• ২৫শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৪:১৭
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

নতুন কমিটি গঠন ও জোটের সঙ্গে ঐক্য ধরে রাখার তাগিদ

bmahedi
প্রকাশিত জুন ১৬, ২০১৯, ১৭:৪৩ অপরাহ্ণ

আব্দুল লতিফ এক্সিকি্উটিভ এডিটর : –

দল গোছাতে দ্রুত সারাদেশের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি  ভেঙে নতুন কমিটি করার তাগিদ দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। একইসঙ্গে মনোমালিন্যকে পেছনে ফেলে ২০দল ও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে ঐক্য ধরে রাখতে একমত হয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। শনিবার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দুই ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্রে এমনটা জানা গেছে। দল পুনর্গঠনের আলোচনা ছাড়াও শরিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক, ছাত্রদলের অস্থিরতা থামানো নিয়ে কথা হয় বৈঠকে।

জানা গেছে, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। তাই চলমান দল পুনর্গঠনের কার্যক্রম শিগগিরই শেষ করার কথা বলেন সদস্যরা। বেশিরভাগের মতে, এখনো যেসব কমিটি পুনর্গঠন হয়নি, সেগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পুনর্গঠন করতে হবে। আহ্বায়ক কমিটিগুলোকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ দিতে হবে।

এ সময় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সারাদেশের কমিটিগুলোর সার্বিক অবস্থা নিয়ে ধারণা দেন বলে জানা গেছে। এছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোট নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। নির্বাচনের আগে থেকে এই দুই জোটের শরিকদের সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব চলছিল। তাই দূরত্ব ঘোচানোর পাশাপাশি এদের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা হয় বৈঠকে। বেশিরভাগ সদস্য এদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, কমিটি গঠন নিয়ে ছাত্রদলের অস্থিরতা দূর করতে করণীয় ঠিক করার বিষয়ে কথা হয়। কমিটিতে পদ পেতে বয়সের সীমারেখা রাখার পক্ষে কেউ মত দিলেও নিয়মিত কমিটি করার কথাও বলেন কেউ কেউ। বৈঠকে কী কী বিষয় আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এটা আমাদের রেগুলার বৈঠক। গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সাংগঠনিক আলোচনা হয়েছে।’

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায় ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপে অংশ নেন। দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি দেয়া এবং দলীয় এমপিদের সংসদে যাওয়ার ব্যাখ্যা দেন বলে জানা গেছে।

স্থায়ী কমিটির পর আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করেন নেতারা। দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন, অ্যাডভোকেট আবদুর রেজাক খান, আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও ব্যারিস্টার মীর হেলাল ছিলেন বৈঠকে।

বৈঠকের এক পর্যায়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার গতিপ্রকৃতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এজন্য আইনজীবীদের ডেকে আলোচনা করা হয়েছে। এ নিয়ে আমরা শিগগিরই আবারও বসব। তখন গণমাধ্যমকে ডেকে সব জানানো হবে।’ অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৈঠকে জাতীয় সংসদ ও ঐক্য সম্প্রসারণসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, আলোচনা আরও হবে।

Sharing is caring!