• ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৪:৩৮
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায়

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত অক্টোবর ২৯, ২০২১, ২০:৫৬ অপরাহ্ণ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায়

স্পোর্টস ডেস্ক।। দুই দলই হেরেছিল নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই। সে কারণে আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প ছিল না বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ময়দানে লড়াইটাও হয়েছে সমানে সমান। যেখানে শেষ পর্যন্ত তিন রানে পরাজিত বাংলাদেশ।
শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে জয় সেমিফাইনালের আশা টিকে রইলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তবে বিদায় ঘণ্টা বাজেনি বাংলাদেশের। কাগজে-কলমে এখনও রয়েছে সম্ভাবনা। যা প্রায় অসম্ভবের পর্যায়েই পড়ে। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় আগে ব্যাট করতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা সাত উইকেট হারিয়ে ১৪২ রান সংগ্রহ করে। জবাব দিতে নেম বাংলাদেশের ইনিংস থামে পাঁচ উইকেটে ১৩৯ রানে। ফিল্ডিংয়ে তিন ক্যাচ মিস আর ব্যাটিংয়ে দায়িত্বহীনতার কারণে শেষ ওভারে গিয়ে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ১৪২ রানের জবাবে খেলতে নেমে শুরুতেই চমক দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রায় ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ওপেনিংয়ে নামেন সাকিব। এর আগে কখনও ইনিংসের সূচনা করতে দেখা যায়নি তাকে।
চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে প্রথম পাঁচ ম্যাচে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটির সংগ্রহ ছিল যথাক্রমে ৮, ১১, ০, ৪০ ও ১৪ রান।
লিটন-নাইমের উদ্বোধনী জুটি সে অর্থে জমেনি একটি ম্যাচেও। এ কারণেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লিটন দাসকে ব্যাটিং অর্ডারে নিচে পাঠিয়ে সাকিবকে আনা হয় ওপেনিংয়ে। সাকিব-নাঈম অবশ্য শুরুতে দেখে শুনেই খেলছিলেন। রান তুলছিলেন স্কোরবোর্ডে নজর রেখে। চার ওভারে তোলেন ২০ রান। বিপদ ঘটে পঞ্চম ওভারে। আন্দ্রে রাসেলের বোলিংয়ে তৃতীয় বলে তুলে  নেন সাকিবের উইকেট। স্লো পিচে বল ঠিকমতো ব্যাটে না আসায় লিডিং এজ হয়ে তিনি নয় রানে ক্যাচ আউট হন হোল্ডারের হাতে।
পরের ওভারে জেসন হোল্ডারের বল বোল্ড হন নাঈম। এই ওপেনার ফেরেন ১৯ বলে ১৭ রানে। রানের চাহিদা মেটাতে জুটি গড়ে খেলতে থাকেন লিটন ও সৌম্য সরকার। মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানো এই জুটি ভাঙেন বামহাতি স্পিনার আকিল হোসেন। ১৩ বলে ১৭ রান করা সৌম্যকে গেইলের ক্যাচ বানিয়েছেন।
লিটন তখনও একপ্রান্ত আগলে ছিলেন। মূলত তার দায়িত্বশীল ইনিংসেই জয়ের স্বপ্ন বেঁচে থাকে শেষ পর্যন্ত। এই সময়ে মুশফিকুর রহিম ট্রেড মার্ক স্কুপে বোল্ড হলে চাপটা বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। তার পরেও জয়ের সম্ভাবনায় শেষ ওভারে ম্যাচ টিকে থাকে লিটন-মাহমুদউল্লাহর কল্যাণেই। লিটন ১৯তম ওভারের শেষ বলে ফিরলে ম্যাচ গিয়ে দাঁড়ায় টান টান উত্তেজনায়। শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ১৩ রান। কিন্তু টান টান সেই মুহূর্ত সামাল দিতে ব্যর্থ হন মাহমুদউল্লাহ। এই ওভারে আসে নয় রান। তাতেই ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায় মাহমুদউল্লাহদের। ফলাফল ৫ উইকেটে ১৩৯ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
ক্যারিবীয়দের হয়ে একটি করে উইকেট নেন রবি রামপল, জেসন হোল্ডার, আন্দ্রে রাসেল, আকিল হোসেন ও ডোয়াইন ব্রাভো।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং ইনিংসে শেষ পাঁচ ওভারে আসে ৫৮ রান। মাত্র ৬২ রানে চার উইকেট হারিয়েও তারা সমৃদ্ধ স্কোর পায় নিকোলাস পুরানের কারণে। ২২ বলে একটি চার ও চারটি ছক্কায় ৪০ রানের ইনিংসের খেলেছেন। ম্যাচ সেরাও হন তিনি। শেষ দিকে জেসন হোল্ডারের পাঁচ বলে দুই ছক্কায় খেলা হার না মানা ১৫ রানেরও ভূমিকা ছিল। সঙ্গে কৃতিত্ব পাবেন রোস্টন চেজ। আক্রমণাত্মক নয় বরং  ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেছেন। পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে ৪৬ বলে মাত্র দু’টি বাউন্ডারিতে ৩৯ রানের কার্যকারী ইনিংস খেলেছেন তিনি।
কাইরন পোলার্ড স্বেচ্ছায় মাঠ ছেড়ে গিয়েছিলেন। পরে ফিরে এসে ইনিংসের শেষ বলে মেরেছেন ছক্কা। ওই ছক্কায় ক্যারিবিয়ান অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ১৮ বলে অপরাজিত ১৪ রান। তাতেই ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ শেষ দিকে বেড়েছে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার শরিফুল ইসলাম। বাঁহাতি পেসার চার ওভারে মাত্র ২০ রানে নেন দু’টি উইকেট। শেখ মেহেদী হাসানও দুর্দান্ত। চার ওভারে ২৭ রান খরচায় তার শিকারও দু’টি উইকেট। মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন দু’টি উইকেট, তবে চার ওভারে তার খরচ ৪৩ রান।

Sharing is caring!