এখন আমার যে হিসাব-নিকাশ, রাব্বানী ভাইয়ের সাথে আমার যে সম্পর্ক, এ আঞ্চলিক এ বিষয়টা আমি যদি ভাইরে বলি ভাই আমার কথা শুনবে। ভাই অলরেডি আমাকে বলেছেও আঞ্চলিক বিষয়গুলো দেখার জন্য।

অজ্ঞাত ব্যক্তি: বিষয়টা হচ্ছে আমি তোমারে বলি, আমি বারবারই যে কথাটা বলেছি রাব্বানীর তোমার লবিংটা মেইনটেইন করতেই হবে.. রাকিব: আমি বলি, আমি আপনারে বলি ওর নেতা হতে হলে ভিসি স্যারের সাথে সম্পর্ক ভাল হতে হবে। ভিসি স্যার যদি বলে তাহলে ও নেতা হতে পারবে। আর ভিসি স্যারের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক। ভিসি স্যাররে আমি এখন পর্যন্ত কারো নাম বলিনাই।

* রাকিব ও অজ্ঞাত ব্যাক্তির কথোপকথনে উঠে এসেছে রাকিবের নেতা হওয়ার পেছনে টাকার বিনিময়ে কাঠ-খড়ি পুড়িয়ে ছাত্রলীগকে ম্যানেজ করার বিষয়টি।

একইসঙ্গে কথা বলেছেন পূর্বের কমিটি স্থগিত করার বিষয়েও।

এ সংক্রান্ত ফোনালাপের চুম্বক অংশ:

অজ্ঞাত ব্যক্তি: তোমার ইয়ে সম্পর্কে তুমি যেভাবে বলছিলে আরকি, বিভিন্নভাবে কমিটি ভাঙ্গা, গড়া, প্রিন্ট ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার খরচ-টরচ দিয়ে তোমারতো একটা বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে গেছে। রাকিব: হুমম.. হিউজ.. হিউজ..

অজ্ঞাত ব্যক্তি: সেই ফিগার তো আমি জানি, তা প্রায় মনে হয় চল্লিশের কাছে হবে..! রাকিব: হুমম..

অজ্ঞাত ব্যক্তি: এসব নিয়ে ওর হচ্ছে কোনো আপত্তি নাই, ওর কথা হচ্ছে যে কোনোভাবে হতে হবে। এখন কোন লাইনে হবে সেটা বড় কথা না, এখন করবা তুমি.. হতে হবে। রাকিব: হুম হতে হবে..

অজ্ঞাত ব্যক্তি: এখন ধরো সেক্ষেত্রে তোমারো, তুমি যেহেতু খরচ পত্র দিয়ে আসছো, আমি চাই তোমার এই খরচটা বেয়ার (পূরণ) হোক। ঠিক আছে? রাকিব: না ভাই শোনেন কোনো ছেলেরে ইয়ে করতে গেলে… । এখন আমার যা খরচ হইছে এটা কোনো ব্যপার না। ওইটা ছয় মাস গেলে সব ডাবল হয়ে যাবে, সমস্যা নাই। কিন্তু ওরে হচ্ছে ফোন দিতে কন আমি গিয়ে হচ্ছে দেখা করে আসবোনি।

অজ্ঞাত ব্যক্তি: শোভন বা রাব্বানী দুইটা লাইনই তো তুমি কনফার্ম করতে পারবা? রাকিব: হ্যাঁ, হ্যাঁ কনফার্ম করতে হবে

অজ্ঞাত ব্যক্তি: না সেটা না বলছি যে শোভন বা রাব্বানী দুইটা লাইনই তো তুমি কনফার্ম করতে পারবা? রাকিব: হ্যাঁ, হ্যাঁ পারব, দুইটাই পারবো।

অজ্ঞাত ব্যক্তি: সে জন্যই বলছি যে টাকার লাইনে ওর টাকার কোনো সমস্যা নাই। কিছুক্ষণের মধ্যেই তোমার সাথে কথা বলার কথা বলতেছি, আর সেটা যদি তুমি মনে করো সেক্ষেত্রে তুমি বলবা যে টাকার লাইনে হলে এভাবে কিভাবে কি করতে হয় সেটা তোমার দায়িত্ব তুমি শোভনেরে দিয়ে না রাব্বানীরে দিয়ে করবা, ওর মেইনলি সর্বশেষ যে কথা আমারে

বলেছে ঠিক আছে? সে কথাটা এরকম ওর মুটামুটি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা আছে, রাজনৈতিক পরিবার, ও নেতা হবে টাকা কোনো ব্যাপার না।

রাকিব: জি ভাই, ঠিক আছে ভাই।

রাকিব: ম্যাথের বোর্ডটা (ইবির) স্থগিত করার জন্য। বোর্ড করার জন্য আমরা কমিটি স্থগিত করি সিস্টেমে, সেটা আরেকটা লাইনে, এটা শোভনের লাইন।

* সাত মিনিট ২৭ সেকেন্ডের ফাঁস হওয়া ওই অডিও ক্লিপে আরও কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের একটি বোর্ডকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টের রায় টাকার বিনিময়ে কিনতে পাওয়া যায়।

টাকা হলেই চাওয়া অনুযায়ী রায় কেনা যায়।

এ সংক্রান্ত কথোপকথন:

রাকিব: সাইফুলের ওয়াইফ সে ব্যাপারটা কম বলেনি..অনেক টাকা লাগবে, ৩০ লাখ টাকা লাগবে। হাইকোর্টে রিট করতে হবে। কবে রায় কিনে নিয়ে আসতে হবে। সে লাইনও আছে, টাকা লাগবে। হাইকোর্টে এমন, এমন জায়াগায় এমন এমন লাইন আপনি যেভাবে রায় চাইবেন রায় সেভাবেই দেবে, টাকা লাগবে। এসব পথ আমি পাড়ি দিয়ে আইছি, তো রায়-মায় সব কিনা যায়, সব রায় কিনা যায়।

* বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন ড্রাইভার নিয়োগে প্রার্থী খোঁজার বিষয়টি উঠে এসেছে। টাকার বিনেময়ে নিয়োগ করে দিতে পারবেন বলেও কথা বলেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ড্রাইভার নিয়োগ দিতে রাকিবের কথোপকথন:

অজ্ঞাত ব্যক্তি: বিশ্ববিদ্যালয়ে কি ড্রাইভার ট্রাইভার নিয়োগ হবে এরকম কোনো….

রাকিব: ওইটাতো ঈদের পরে হবে। এখন আমি হচ্ছে…..আপনার হাতে কি কিছু আছে?

অজ্ঞাত ব্যক্তি: আছে, আছে। ঈদের আগে চাইলে কিছু এডভান্স নিতে পারো।

রাকিব: তাইলে ঈদের আগে কিছু ব্যবস্থা করে দেন আমারে। অজ্ঞাত ব্যক্তি: আচ্ছা ঠিক আছে।

রাকিব: আমি ঢাকায় যাচ্ছি, আর শোনেন ফোনে মনে হয় খুব রিক্স। এখন আমি মনে করেন যে.. বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাপার-স্যাপার খুবই তো। ঈদের পরে নিবে মনে হয়। অজ্ঞাত ব্যক্তি: হ্যাঁ, হ্যাঁ..

রাকিব: আপনি মিডিয়া হয়ে কথা বলেন যদি হয় কালকের মধ্যে কনফার্ম করেন। আমি ব্যবস্থা করে দিবোনে অজ্ঞাত ব্যক্তি: আচ্ছা..

রাকিব: আমি কারো সাথে কথা বলি নাই বুঝছেন, একটু ঝামেলার মধ্যে আছি। অজ্ঞাত ব্যক্তি: তুমি আমাকে একটা ধারনা দিয়ে যাও যে, ড্রাইভারের ব্যাপারে ফিগার কতো (কত লাগতে পারে) এই ধারনাটা দিয়ে দাও।

রাকিব: ও.. আমি বলি আপনারে.. আমি ম্যাসেঞ্জারে ফোন দিচ্ছি আপনারে..

ফাঁস হওয়া এই অডিও ক্লিপ প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি অডিও শুনেছি, তবে এ বিষয়ে আমার কোন আইডিয়া নেই। রাকিবকে ফোন করে কারণ জানতে চেয়েছি। তাকে শোকজ করা হবে। সে কেন, আর কার সঙ্গে কথা বলেছে এর ব্যাখ্যা অবশ্যই তার কাছে জানতে চাওয়া হবে।’

এ বিষয়ে ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব যুগান্তরকে বলেন, ‘অডিওটি আমার না। কিছু ষড়যন্ত্রকারী অডিও তৈরী করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

প্রসঙ্গত গত রোববার সাধারণ সম্পাদক রাকিবের সঙ্গে ওই ব্যাক্তির বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রাইভার নিয়োগ বাণিজ্যের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে ওই ব্যক্তিকে প্রার্থী যোগাড় করতে বলেন রাকিব।

এক মিনিটের অডিও ফাঁস হলে ওইদিনই একটি ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থাকায় জিডি করেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব। ডায়েরি নং- ৪২৫।

Sharing is caring!