• ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৪২
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

নড়াইলের ৬ কি.মি-সড়ক ৪ লেন করার উদ্যোগ, ব্যয় ১৮০ কোটি টাকা

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১, ১২:১৬ অপরাহ্ণ
নড়াইলের ৬ কি.মি-সড়ক ৪ লেন করার উদ্যোগ, ব্যয় ১৮০ কোটি টাকা
নড়াইল প্রতিনিধি ।।
খুলনা ও বেনাপোল থেকে ঢাকাগামী পরিবহনের জন্য ভাটিয়াপাড়া-কালনা-লোহাগড়া-নড়াইল-যশোর মহাসড়ক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক হিসেবে কাজ করে থাকে। তবে নড়াইল শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই মহাসড়কের দুই পাশে ব্যবসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ রয়েছে বাজার-হাট, গ্রোথ সেন্টারসহ নানা স্থাপনা। ফলে যানবাহনের চাপে এই মহাসড়কের বিশেষ করে নড়াইল অংশে যানজটের চিত্র নৈমিত্তিক। তাতে এই মহাসড়ক ব্যবহারকারীদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এই যানজটের কবল থেকে নিস্তার পেতেই মহাসড়কের নড়াইল শহরাংশের প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।  নিয়েছে সরকার।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র বলছে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে ‘নড়াইল শহরাংশের জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক এই প্রকল্প। আর এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৮০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে নড়াইল শহরের সড়ক প্রশস্ত করার মাধ্যমে যানজট নিরসন এবং এই মহাসড়ক ব্যবহারকারীদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর চলতি বছরের ১৪ জানুযারি অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে প্রকল্পটি উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতর।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ভাটিয়াপাড়া-কালনা-লোহাগড়া-নড়াইল-যশোর মহাসড়কের নড়াইল শহরাংশটি ৫ দশমিক ৫০ মিটার চওড়া। সড়কটির দুই পাশে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, গ্রোথ সেন্টার ইত্যাদি অবস্থিত। ফলে খুলনা বা বেনাপোল থেকে ঢাকার পথে সড়কের এই অংশটিতে সার্বক্ষণিক যানজট লেগেই থাকে। এ কারণেই নড়াইল শহরাংশের ৫ দশমিক ৭৯১ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত ও মজবুত করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছিল। এতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৭৫ কোটি ১২ লাখ টাকা। পরে প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ওপর গত ১৪ জানুয়ারি পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত ও পরিদর্শন কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করেছে। পরিদর্শন কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পুনর্গঠিত ডিপিপিতে ৫ দশমিক ৭৯১ কিলোমিটার সড়ককে চার লেনে উন্নীত করতে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের আওতায় প্রথমত সড়কটির ৫ দশমিক ২১ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করে পুনঃনির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৭৭ কিলোমিটার সড়ক মজবুত ও প্রশস্ত করা হবে। এর মধ্যে ৫ দশমিক ২৯১ কিলোমিটার হার্ড শোল্ডার ও ৫ দশমিক ৭৯১ কিলোমিটার সার্ফেসিং করা হবে। এছাড়া ২ লাখ ৩০ হাজার ৯০৮ দশমিক ৭১ ঘনমিটার সড়ক বাঁধে মাটির কাজ, আরএইচডি সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত টি-জাংশন সড়ক উন্নীতকরণ, একটি ৩১ দশমিক ৮২৮ মিটার পিসি গার্ডার সেতু পুনঃনির্মাণ, দুইটি আরসিসি বক্স কালভার্ট পুনঃনির্মাণ, আরসিসি বক্স ড্রেন কাম ফুটপাথ নির্মাণ ও ইন্টার-সেকশন ডেভেলপমেন্ট করা হবে।
এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) মামুন-আল-রশীদ বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে নড়াইল শহরাংশে যানজট নিরসন হবে। পাশাপাশি নড়াইল জেলা সদরের সঙ্গে খুলনা, বেনাপোল ও যশোর জেলার যোগাযোগ নিরবিচ্ছন্ন ও নিরাপদ হবে। যানজট না থাকলে স্থানীয়দের যে কর্মঘণ্টা বেঁচে যাবে, তাতে বাড়বে উৎপাদনশীলতা। প্রকল্প এলাকার আর্থসামজিক ব্যবস্থারও উন্নয়ন হবে।

Sharing is caring!