• ২০শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৫৬
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

পুরনো বাড়ির আধুনিক অন্দরমহল

bmahedi
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯, ২০:২৮ অপরাহ্ণ

নুরুজ্জামান লিটন ।। 

পুরনো বাড়ির আধুনিক অন্দরমহল। রেনোভেশন করে বদলে ফেলা হয়েছে বাড়ির চেহারা। নতুন- পুরনোর এই মিশেলে তৈরি অন্দরসাজের অনন্য গল্প। ডিজ়াইনার বিদ্যুৎ কে বিশ্বাসের অন্দরমহল।পৈতৃক বাড়ি। বয়স প্রায় ৮০-৯০ বছর। উত্তর কলকতার বহু পুরনো বাড়ির মতোই সাদামাটা চেহারা। যেন পুরনো সময়ের স্মৃতি এখনও বহন করে চলেছে। তবে ভিতরে প্রবেশ করলেই একেবারে অন্য পৃথিবী। ঝাঁ-চকচকে, আধুনিক, কেতাদুরস্ত। রেনোভেশনের জাদুকাঠিতে বাড়ির খোলনলচে একেবারে বদলে ফেলেছেন বিদ্যুৎ। ডিজ়াইনার মানুষ ফলে নান্দনিকবোধ নিয়ে সন্দেহ করার প্রশ্নই ওঠে না। বাড়ির এই নতুন চেহারার প্ল্যানিং পুরোটাই ওঁর। আসবাব থেকে কালার স্কিম সবটাই বেছেছেন সময় দিয়ে। আপাতত বাড়ির ভিতরটা বদলালে, বাইরেটাও নতুন করে সাজানোর ইচ্ছে আছে। কিন্তু পুরনো আর নতুনের এই চমৎকার অবস্থান কিন্তু দারুণ একটা গল্প বলে। আর ঠিক এমনটাই চেয়েছিলেন বিদ্যুৎ। ছেলে আর মা-র ছোট্ট সাজানো সংসারে একটা আদুরে, উষ্ণ মেজাজ আছে। একটা লিভড-ইন আমেজ আছে। দু’জনেই আবার গাছ বেজায় ভালবাসেন। সারা অন্দরমহল জুড়েই তার পরিচয় পাওয়া যায়।

সিঁড়ি দিয়ে উঠে আর একপাশে চৌকো জায়গায় দিব্যি স্টাডি বানিয়ে নিয়েছেন বিদ্যুৎ। স্পেসের দারুণ ব্যবহার তা তো মানতেই হয়। কাঠের ছোট টেবল, চেয়ার আর আলমারি রাখা রয়েছে। এখানেও সবুজের উপস্থিতি চোখকে বড় আরাম দেয়। বাড়িতে ঢুকেই বসার জায়গা। লাল কার্পেটের সঙ্গে মানিয়ে বিশাল গা ডোবানো লেদারের সোফা। দেওয়ালে সাজানো রয়েছে বেশ কিছু ছবি। কোনওটা উপহাররূপে পেয়েছেন আবার কয়েকটা বিদ্যুতের নিজের আঁকা। সারা ঘরেই একটা ওল্ড ওয়র্ল্ড চার্ম অব্যাহত। দোতলাতেই থাকেন বিদ্যুৎ। নিজের ঘরে খুব একটা বেশি আসবাব রাখেননি। কাঠের খাট, ড্রেসার, সাইড টেবল একদিকে, অন্যদিকে আছে টিভি ক্যাবিনেট। ঘরে চোখ পড়ল প্রচুর ফুল। সৌরভে, সাজে যেন অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। এই ঘরের আর এক মালিক অবশ্য ‘বেনি’, বিদ্যুৎ-এর প্রিয় পোষা ল্যাব্রাডর। খোশমেজাজে সেও দেখলাম লেজ নাড়তে ব্যস্ত।

কর্নারও যে চমৎকারভাবে সাজানো যায় তার প্রমাণ নিশ্চয় আপনারাও পেলেন। কাচের শেল্ফের উপর বুদ্ধমূর্তি, আগেকার দিনের ল্যাম্প ও টেলিফোন সাজানো। চমৎকার। সিঙ্ক্রোনাইজ়েশন। বিদ্যুতের  মায়ের ঘর।  এখানে মূলত সবই আগেকার দিনের আসবাব। এখানেও হালকা কালার স্কিমই বজায় রাখা হয়েছে।   আসবাবও নেহাতই সামান্য। আর একদিকে ঠাকুরের আসন সাজানো হয়েছে। একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁ়িড়র মাঝের দেওয়াল। ফাঁকা, অবহেলিত রাখাই যেত, কিন্ত তা করা হয়নি। সুন্দর ল্যাম্পশেড তো রয়েছেই, দেওয়ালে সাজানো হয়েছে ট্র্যাডিশনাল রাজস্থানি পুতুল। যথাযথ আলোকসজ্জা আরও বেশি করে যেন স্পেসটাকে সুন্দর করে তুলেছে। দুটো বেডরুমের মাঝে দেওয়ালের সদ্ব্যবহার করেছেন বিদ্যুৎ। আসলে স্পেসের সঠিক ব্যবহার এই অন্দরসাজের ইউএসপি।

ছোট ছোট অনেক রকম ডেকর আছে এই দেওয়ালে। রাজস্থানি ঝরোখা থেকে শুরু করে পুরনো দিনের ঘণ্টা, বড় ঘড়ি, অথচ কোনওটাই অন্দরসাজে  ছন্দপতন ঘটায় না। সিঁড়ির উপরের দেওয়াল। অনেকটা ফাঁকা জায়গা পেয়েছিলেন বিদ্যুৎ। আর শূন্যস্থান পূরণ করতে ছবির চেয়ে ভাল অপশন আর কী-ই বা হতে পারে। বিশেষ নজর কাড়ে খোদ ইজিপ্ট থেকে আনা প্যাপিরাসের উপর আঁকা ছবি। সিলিংয়ের ল্যাম্পশেডটা নতুন হলেও চেহারায় বনেদী ছাপ স্পষ্ট।

Sharing is caring!