• ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৮:৩১
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

পদ্মা কন্যা রাজবাড়ীতে বিলুপ্তির পথে লাল শাপলা

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১, ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ
পদ্মা কন্যা রাজবাড়ীতে বিলুপ্তির পথে লাল শাপলা
মেহেদী হাসান রাজু,রাজবাড়ী ।।
শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল। লাল কিংবা সাদা শাপলা ফুল দেখে মুগ্ধ হন না, এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। অতীতে গ্রামবাংলার বিলে-ঝিলে ও ডোবা-নালায় শাপলা ফুলের সমারোহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে জাতীয় ফুল শাপলা। এক সময়ে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই পদ্মা কন্যা খ্যাত রাজবাড়ীর খাল-বিলে ফুটে থাকতো নয়নাভিরাম সাদা ও লাল শাপলা। বর্ষা থেকে শরতের শেষ পর্যন্ত পুকুর, বিল-ঝিল জলাশয় ও নিচু জমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্মাতো সাদা-লাল শাপলা। শিশুরা তো বটেই সব বয়সের মানুষ রঙ-বেরঙের শাপলার বাহারি রুপ দেখে মুগ্ধ হতেন। কয়েক বছর আগেও শাপলা ভরা বিলের মনমাতানো সৌন্দর্যে চোখের পলক ফেলা মুশকিল ছিল। কিন্তু বর্তমানে জেলার অধিকাংশ খাল-বিল থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ফুলটি।
আগে এই সময়ে সকালে মাঠেরে নিচু জমি, জলাশয় ও পুকুরে চোখ পড়লেই দেখা মিলতো বাহারি লাল-সাদা রঙের শাপলা। শাপলার রূপ দেখে জুড়িয়ে যেত চোখ। গ্রামের শিশু কিশোরা সকাল থেকে মাঠ ও বিল-ঝিল থেকে সংগ্রহ করতো শাপলা ফুল। আর বাড়িতে এসে সেই শাপলা গলায় মালা হিসেবে ব্যবহার করতো তারা। আবার গ্রামের অনেক পরিবারের খাদ্য তালিকায় যুুক্ত ছিলো শাপলা ফুল ও শাপলা ডাটা। আবার শাপলার ভেট দিয়ে অনেকেই খই বানিয়ে খেতো। কিন্ত এই চিত্র এখন বিরল।
জেলার পাংশা উপজেলার আঁধারকোটা গ্রামের স্কুল শিক্ষক আবুল হোসেন বলেন, বর্ষার শুরুতে সকালে বিভিন্ন স্থানে শাপলার বাহারী রূপ দেখে চোখ জুড়িয়ে যেত। এসব দৃশ্য চোখে না দেখলে বোঝানো যাবে না। অনেকে আবার শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য হওয়ায় এলাকার লোকজন শাপলা তুলে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে বিক্রি করতেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এইসকল দৃশ্য চোখে পড়েনা।
বালিয়াকান্দি উপজেলার সৃরামপুর গ্রামের পঞ্চাশ বছর বয়সী চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক জানান, শাপলা ফুল বাংলার সাংস্কৃতিতে এক অনন্য রুপ। শাপলাকে রক্ষা করা বাঙ্গালী হিসেবে আমাদের নৈতিক দ্বায়িত্ব।
জেলার কালুখালি উপজেলার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, খাল-বিল, জলাশয় ভরাট ও কৃষিজমিতে অধিক মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগের কারণে দিন দিন এই উপজেলা থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে সাদা-লাল রঙ এর শাপলা। আর তার সাথে সাথে বিপন্নের পথে শাপলার ফল ঢ্যাপ আঞ্চলিক ভাষায় ভেট হিসেবেও অনেক পরিচত যে নাম। শাপলা ফল বা ঢ্যাপ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে এখন। এর জন্য আধুনিক কৃষি পদ্ধতি অনেকটা দায়ী।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা গোপাল কৃঞ্চ দাস বলেন, ভৌগলিক ভাবে জেলার অধিকাংশ স্থানের ভূমি পদ্মার পলি মাটি দিয়ে গঠিত ও বৃষ্টিপাতের এলাকা হিসেবে পরিচিত। তার পরেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে রাজবাড়ীতে আগের মতো আর বৃষ্টিপাত হয় না। এছাড়াও বিল ও পুুকুর গুলিতে বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষ করায় দিন দিন এই অঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় ফুল শাপলা।
শাপলা ফুল রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আশা প্রয়োজন বলে মনে করেন জেলার প্রকৃতিপ্রেমী সচেতনমহল।

Sharing is caring!