জীবনের কিছু বাস্তব কথা

98
নজরুল ইসলাম ## জীবনটা অল্প সময়ের বলেই মাঝে মাঝে সবকিছু এতো সুন্দর মনে হয়। আমরা বেশি দিন ভালোবাসতে পারি না বলেই ভালোবাসার জন্য এতো হাহাকার। কেউ যদি কাউকে হাসাতে পারে,সে তাকে বিশ্বাস করবে এবং পছন্দও করতে শুরু করবে। হৃদয়ের গভীরে যে বসবাস করে, তাকে সব কিছু বলতে হয় না। অল্প বললেই সে বুঝতে পারে। মানবহৃদয় অনেকটা আয়নার মতো,সেই আয়নায় ভালোবাসা আলো পড়লে তা ফিরে আসবেই।

 

কাগজে -কলমে কোনো সৌন্দর্যের যথাথতা সমাধান করা সম্ভব নয়। সৌন্দর্যের মুখোমুখি গিয়ে আপনাকে দাঁড়াতে হয়। সুখী হওয়ায় একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে মানুষের যা অনুভব করা সম্ভব না । এ জগৎের প্যাচ বেশি বুঝলেই জীবন জটিল হয়ে পরে মানুষের।

 

জীবনের সব শখ মিটে গেলে বাঁচার ইচ্ছেটা নষ্ট হয়ে যায়। যেসব মানুষের শখ মিটে গেছে তারা অসুখী। যাদের কাছে ঘুম আনন্দময় তারাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। অতি সামান্য কিছু জিনিসও মানুষকে অভিভূত করে ফেলতে পারে।

 

খুব বেশি সুন্দর কোনোকিছুই দীর্ঘস্হয়ী হয় না। ভালো মানুষরাও বেশি দিন বেঁচে থাকে না। স্বল্পায়ু নিয়ে তারা এই পৃথিবীতে আসে। যখন কেউ কারো প্রতি মমতা বোধ করে, তখনই সে লজিক থেকে সরে আসতে শুরু করে। মায়া, মমতা, ভালোবাসা এসব সমালোচনার বাইরের ব্যাপার

 

বেশি নৈকট্য দূরত্ব সৃষ্টি করে। তাই প্রিয়োজনদের কাছ থেকে দূরে থাকাই ভালো। সম্পর্ক কখনো স্থির হয় না, হয় পরিবর্তনশীল। অল্প সময় যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, উষ্ণতা কমে যেতেই তার সময় লাগে না। স্মৃতি, সুখ বা দুঃখ যাই হোক সবসময়ই কষ্টের। দুঃখ-কষ্ট -বেদনা ছাড়তে হয় না ছাড়তে হয় আনন্দ। জীবনের দু:খ- কষ্ট ভুলে যাওয়া কঠিন। তবে জীবনের সুখ স্মৃতি মনে রাখা তার চেয়েও একটু বেশি কঠিন।

 

মোহের কাছে পরাজিত হওয়ার ঠিক নয়।কিন্তু খুব অল্প মানুষই মোহ যুদ্ধের কাছে অপরাজিত থাকে। সুন্দর স্বপ্ন আফসোসের ও কারণ।বাস্তবতা যতই সুন্দর হোক , স্বপ্নের মতো কখনোই হয় না।স্বপ্ন পূরণ হতেই হবে সেটা কিন্তু সত্য নয়।

 

আমাদের কে স্বপ্ন দেখতে হবে আর সেটার জন্য আমাদের কাজ ও করতে হবে -এটা হচ্ছে সত্য। এগুলো সব জীবনের কিছু বাস্তব কথা।

 

কেউ ‘কে কথা দেওয়ার আগে তার একটু হলেও ভাবা উচিত। মিথ্যা বলে কাউকে সত্য বলে কাঁদানো অনেক ভলো।
চোখের জলের মতো পবিত্র আর কিছু নেই, এই জলের স্পর্শে সব গ্লানি -মালিন্য ধুযে মুছে যায়।

 

কিছু কথা শুধু নিজের মধ্যেই রাখো,দ্বিতীয় কেউকে বলো না কোনোভাবেই না। দুইজন জানলে বিষটা গোপন থাকে,কিন্তু তিনজন জানলে নাও থাকতে পারে।আর চারজন জানা মানে সবাই এক সময় জেনে যাবে। রহস্য সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে আর কৌতূহলের জন্ম দেয়। বলার আগে শুনে নাও, প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে চিন্তা করো,সমালোচনার আগে ধৈর্য ধরো,প্রার্থনার আগে ক্ষমা চাও,ছেড়ে দেওয়ার আগে চেষ্টা করো,ফেলে দেওয়ার আগে চিন্তা করো। না চাইতেই যা পাওয়া যায় তা মূল্যহীন।

 

পায়ের আলতা খুব সুন্দর জিনিস। আলতাকে সবসময় গোড়ালীর নিচে পড়ে থাকতে হয়,এর উপরে সে উঠতে পারে না।অতিরিক্ত যেকোনো কিছু পতন নিয়ে আসে, সবকিছু তাই নিদিষ্ট সীমায় রাখাই শ্রেয়।চুপ থাকা খুব একটি সহজ কাজ। অনেক পারস্পরিক সমস্যা কেবল নীরব থাকা থেকে সমাধান করা যায়। তবে মানুষের সবচেয়ে বড় অক্ষমতা হ’ল তিনি মুখ বন্ধ রাখতে পারবেন না, তিনি অহেতুক অনর্গল কথা বলে।

 

দুর্নামকারীরা সাধারণত আড়াল প্রিয়।আমাদের সামনে ভালো মানুষ সেজে বসে থাকে। বুদ্ধিকম ব্যাক্তিরা তর্কবাজ হয়,নিজের বুদ্ধির অভাব তর্ক দিয়ে লোকাতে চায়।

 

বিচার যখন থাকে না,সমস্যার সমাধানও হয় না,সব সমস্যা বরং পুন্জীভুত হয় হয় আরও।আমাদেরও তাই হচ্ছে।পরিস্থিতিই মানুষকে তৈরি করে। পরিস্হিতি যখন বদলে যায়, মানুষও তখন পাল্টে যায়। মানুষ আসলে জলের মতো,জল যেমন পাএের সঙ্গে সঙ্গে সে তার আকার বদলায়।এই পৃথিবীতে দিনই সম্ভাবনার।সম্ভাবনাময়ী এখানে আসলে আমাদের প্রতিটি মুহূর্তই।

 

মানবজাতি ধীরে ধীরে সব ধরনের সুযোগকেই উপলব্ধি করে।অবশ্যই তার সব সম্ভাবনাকে বাস্তবে রুপ দিবে।
উপকার করার পরে। আমি উপকার করেছি বলার চেয়ে সাহায্য না করাই উত্তম ।

 

জীবনের মূল বিষয় গুলো মানবজাতির কাছে খুব রহস্যাবৃত হয়ে থাকে।এর চেয়ে সুন্দর আর কি ?

 

চলতে শুরু না করলে পথ হারাবার ভয় থাকে না। কিন্তু তাতে গন্তব্যে পৌছানোর আশাও ফুরিয়ে যায়।

 

মৃত্যুপথযাএী মানুষ কারও কাছ থেকে বিদায় নেয় না।মায়া নামক ভ্রান্তি তাকে ত্যাগ করে। গ্রাস করে তখন ভয় নামক অনুভূতি।মৃত্যুর ভয় নয়, কুৎসিতও নয়। এর সৌন্দর্য জন্নের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এই অংশের সাথে পরিচিত নয় বলেই
আমরা একে এতোটা ভয় পাই। এগুলো সব জীবনের কিছু বাস্তব কথা।

 

ভয়াবহ বিপদের সামনে মানুষ খুব অসহায় হয়ে পড়ে।একে অন্যের কাছে আশ্রয় খোঁজে ।সবাই দাঁড়িয়ে যায় একই কাতারে। বড় ধরনের বিপদ – আপদের প্রয়োজন তাই পৃথিবীতে এখনও আছে।প্রতিটি বিপদের দুটি অংশ থাকে। বিপরীত অংশটি হলো জীবন। নগর টাকা আলাদীনের চেরাগের মতো, হাতে থাকতে পৃথিবী নিজের হয়। পথ কখনো শেষ হয় না,দীর্ঘ ভ্রমণের পর গন্তব্যে পৌঁছে ও কেউ নীরব থাকে না। ছুটতে শুরু করে অন্য কাজে,অন্য পথে অন্য কোনো লক্ষ । এক একটি দিন শেষ করে আমরা এগুতে থাকি চুড়ান্ত যাএার পথে। মানব মৃত্যুই পথের সমাপ্তি। নিরন্তর ছুটে চলা মানুষের শেষ গন্তব্য।

 

সবাই মারা যায়। কিন্তু সবাই চলে যায় না। নিঃস্বার্থ কর্মী মানুষরা মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকে, কর্মপূণ্যে থেকে যায় মানুষের অন্তররে, যুগের পর যুগ ধরে। সৎ থাকো অবশ্যই জীবনে সফল হবে।

সংগৃহীত