• ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৪৬
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

পাওনা টাকা চাওয়ায় কেরানীগঞ্জে ব্যবসায়ীকে হত্যা করলো সন্ত্রাসীরা

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত আগস্ট ১৬, ২০২১, ১৯:৪৭ অপরাহ্ণ
পাওনা টাকা চাওয়ায় কেরানীগঞ্জে ব্যবসায়ীকে হত্যা করলো সন্ত্রাসীরা

দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা ব্যুরো।।
পাওনা টাকা দবী করায় কেরানীগঞ্জে মাথার খুলি ভেঙে দেয়া হয়েছে এক ব্যবসায়ীর । পরে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে । এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে । এলাকাবাসী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার সহ বিচারের দাবি করেছেন ।
জানা গেছে, দক্ষিন কেরানীগঞ্জের মোল্লার হাট বাজারে তেল মবিল এর দোকানদার ব্যবসায়ী সেলিম কে একদল সন্ত্রাসী মাথায় আঘাত করে মাথার খুলি ভেঙে দিয়েছিল । গুরুতর আহত অবস্থায় ব্যবসায়ী সেলিমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । পরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন । এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় রানা রায়হান নামে এক ব্যক্তির কাছে সেলিম ডিজেল বিক্রির ১১হাজার টাকা পাওনা ছিল।

পাওনা টাকা চাওয়ায় সেলিম এর সাথে তর্ক বিতর্ক হয় । রানা রায়হান নামের ওই যুবক তার টাকা না দিয়ে আবারও ৬৩ হাজার টাকার তেল বাকি চাইতে গেলে দোকানে থাকা সেলিম এর ছোটভাই শরীফ ও ভগ্নিপতির নূর মোহাম্মদ এর সাথে কথা কাটাকাটি হয় । তারা তাকে তেল বাকি দিতে না চাইলে রানা রায়হান ক্ষুব্ধ হয়ে ফিরে যায়। পরে রানার নেতৃত্বে আব্বাস, আলী, হাতিম মিয়া , রবিউল্লাহ, জাহের আলী, শাহিন সজিব সহ ১৪/১৫ জন সন্ত্রাসী লাঠিসোটা নিয়ে সেলিমের দোকানে থাকা শরিফ ও নূর মোহাম্মদের ওপর হামলা চালায়। এসময় খবর পেয়ে বাড়ি থেকে সেলিম দোকানে আসলে তার ওপরও সন্ত্রাসীরা হামলা চালায় ।

সন্ত্রাসীরা সেলিমের মাথায় আঘাত করলে তার মাথার খুলি ফেটে যায় । গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েক দফা মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয় । সেলিমের স্ত্রী আকলিমা বেগম জানান মাথার অপারেশনের পর মাথার খুলির কিছু অংশ ডাক্তাররা তাদের দেন ফ্রিজে রাখার জন্য । ডাক্তাররা জানিয়েছেন অপারেশন সফল হলে ফ্রিজে রাখা কুলির অংশ মাথার প্রতিস্থাপন করা হবে । কিন্তু সেটা আর হলো না । শুক্রবার সকালে তিনি মারা যান । এ ঘটনায় সেলিমের স্ত্রী আকলিমা স্বামীকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন । মামলায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করল পরে তারা আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে যান ।

মামলাটির প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন জাজিরা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো কাউসার । নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তে গুরুত্ব দেননি । পরে তারা এ ব্যাপারে থানার ওসিকে জানালে তিনি তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করেন । বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন উপ পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল আলম। এস আই নাজমুল আলম বলেন হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছিল কিন্তু যেহেতু আহত ব্যক্তির মরে গেছে তাই মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপ নেবে । এখন হত্যা মামলা হিসেবে এটি তদন্ত করা হবে । দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে ।

Sharing is caring!