• ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৫২
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

ঝাঁপিয়ে পড়ে পবিত্র কুরআন রক্ষা, যুবককে ‘হিরো অব দ্যা মুসলিম’ উপাধি!

bmahedi
প্রকাশিত নভেম্বর ২৫, ২০১৯, ২১:৪৩ অপরাহ্ণ
তানভীর মহসিন :=

জনসম্মুখে এক অমুসলিম পবিত্র কুরআন জ্বালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পবিত্র কুরআন রক্ষা করেন ইলিয়াস নামের এক যুবক। সম্প্রতি সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এই কারণে ইলিয়াসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে মুসলিমবিশ্ব। ইলিয়াসকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘হিরো অব দ্যা মুসলিম’ বলে আখ্যাও দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে নরওয়ের ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড শহরে।

জানা যায়, গত শুক্রবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ওই শহরটিতে উগ্রবাদী সংগঠন ‘স্টপ ইসলামাইজেশন অব নরওয়ে’ একটি কর্মসূচির আয়োজন করে। কর্মসূচির এক পর্যায়ে সংগঠনটির প্রধান লার্স থোরসেন কুরআন পোড়ানোর চেষ্টা করে। এ ঘটনা দেখতে পেয়ে ছুটে গিয়ে তাকে বাধা দেয় এক মুসলিম যুবক।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে বেড়িকেড টপকে ওই যুবক লাফ দিয়ে লারসেনের কাছে চলে যায় এবং তার হাত থেকে পবিত্র কোরআনাটি কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এরপর লারসন ও তার লোকেরা যুবককে মারতে শুরু করে। পুলিশ এসে লারসনসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে।

ওই মুসলিম যুবকের নাম ইলিয়াস বলে জানা গেলেও তার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগা মাধ্যমে তাকে নিয়ে প্রশংসার জোয়ার উঠেছে রীতিমতো। অনেকেই তাকে ‘হিরো অব দ্য মুসলিম’ উপাধি দিয়েছেন। শত শত মানুষ এ বিষয়ে পোস্ট দিয়েছেন। কেউ ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই কর্মসূচির বিষয়ে থারসনকে আগেই পুলিশের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা অম্যান্য করে কোরআন পোড়ানো পদক্ষেপ নেন। পাকিস্তান ও তুরস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেছে নরওয়েবাসীর প্রতি। পাকিস্তানের বেশ কিছু জায়গায় এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভও হয়েছে।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পাকিস্তান ইউনিয়ন নরওয়ে (প্যান) এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। প্যান এর চেয়ারম্যান চৌধুরী কামার ইকবাল বলেন, একজন ব্যক্তি পবিত্র কোরআনের অবমাননা করে মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

তিনি আরো বলেন, নরওয়েজিয়ানরা শান্তিপূর্ণ মানুষ, মুসলিমরাও এখানে শান্তিতে বসবাস করছিলো, যদিও ইদানিং ইসলামফোবিয়া বৃদ্ধি পেয়েছে, তারপরও নরওয়ে অন্যান্য ধর্মের অধিকারকে সম্মান করায় তারা বিশ্বজুড়ে বেশ সুনাম অর্জন করেছে।উল্লেখ্য, উত্তর ইউরোপের দেশ নরওয়েতে দেশটির নাগরিকদের মাঝে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলাম গ্রহণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক ভারডেনস গ্যাঙ্গে এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল স্টাডিজ অ্যান্ড অরিয়েন্টাল ল্যাঙ্গুয়েজ বিভাগের একজন গবেষকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিবছর প্রায় তিন হাজার করে নরওয়েজিয় নাগরিক ইসলাম গ্রহণ করছে। যা ১৯৯০ সালের দিকে বছরে পাঁচশত জনের হার থেকে কয়েকগুণ বেশি।

এছাড়া পূর্বে নরওয়েজিয় নারীদের মাঝে মুসলিম পুরুষদের বিবাহ করার জন্য ইসলাম গ্রহণের একটি প্রবণতা থাকলেও বর্তমানে সেই চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “বর্তমানে নারীরা ইসলাম সম্পর্কে পরিপূর্ণ অধ্যয়ন ও গবেষণার পর ইসলাম গ্রহণ করছে।”জানা যায়, ১৯৬০ এর দশকে প্রথম নরওয়েতে মুসলমানদের অবস্থান দৃশ্যমান হতে থাকে। ১৯৭৪ সালে রাজধানী অসলোতে প্রথম মসজিদ স্থাপিত হয়। বর্তমানে নরওয়েতে মুসলমানরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জনগোষ্ঠী। ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশটিতে মোট জনসংখ্যার ২.৩ শতাংশ মুসলমান।

Sharing is caring!