• ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ভোর ৫:১৮
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

জীবিকা উপার্জনের বৈধ পন্থা

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত নভেম্বর ২, ২০২১, ১৭:৫৭ অপরাহ্ণ
জীবিকা উপার্জনের বৈধ পন্থা
হাফেজ মাওঃ মেহেদী হাসান।।
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقًا مِنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْإِثْمِ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ
য়াতের তরজমা: “তোমরা অন্যায়ভাবে অবৈধ পন্থায় একে অপরের ধন-সম্পদ গ্রাস করো না এবং জনগণের সম্পদের কিয়দংশ জেনে বুঝে বাতিল পন্থায় আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে শাসকদের হাতে তুলে দিও না।” (বাকারা-১৮৮)
শানে নুযূল : প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে দুই ব্যক্তির মধ্যে একটি জমি নিয়ে বিবাদ হয়। পরিশেষে তারা এর মীমাংসার জন্য প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দরবারে উপস্থিত হয়। তাদের মধ্যে বাদী পক্ষের কোন সাক্ষী ছিল না। ফলে শরয়ী বিধান অনুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিবাদী পক্ষকে আল্লাহর নামে শপথ করতে বললেন (অর্থাৎ বিবাদী বলবে, আমি আল্লাহর নামে শপথ করছি যে, এই ভূমি আমার মালিকানা, বাদী পক্ষ এর মালিক নয়) তার শপথের পূর্বেই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত শুনিয়ে দিলেন, যার মর্মার্থ হচ্ছে এই, “যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা অঙ্গীকার করে শপথ করার মাধ্যমে পার্থিব সামান্য বস্তু ক্রয় করে, তাদের পরিণতি হলো আখিরাতে তাদের নেকীর কোনই অংশ নেই, আল্লাহ পাক তাদের সাথে কথাও বলবেন না এবং তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টি নিক্ষেপ করবেন না। আর তাদেরকে গুনাহ থেকেও পবিত্র করবেন না। এবং তাদের জন্য অপেক্ষমাণ থাকবে, ভয়াবহ কঠিন আযাব”। (সূরা আলে ইমরান-৭৭)
এই ভয়ংকর বিধান সম্বলিত আয়াত কর্ণগোচর হওয়াতেই সে বিবাদী মিথ্যা শপথ করা হতে বিরত থাকল। এরপর প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাদীপক্ষকে জমি হস্তান্তর করলেন।
প্রিয় নবী গাইব বা অদৃশ্য বিষয়ে জানতেন নাঃ
উক্ত আয়াত থেকে যেসব বিষয় প্রমাণিত হয় তন্মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এই যে, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাইব জানতেন না। আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে জানানো ব্যতিরেকে অদৃশ্যের কোন বিষয় সম্পর্কে তাঁর ইলম ছিল না। এটা একমাত্র মহান আল্লাহ পাকের একক  বৈশিষ্ট্য। শুধু উক্ত আয়াতেই নয়, বরং বহু সংখ্যক আয়াত ও হাদীস দ্বারা এ বিষয়টি প্রমাণিত। তাছাড়া প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক জীবনের শত-সহস্র ঘটনাও এর জ্বলন্ত প্রমাণ বহন করে। সকল সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন আইম্মায়ে মুজতাহিদীন এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজস্ব ভাবে কোন গাইব জানতেন না। তবে গায়েবের অনেক খবর আল্লাহ তা‘আলা তঁকে জানিয়ে দিয়েছিলেন। আর আল্লাহ তা‘আলা জানিয়ে দেয়ার পর তা আর নিজ থেকে গাইব জানা হয় না। যারা এতে দ্বিমত পোষণ করে তাদের ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাইব জানতেন না বলেই তিনি নিজ থেকে উল্লেখিত বিষয়ের কোন ফয়সালা দিতে পারলেন না। বরং শরয়ী বিধান অনুযায়ীই ফয়সালা দিলেন। যদি তিনি গাইব জানতেন, তাহলে উভয় পক্ষের যে সত্যবাদী তাকেই নির্দ্বিধায় উক্ত জমি দিয়ে দিতেন, আর অপর পক্ষকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে শাস্তি দিতেন। সাহাবায়ে কেরামের বিশ্বাসও এটা ছিল যে, তিনি গাইব জানতেন না। অন্যথায় তাঁরা প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট শরয়ী ফয়সালার জন্য আসতেন না এবং গাইবী ইলম দ্বারা মূল মালিককে সম্পদ হস্তান্তর করার সুপারিশ করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন গাইব জানতেন না, তাহলে অন্য কোন পীর-বুযুর্গের বা জ্বীনদের গাইব জানার প্রশ্নই উঠে না। কেউ দাবী করলে সে মিথ্যুক হবে। আর কেউ বিশ্বাস করলে তার ঈমান নষ্ট হবে।
 বার্তাকণ্ঠ/এন

Sharing is caring!