• ৬ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ৭:৪৬
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

জলবায়ু সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নৈতিক কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত নভেম্বর ৬, ২০২১, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
জলবায়ু সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নৈতিক কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বার্তাকণ্ঠ ডেস্ক।। 

ররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬-এ নেতৃত্বের ভূমিকা পালনের সময় জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর নৈতিক কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন।

লন্ডন থেকে এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু ফোরামে নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েছে… আমাদের প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) এর নৈতিক কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ৪৮টি দেশের গ্রুপ ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) নেতৃত্ব দিয়ে কপ-২৬-এর ফলাফল প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হয়ে উঠেছেন।

বিবিসি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঁচজন চুক্তিকারকের অন্যতম হিসেবে অভিহিত করেছে এবং বলেছে যে, শীর্ষ সম্মেলনের সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ভর করে এ পাঁচজন আলোচকের ওপর, যাঁদের ফলাফলের ওপর বড় প্রভাব রয়েছে।

ড. মোমেন বলেন, ‘আমরা অনেক আশ্বাস পেয়েছি (জলবায়ু অর্থায়ন পাওয়ার বিষয়ে)… আমি কপ-২৬-এর ফলাফল সম্পর্কে খুব আশাবাদী।’

এরই মধ্যে ৩৭টি দেশ বাংলাদেশের মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে তাদের জাতীয় পরিকল্পনা তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, এটি বাংলাদেশের একটি অর্জন।

প্রতিশ্রুতি ১০০ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক জলবায়ু তহবিল সম্পর্কে ডা. মোমেন বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য প্রধানত দায়ী উন্নত দেশগুলো এরই মধ্যে তহবিলের জন্য একটি লাইন-আপ তৈরি করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি খাতের সহায়তায় এই তহবিল ট্রিলিয়ন ডলারও হতে পারে। তিনি বলেন, ৪৮-দেশের সিভিএফ নেতাদের সংলাপের পরে ঢাকা-গ্লাসগো ঘোষণা গৃহীত হয়েছে। কপ-২৬ সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং সিভিএফ থিম্যাটিক অ্যাম্বাসেডর সায়মা ওয়াজেদ হোসেনও স্কটিশ শহরের কপ-২৬ ভেন্যুতে ‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম লিডারস ডায়লগ : ফোরজিং এ সিভিএফ-কপ২৬ ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি প্যাক্ট’ শীর্ষক এ সংলাপে বক্তব্য রাখেন।

ড. মোমেন বলেন, ঢাকা-গ্লাসগো ঘোষণায় অভিযোজন ও প্রশমনে অর্থায়ন ৫০:৫০ অনুপাতে নিশ্চিতকরণ, কার্বন ট্রেডিংয়ের শেয়ার প্রাপ্তি, ক্ষয়-ক্ষতি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত করার জন্য ‘জলবায়ু জরুরি চুক্তি’ এর মধ্যে গ্রহণের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পর্কে ড. মোমেন বলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ব্যাপক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

বরিসকে উদ্ধৃত করে মোমেন বলেন, ‘ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অন্যদের বাংলাদেশকে অনুসরণ করা উচিত।’

মোমেন বলেন, বৈঠকে দুই প্রধানমন্ত্রী আগামী বছর দুদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি কীভাবে উদ্‌যাপন করবে, তা নিয়েও আলোচনা করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স অব ওয়ালেস প্রিন্স চার্লসের মধ্যকার বৈঠকে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২১ উদ্‌বোধন করেন, যেখানে তিনি যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের অনেক লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার অংশীদার হতে আমন্ত্রণ জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অংশীদারত্বে প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও বাংলাদেশে আসার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার লন্ডনের ক্লারিজ হোটেলে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে পাকিস্তনের তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থার গোপন নথির আন্তর্জাতিক প্রকাশনারও উদ্‌বোধন করেন।

ড. মোমেন বলেন, প্রকাশনাটি বাংলাদেশের রাজনীতি ও ইতিহাসের গবেষকদের জন্য একটি চমৎকার সম্পদ হবে।

এর আগে ৩১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন ও অন্যান্য উচ্চপর্যায়েরর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে দুই সপ্তাহের সফরে গ্লাসগো পৌঁছেন।

৩ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে পৌঁছেন এবং ৯ নভেম্বর তিনি ব্রিটিশ রাজধানী থেকে প্যারিসের উদ্দেশে রওনা হবেন।

প্রধানমন্ত্রী ১৩ নভেম্বর ঢাকার উদ্দেশে প্যারিস ত্যাগ করবেন এবং ১৪ নভেম্বর এখানে পৌঁছবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র – বাসস

বার্তাকণ্ঠ /এন

Sharing is caring!