• ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ১:০৬
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

তরুণদের এই ত্যাগই প্রমান করে ইসরাইলের ধ্বংস অনিবার্য’

bmahedi
প্রকাশিত জুন ২৮, ২০১৯, ২১:০১ অপরাহ্ণ

নুরুজ্জামান লিটন ।।

তরুণদের ত্যাগই বলে ইসরাইলের ধ্বংস অনিবার্য’ আহেদ তামিমি, ফিলিস্তিনি তরুণী। প্রতিবাদের প্রতীক, প্রতিরোধের আইকন। ইসরাইলবিরোধী ফিলিস্তিনি যুবাদের আদর্শ। গোটা বিশ্বে নিজেকে তামিমি তুলে ধরেছেন অন্যভাবে। ইসরাইলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে তিনি যখন প্রথম প্রতিবাদে অংশ নেন, বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর।

এক দশক পেরিয়ে তামিমি এখন পুরোদস্তুর তরুণী। রাশিয়ান আরটি স্পুটনিকে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে গতকাল শনিবার তিনি তার লড়াইয়ের গল্প বলেছেন। ফিলিস্তিনি এই অ্যাক্টিভিস্ট বেড়েই উঠেছেন ইহুদি ইসরাইলি দখলের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত প্রতিবাদের মধ্যদিয়ে।

নিজে জীবনের প্রথম যে প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হন, বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর। দীর্ঘ ১০ বছর পরেও তামিমির চিন্তাজগৎ একই রয়েছে। ইসরাইলের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্কে তিনি বিশ্বাস করেন না।

২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর আহেদ তামিমি মায়ের সঙ্গে পশ্চিমতীরের নাবি সালেহ গ্রামে নিজেদের বাড়ি যাওয়ার পথে দখলদার ইসরাইলি সেনারা তাদের পথরোধ করে। এ সময় তিনি দুই ইসরাইলি সৈন্যের গালে চড়-থাপ্পড় দিয়ে আলোচনায় আসেন।

ইতোমধ্যে বিশ্বে তামিমি প্রবল সাহসী কিশোরীর খেতাব অর্জন করেছেন। এরপর মাসহ তাকে গ্রেফতার করে ইসরাইল। দীর্ঘ আট মাস ইসরাইলি কারাগারে বন্দিজীবন শেষে ২০১৮ সালের জুলাইয়ের শেষদিকে তামিমি মুক্তি পান।

ইসরাইলি সৈন্যদের মারধরের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তামিমি ফিলিস্তিনি কিশোর-তরুণদের কাছে রাতারাতি প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন। জর্জ গ্যালাওয়ের উপস্থাপনায় আরটি স্পুটনিকের অনুষ্ঠানে আহেদ তামিমি বলেন, ‘আমি সব সময় বিশ্বাস করি- ফিলিস্তিনি যুবারা আমার মতোই ভবিষ্যতেও ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি আমার প্রতিবাদের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছি। এখন অনেকেই সেটিকে কাজে লাগিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিনের জন্য আমাকে অনুসরণ করছেন।’ তামিমি বিশ্বাস করেন, ‘ইসরাইলের এই দখলদারিত্ব কোনো দিনই টিকবে না। কারণ, আমাদের মতো অসংখ্য ফিলিস্তিনি শিশু রয়েছে, যারা ইসরাইলি দখলের প্রতিবাদ করছে।

শহীদদের কথায় ধরুন, তারাতো ফিলিস্তিনের জন্যই শহীদ হয়েছে। এই ত্যাগের কোনো মূল্য দেয়া সম্ভবর নয়। ১৯, ২০, ১৮ কিংবা ১৬ বছরের যুবারা নিজেদের জীবনই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য উৎসর্গ করেছে। এখনো এমন অনেক ফিলিস্তিনি আছে, যারা এই এক প্রশ্নেই অকাতরে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত রয়েছে।’

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা প্রশ্নে আজীবন ইস্পাত কঠিন লড়াইয়েও প্রস্তুত তামিমি। এজন্য তিনি সংলাপের মাধ্যমে ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাতের নিরসনের ধারণা সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দেন। তামিমি জানান, তার পরিবার ইসরাইলি সেনাদের হাতে অনেক নির্যাতন ভোগ করেছে। তার বাবাকে প্রথম যখন ইসরাইলি সৈন্যরা গ্রেফতার করে, তামিমির বয়স ছিল মাত্র তিন বছর।

ওই বয়সেই তো তাকে বহুবার কারাগারে আসা-যাওয়া করতে হয়েছে। বড় হওয়ার পরেতো নিজেই কারাবন্দি হয়েছেন। সেখানে তাকে উপর্যুপুরি নির্যাতন করা হয়েছে। একবারতো নির্যাতন করে কোমাতেও পাঠানো হয়েছিল। তামিমির মা ইসরাইলি সৈন্যদের হাতে ছ’ছয়বার গ্রেফতার হয়েছেন। নির্যাতনে পায়ে এমন জখম হয়েছে, তিনি দুই বছর হাঁটতে পারতেন না।

তামিমির এক চাচাকে ইসরাইলি সৈন্যরা গুলি করে হত্যা করেছে। যে কোনো সময় নিজেও মারা পড়তে পারেন, জেনেই ঝুঁকি নিয়ে প্রতিবাদ করে আসছেন। ফলে এখন আর এ নিয়ে কোনো ভয়ডর তার ভেতরে কাজ করে না বলে স্পষ্ট করেন। আহেদ তামিমি বলেন, ‘আমি ৮ বছর বয়সে প্রথম প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নেই।

সে সময়ে আমি খুবই ভিত ছিলাম। কিন্তু, পরে আরও বিভিন্ন প্রতিবাদে অংশ নেয়ায় ভয় একেআরে চলে গেছে।’ ইসরাইলের নিপীড়নের শিকার হয়ে নিজেকে ‘নির্যাতিতা’ বলতে রাজি নন এই ফিলিস্তিনি তরুণী। তিনি নির্যাতিতার চেয়ে নিজেকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ বলতে বেশি পছন্দ করেন। আহেদ তামিমি বিশ্বাস করেন, ‘স্বাধীনতার সবচেয়ে জনপ্রিয় পথ হলো প্রতিরোধ করা এবং সব সময় যেভাবেই হোক দখলদারদের মোকাবেলা করে যাওয়া।’

Sharing is caring!