• ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৫৭
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

পাঁচ মাসে পুলিশের ওপর তিন সন্ত্রাসী হামলা

bmahedi
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২, ২০১৯, ১৭:২৮ অপরাহ্ণ
মো: মতিয়ার রহমান ।।  

গত পাঁচ মাসে রাজধানী ঢাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটছে। এতে কেউ প্রাণ না হারালেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। প্রতিটি হামলাই হয়েছে আচমকা, সন্ধ্যা বা রাতে। কিছু বুঝে উঠার আগেই পালিয়েছে হামলাকারী। কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আর হামলার পর অনলাইনে দায় স্বীকার করার ঘোষণা এসেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী আই এসের নামে।

অবশ্য সরকার বা পুলিশ বলছে, এগুলো আইএসের কাজ নয়। এগুলো স্থানীয় সন্ত্রাসীদের কাজ। জঙ্গি বা অপরাধীদের ‘দুর্গ’ ধ্বংস করে দেওয়ায় তারা পুলিশকে প্রতিপক্ষ ভাবছে। আর বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য এসব হামলা চালানো হচ্ছে।

সবশেষ শনিবার রাত সোয়া নয়টার দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের গাড়িবহরের দায়িত্বে থাকা পুলিশের এএসআই শাহাবুদ্দিন ও ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল আমিনুল হাতবোমা হামলায় আহত হন। বোমাটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা অন্ধকারে ছেয়ে যায়। পাশে থাকা পুলিশ সদস্যরা ছুটে এসে দুইজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এর আগে ২৯ এপ্রিল গুলিস্তানে পুলিশের ওপর বোমা হামলা চালানো হয়। সেদিনও ট্রাফিক পুলিশের দুই জন সদস্য ও একজন কমিউনিটি পুলিশ সদস্য আহত হন। হামলার শুরুতে ককটেল নিক্ষেপ বলে ধারণা করেছিল পুলিশ। পরে জঙ্গি নির্মূলে ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, এগুলো শক্তিশালী বোমা। বোমায় যুদ্ধে ব্যবহারের ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ব্যবহার করা হয়েছিল।

ঘটনার পর ২৪ মে মামলাটি তদন্তে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। মামলাটি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে ঘটনার সময় বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ এর পেছনে বিদ্যুৎ বিভাগের কেউ সম্পৃক্ত কি না, এটি অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু কাজ আগায়নি বলার মতো।

এই ঘটনার ২৮ দিন পর ২৬ মে রাত পৌনে নয়টার দিকে রাজধানীর মালিবাগের পলওয়েল ফিলিং স্টেশনের বিপরীতে ফ্লাইওভারের নিচে রাখা পুলিশের বিশেষ শাখার একটি পিক-আপভ্যানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। ট্রাফিক পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রাশেদা আক্তার এবং রিকশাচালক লাল মিয়া ও পথচারী শাহনাজ শারমিন সে সময় আহত হন।

এ ছাড়া গত ২৩ জুলাই রাতে রাজধানীর পল্টন ও খামাড়বাড়ি পুলিশ বক্সের কাছে ফেলে রাখা বোমা উদ্ধার করা হয়। তখনও দায় স্বীকার করে বিবৃতি এসেছিল আইএসের নামে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘হলি আর্টিজানে হামলার (২০১৬ সালে) পর আমরা জঙ্গিদের গ্রেপ্তার, তাদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছি। মোটাদাগে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। এই কারণে তারা পুলিশ বাহিনীকে প্রতিপক্ষ মনে করছে। তাই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।’

পুলিশের উপর শনিবারের হামলার বিষয়ে গতকাল ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘পারিপার্শ্বিক অবস্থান ও সাক্ষ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, মূলত পুলিশকে টার্গেট করে সন্ত্রাসীরা এই বিস্ফোরণটি ঘটিয়ে থাকতে পারে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত জব্দ করেছি। আশপাশে যেসমস্ত সিসি ক্যামেরা ফুটেজ রয়েছে সেগুলো আমরা সংগ্রহ করেছি। এর বাইরেও আমাদের প্রযুক্তির আরো যেসমস্ত প্রয়োজনীয় আনুসাঙ্গিক বিষয় রয়েছে সেগুলো সংগ্রহ করে আমরা পর্যালোচনা করছি।’

ইতোপূর্বে এ ধরনের কিছু ঘটনা ঘটেছে এইসব ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে কমিশনার বলেন, ‘তদন্তের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। আমাদের বিশেষজ্ঞ এবং অভিজ্ঞ তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ নানাভাবে বিষয়গুলো তদন্ত ও অনুসন্ধান করছে এবং দেশি বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সাথেও আমরা সমন্বয় রেখে কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে তদন্তে আমাদের অগ্রগতি আছে। তদন্তের স্বার্থে এবং এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে এই মুহুর্তে বিস্তারিত বলা যাবে না। তবে আমাদের বলার মত সাফল্য রয়েছে।’

নিরাপত্ত বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, ধর্মন্ধতা এটা চালু যারা করতে চায়, তারা পুলিশকে প্রতিপক্ষ মনে করে হামলা চালাচ্ছে। এসব বন্ধে পুলিশ প্রধান ভূমিকা রাখে। সুতরাং পুলিশের উপর হামলা করবে এটা তো স্বাভাবিক। এতে পুলিশের মনোবল ভেঙে গেলে এবং ভয়ভীতি পেলে এসব অপরাধীদের কাজ করা সুবিধা।’

‘পুলিশের উপর হামলা চালায় কারা- যারা রাষ্ট্রের শত্রু। এটা তো নতুন ঘটনা না। ২০১৩ সালে জামায়াত এবং তাদের ক্যাডারবাহিনী পুলিশের উপর আক্রমণ করেছিল। চোরাগুপ্তা বা বোমা নিক্ষেপ চালিয়েছিল এবং বন্দুক দিয়ে পিটিয়েছিল।’

হামলার পর আইএসের দায় স্বীকারের বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, ‘হামলার দায় আইএস স্বীকার করেনি, সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপ থেকে থেকে এটা বলা হচ্ছে। তাদের সংস্থাটিই তো প্রশ্নবিদ্ধ। তারা যেসব কথা বলে এসবের কোন ভিত্তি বা প্রমাণ নেই। এর প্রমাণও আমরা পেয়েছি। সুতরাং এর মধ্যে কোন দূরভিসন্ধি আছে কি-না সেটা দেখতে হবে।’

Sharing is caring!