• ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৪:৫৭
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

দেশে আর কোনো ভ্যাকসিন ঘাটতি থাকবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত আগস্ট ১৬, ২০২১, ২৩:৩৬ অপরাহ্ণ
দেশে আর কোনো ভ্যাকসিন ঘাটতি থাকবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার।। 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে আর কোনো ভ্যাকসিন ঘাটতি থাকবে না। তবে ভ্যাকসিন উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি শুরুর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ চীন, রাশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশের কাছ থেকে ভ্যাকসিন গ্রহণ কাজ চলমানসোমবার(১৬ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বিসিপিএস অডিটোরিয়াম হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত চীনের সিনোফার্ম ভ্যাকসিন যৌথভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যে সিনোফার্ম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেডের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চীন সব সময়ই বাংলাদেশের পাশে বন্ধুর মতো হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আজকের চীন-বাংলাদেশ ভ্যাক্সিন চুক্তির মাধ্যমে দেশে ভ্যাকসিনের ঘাটতি মেটাতে চীন আরেকবার তার বন্ধুত্বের গভীরতা প্রমাণ করেছে। এই চুক্তি দেশের জন্য এক বিরাট মাইলফলক হয়ে থাকবে। দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে আজকের এই চুক্তি বিরাট ভূমিকা পালন করবে এবং দেশে আর কোনো ভ্যাকসিন ঘাটতি থাকবে না।’


এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ খুব তাড়াতাড়ি দেশেই ভ্যাকসিন উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ভ্যাকসিনের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে এ পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রায় ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন চলে এসেছে। যা থেকে ১ম ধাপে দেড় কোটি ডোজ এবং ২য় ধাপে ৫৪ লাখ ডোজ মানুষ গ্রহণ করেছে। অবশিষ্ট এক কোটি ডোজ ভ্যাকসিন এই মুহূর্তে দেশে মজুদ আছে। এ মাসের ২২ তারিখের পর চীন থেকে সিনোফার্মের আরও ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে আসবে। চীনের পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকেও আরও ভ্যাকসিন নেওয়া হবে। সুতরাং ভ্যাকসিন নিয়ে আগামীতে আরও কোনো ঘাটতিতে থাকবে না বাংলাদেশ।’

দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার অর্থ হচ্ছে ১৩ কোটি মানুষের জন্য মোট ২৬ কোটি ভ্যাকসিন প্রস্তুত রাখতে হবে। এই বিশাল সংখ্যক ভ্যাকসিন চাহিদা পুরণ করতে চীনের সাথে বাংলাদেশের আজকের এই চুক্তিটি অনেক বড় ভুমিকা রাখবে বলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চীনের সাথে চুক্তিসহ কোভিড মোকাবিলায় সকল কাজে নেতৃত্ব দেবার জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘চীনের সাথে এই ভ্যাক্সিন কার্যক্রম শুরু করতে সরকার দিনরাত নিরলস কাজ করেছে। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হলো। এই চুক্তির ফলে এখন থেকে বাংলাদেশেই কোভিড ভ্যাক্সিন উৎপাদন হবে এবং খুব দ্রুতই দেশে মানুষের আবারও সাভাবিক জীবন যাত্রা শুরু হবে।’

উল্লেখ্য, দেশেই চীনের সিনোফার্ম ভ্যাকসিন উৎপাদনের লক্ষে সোমবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর মহাখালীস্ত বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান এন্ড সার্জন (বিসিপিএস) মিলনায়তনে চীনের সিনোফার্ম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং দেশের অন্যতম ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেড এর মধ্যে এক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে চীনের সিনোফার্ম ভ্যাকসিন বাংলাদেশ যৌথভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যে সিনোফার্ম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইনসেপ্টা ভ্যাকসিনের পক্ষ থেকে যথাক্রমে সমঝোতা স্বাক্ষর করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেক, এমপি, চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এবং ইনসেপ্টা ভ্যাকসিন লিমিটেড ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল মুক্তাদির।

Sharing is caring!