• ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:১৭
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

পানশির উপত্যকায় উড়লো তালেবানের পতাকা

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১, ১২:৫৭ অপরাহ্ণ
পানশির উপত্যকায় উড়লো তালেবানের পতাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। 

আফগানিস্তানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সর্বশেষ প্রদেশ পানশির দখলের লড়াইয়ে নিজেদের বিজয় ঘোষণা করেছে তালেবান। অনলাইনে গোষ্ঠীটি একটি ভিডিও পোস্ট করেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, তাদের যোদ্ধারা শহরে তালেবানের পতাকা উত্তোলন করছে।

তবে বিদ্রোহী যোদ্ধারা দাবি করেছে যে, তারা এখনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোয় অবস্থান নিয়ে রয়েছে ও তাদের লড়াই অব্যাহত রয়েছে। তালেবানের বিরুদ্ধে সারা দেশে সবাইকে জেগে ওঠার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন নেতা নেতারা।

সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা একটি অডিও বার্তায় ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট অফ আফগানিস্তানের (এনআরএফ) প্রধান আহমদ মাসুদ অভিযোগ করেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তালেবানকে বৈধতা দিচ্ছে এবং তাদের সামরিক ও রাজনৈতিক আস্থা তৈরিতে সহায়তা করছে।

তিনি বলেন, আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, দেশের ভেতরে অথবা বাইরে, আপনাদের সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি দেশের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সমৃদ্ধির জন্য জেগে উঠুন।

তিন সপ্তাহ আগে পুরো আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালেবান। পশ্চিমা দেশগুলো সমর্থিত সরকারের পতন ঘটিয়ে ১৫ আগস্ট রাজধানী কাবুল দখল করে নিয়েছে এই গ্রুপটি। এর ফলে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর ২০ বছরের অভিযানের সমাপ্তি ঘটেছে।

রুক্ষ পাহাড়ি উপত্যকা পানশিরে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে। আশির দশকে সোভিয়েত অভিযান এবং ১৯৯৬-২০০১ তালেবান শাসনের সময়েও এই এলাকাটি বিদ্রোহের কেন্দ্রভূমি ছিল।

তালেবানের দাবি নাকচ করে দিয়ে এনআরএফের মুখপাত্র আলি মাইসাম বিবিসিকে বলেছেন, তালেবান পানশির দখল করতে পারেনি। তাদের টুইটার একাউন্টে একটি পোস্টে বলা হয়েছে, ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতা না পাওয়া পর্যন্ত তালেবান ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।

তবে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ একটি বিবৃতিতে বলেছেন, এই বিজয়ের মাধ্যমে আমাদের দেশকে পুরোপুরি কদর্য যুদ্ধ থেকে বের করে আনা হলো।

বিবিসির সংবাদদাতা লিস ডুসেট বলছেন, পানশির যদিও আফগানিস্তানের ছোট একটি প্রদেশ, কিন্তু এই এলাকার কিংবদন্তি রয়েছে। রুক্ষ পাহাড়ি এই এলাকা সোভিয়েতরা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি, তালেবানও তাদের আগের মেয়াদে ব্যর্থ হয়েছে। হয়তো তালেবান পানশিরের গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলো দখল করতে পারে, কিন্তু পাহাড়ি অনেক স্থান শুধু এখানকার বাসিন্দাদেরই চেনা। সেখানে হয়তো তারা বিদ্রোহী যোদ্ধাদের আশ্রয় দিচ্ছে।

তবে তালেবান যেভাবে অগ্রগতি করে যাচ্ছে, তাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পানশির দখল হবে তাদের নতুন ইসলামিক আমিরাতের মুকুটে একটা হিরের মতো। কিন্তু বিদ্রোহী নেতা আহমদ মাসুদ ও তালেবান সমালোচক আমরুল্লাহ সালেহও এত সহজে হয়তো ছেড়ে দেবেন না। -বিবিসি

Sharing is caring!