• ১৯শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ৮:৪৭
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

ঝিনাইদহে কৃষকদের নতুন কৌশল

bmahedi
প্রকাশিত মে ২, ২০২১, ১৪:৪৭ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে কৃষকদের নতুন কৌশল

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ## ফসল রক্ষায় ঝিনাইদহে কৃষকদের নতুন উদ্ভাবনী কৌশল দেখা গেছে। যা অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে। কৃষক বেড়া বানাচ্ছেন গো-খাদ্য নেপিয়ার ঘাস দিয়ে।

কৃষকদের দাবি, আগে ফসল রক্ষার্থে তারা শুধুমাত্র বাঁশের তৈরি বেড়া ব্যবহার করতেন। তাতে ব্যয় হতো বেশি। তার চেয়ে বড় কথা বছর ঘুরতে না ঘুরতে সে বেড়াও বেশি দিন টিকতো না বা নতুন করে তৈরি করতে হতো। কিন্তু ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার মাঠে মাঠে এবার তার ভিন্নরূপ দেখা যাচ্ছে।

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কৃষক বাবু মন্ডল। তিনি তার ১৬ শতক জমিতে পেয়ারার চাষ করেছিলেন। এই পেয়ারার চারা রোপনের সাথে সাথে ক্ষেতের আইলে নেপিয়ার ঘাসের চারাও রোপন করেন।

 

তিনি জানান, পেয়ারা গাছ থেকে পেয়ারা বিক্রি করে যেমন পয়সা পেয়েছেন তেমনই আইলে থাকা ঘাসও বিক্রি করেছেন। কিছু ঘাস বাড়িতে থাকা গরু-ছাগলের খাবার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এখনো তার ক্ষেতের আইলে এই ঘাস রয়েছে। আগামীতে ওই জমিতে ঝাল গাছ লাগাবেন।

বাবু মন্ডল একা নন, বিভিন্ন এলাকার মাঠে কৃষকরা তাদের ক্ষেতের ফসল রক্ষায় বেড়া হিসেবে নেপিয়ার ঘাস বেছে নিয়েছেন। মাঠের পর মাঠ এই ঘাস লাগিয়ে তা দিয়ে বেড়া তৈরি করে ফসলের ক্ষেত ঘেরা হয়েছে। ফসল রক্ষার্থে কৃষকদের এমন উদ্ভাবনী কৌশল আরো দেখা মেলে কোটচাঁদপুর উপজেলার লক্ষীকুন্ডু, বলুহর, ফুলবাড়ি, এলাঙ্গী গ্রামের মাঠে।

কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, গত তিন থেকে চার বছর হলো কৃষকরা নিজেরাই এই ঘাস গাছ দিয়ে জমিতে বেড়া তৈরি শুরু করেছেন। তিনিও একটি জমিতে এই ঘাসের বেড়া দিয়েছেন। এভাবে তিনি ফসল রক্ষা করছেন।

বলুহর গ্রামের কৃষক বজলুর রহমান জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে কুলের চাষ করেছেন। সেই জমিতে ঘাস দিয়ে বেড়া দিয়েছেন। প্রথমে ঘাসের চারা রোপন করতে হয়। অল্প সময়ে এটা বেড়ে ওঠে। দেড় থেকে দুই ফুট লম্বা হলেই বাঁশের চটা (সলা) দিয়ে বেঁধে দিতে হয়। এরপর ঘাস গাছগুলো এতো শক্ত হয়ে যায় যে ইচ্ছা করলেও গরু-ছাগলে নষ্ট করতে পারে না।

কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী চলতি বছর কোটচাঁদপুর উপজেলায় প্রায় ১৩০০ বিঘা জমিতে এই ঘাসের চাষ হয়েছে।

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মহাসিন আলী জানান, ঘাস দিয়ে বেড়া তৈরি করছেন কৃষকরা। এটা তারা দেখেছেন। এটা অবশ্যই ভালো একটা কাজ। কৃষক এতে লাভবান হচ্ছেন। ক্ষেতের ফসল রক্ষার পাশাপাশি কৃষকরা জমির আইল থেকে পশুখাদ্য পেয়ে যাচ্ছেন।

Sharing is caring!