• ২৭শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৩০
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

পরিবেশ নিয়ে গ্লাসগো সম্মেলনে যা বললেন বিশ্বনেতারা

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত নভেম্বর ২, ২০২১, ১২:৩৭ অপরাহ্ণ
পরিবেশ নিয়ে গ্লাসগো সম্মেলনে যা বললেন বিশ্বনেতারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।

জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের প্রতি আসক্ত হয়ে মানুষ নিজেই নিজের কবর খুঁড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

গ্লাসগোতে ‘কপ টুয়েন্টি সিক্স’ এর দ্বিতীয় দিনেও সোমবার জলবায়ু সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

অন্যদিকে, জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে শিগগিরই নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। পরিবেশ রক্ষায় কালক্ষেপণ না করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এছাড়াও, ২০৭০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। 
রোববার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর সোমবার শুরু হয় জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ টুয়েন্টি সিক্স’ এর মূল পর্ব। এদিন, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্বোধনী বক্তৃতার পর একে একে বক্তব্য রাখেন বিশ্ব নেতারা। এদের প্রায় সবার কণ্ঠেই ছিল পরিবেশ বাঁচানোর আকুতি ও সতর্কবাতা। শুধু তাই নয়, বরাবরের মতোই ছিল প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিও।

তিনি বলেন,  অনেক হয়েছে, আসুন এবার একটু সতর্ক হই। পরিবেশের সাথে আমরা টয়লেটের মতো আচরণ করছি। আমাদের চোখের সামনে আমাদের প্রিয় পৃথিবী বদলে যাচ্ছে। সমুদ্র থেকে শুরু করে পাহাড়-পর্বত সবকিছু ধ্বংস করে ফেলছি আমরা। নিজেরাই নিজেদের কবর খুঁড়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।
অন্যদিকে, জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে শিগগরিই নতুন ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। একইসঙ্গে, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে থাকার অঙ্গীকারও করেন তিনি। 
জলবায়ুর পরিবর্তনরোধে অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বরোপ করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও। বলেন, নিজেদের চূড়ান্ত পরিণতি থেকে মানবজাতি আর মাত্র কয়েক মিনিট দূরে।
তিনি বলেন, আমরা যদি এখুনি সতর্ক না হই তবে, তবে আগামী প্রজন্মের জন্য আমরা আর কিছুই করার সময় পাবো না। আমাদের চোখের সামনে ওদের ভবিষ্যত আমরা নষ্ট করছি। আমরা যদি ব্যর্থ হই, তবে আগামী প্রজন্ম আমাদেরকে কোনদিনও ক্ষমা করবে না।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আরও বক্তব্য রাখেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বলেন, উন্নত দেশগুলোর খামখেয়ালির কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা দুঃখজনক। একইসঙ্গে, কার্বন নিঃসরণ কমানোর চেষ্টার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রতি অভ্যস্ত হওয়ারও তাগিদ দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বিশেষ করে দরিদ্রতম যে ৪৮টি দেশ সবচেয়ে বেশি পর্যদস্তু, অথচ বিশ্বে কার্বন নিঃসরণে যাদের অবদান মাত্র শতকরা ৫ ভাগ, তাদের অর্থায়ন চাহিদার আশু স্বীকৃতি দাবি করেছেন ধনী দেশগুলোর কাছে। তিনি প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে সিভিএফ এবং কমনওয়েলথ দেশগুলোর যৌথ পদক্ষেপের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থানীয়ভাবে প্রধান্য দিয়ে সমাধান খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন ‘জলবায়ু পরিবর্তন এখন একটি বৈশ্বিক এবং আন্তঃসীমান্ত সমস্যা এবং এর মারাত্মক পরিণতি থেকে কোনো দেশই মুক্ত নয়। এছাড়াও, সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ব্ক্তব্য রাখেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘিসহ অন্যান্য বিশ্ব নেতারা।
 বার্তাকণ্ঠ/এন
 

Sharing is caring!