• ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ১২:১৩
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

পিংকি একসঙ্গে ৪ সন্তান জন্ম দিলেন

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত জুলাই ৪, ২০২১, ২০:৩৯ অপরাহ্ণ
পিংকি একসঙ্গে ৪ সন্তান জন্ম দিলেন

ঢাকা ব্যুরো।। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার সন্তানের জন্ম দিলেন ইশরাত জাহান পিংকি (২৫) নামের এক প্রসূতি। চার সন্তানের মধ্যে তিনটি ছেলে ও একটি মেয়ে। তারা সবাই সুস্থ্য আছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শনিবার (৩ জুলাই) বিকেলে পিংকি একে একে চার সন্তানের জন্ম দেন। পিকিং এখন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন।

কিশোরগঞ্জের তারাইল উপজেলার সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী ইশরাত জাহান পিংকি। ছয় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। স্বামী সিরাজুল ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আর স্ত্রী পিংকি গৃহিণী। মাহিন নামে চার বছরের তাদের আরও একটি ছেলে রয়েছে।

হাসপাতালে পিংকির মা রমিজা আক্তার বলেন, ‘পিংকি যখন দেড়মাসের অন্তঃসত্ত্বা তখন কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারি তার গর্ভে তিনটি সন্তান রয়েছে। তখনই পরবর্তী জটিলতার শঙ্কা করেন সেখানকার চিকিৎসকরা। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পিংকিকে তিন মাস আগে স্বামী সিরাজুল উত্তর বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকার আলীনগরে তার কাছে নিয়ে আসেন।’

রমিজা বলেন, ‘গর্ভধারণের সাত মাস চলাকালে গত ১ জুলাই তাকে ঢাকা মেডিকেলের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। এরপর গতকাল বেলা তিনটার দিকে সিজারের মাধ্যমে পরপর চারটি সন্তান জন্মদেন পিংকি। এখন পিংকি ও চার সন্তান সুস্থ্য আছে।’

চার সন্তানের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার অস্ত্রপচারের পর তিনটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান জন্ম হয়। প্রাথমিক অবস্থায় সন্তানদের অবস্থা একটু খারাপ থাকায় চিকিৎসকরা তাদের জরুরিভাবে এনআইসিইউতে নিতে বলেন। ঢাকা মেডিকেলে এনআইসিইউয়ে সিট খালি না থাকায় তাদের গতকাল সিজারের পরপরই নিয়ে যাওয়া হয় ধানমন্ডি রেনেসাঁ হাসপাতালে। সেখানে এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয় তাদের। এরপর ঢাকা মেডিকেলের এনআইসিইউ বেড খালি হওয়ায় আজ তিনটার দিকে চার সন্তানকেই নিয়ে আসা হয়। তবে ধানমন্ডির ওই হাসপাতালে সব মিলিয়ে ৪৮ হাজার টাকা বিল দিতে হয় আমাদের।’

সিরাজুল বলেন, ‘আমি ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করি। যে টাকা জমানো ছিল তা এতদিন পিংকির চিকিৎসায় ব্যয় হয়ে গেছে। ধানমন্ডির ওই হাসপাতালের টাকা পরিশোধ করতে আমাকে ধার-দেনা করতে হয়েছে।’

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেন, ‘অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরপরই আমাদের চিকিৎসকরা গুরুত্বের সঙ্গে তার চিকিৎসা করে। গতকাল তার সিজারের মাধ্যমে চারটি সন্তান জন্ম হয়। তখন আমাদের এখানে এনআইসিইউ বেড খালি ছিল না। বেডের ব্যবস্থা করতে করতেই স্বজনরা নবজাতকদের বাইরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে আজ এখানে এনআইসিইউ বেডের ব্যবস্থা করে নবজাতকদের নিয়ে আসা হয়েছে।’

পরিচালক আরও বলেন, ‘অন্তঃসত্ত্বার সাতমাস বয়সে ভূমিষ্ট হলেও সন্তানদের ওজন ঠিক আছে। বর্তমানে তারা ভালো আছে। তাদের মাও সুস্থ্য আছেন। আমাদের চিকিৎসকরা এবং আমি নিজেও তাদের খোঁজখবর রাখছি।’

Sharing is caring!