• ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, দুপুর ১:৩৫
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

পেকুয়ায় সন্ত্রাসীদের শান্তিরপথে আসার আহ্বান চেয়ারম্যানের

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত আগস্ট ২৭, ২০২১, ১৯:২৬ অপরাহ্ণ
পেকুয়ায় সন্ত্রাসীদের শান্তিরপথে আসার আহ্বান চেয়ারম্যানের
এস এম জুবাইদ, পেকুয়া (কক্সবাজার)।। কক্সবাজারের পেকুয়ার মগনামা ইউপির চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমের দুই স্বজনের ওপর হামলা চালায় এলাকার কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী।
ঘটনার পরবর্তীতে পুলিশ হামলাকারীদের ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর ফের হামলা করে ওই সন্ত্রাসীরা। এরই জের ধরে গত মঙ্গলবার ২৪ আগষ্ট পুরোদিন মগনামার পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত।
 এ ঘটনা কে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যানের অনুসারীরা ওই দিন কয়েক দফায় হামলার বিচার দাবী করে মিটিং-মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। উভয় পক্ষের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনও ছিল কঠোর অবস্থানে। চকরিয়া পেকুয়ার এ এসপি (সার্কেল) তফিকুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের বিভিন্ন টিম পুরো মগনামায় তৎপরতা চালিয়েছে। মোতায়ন করেছিল অতিরিক্ত পুলিশ। বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এড়াতে মোড়ে মোড়ে পুলিশ টিম রাখা হয়েছিল।
এদিকে ষড়যন্ত্রের পথ ছেড়ে কুচক্রীমহলকে চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়,পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এসআই খায়ের উদ্দিন বাদী হয়ে  দায়ের করা সুনির্দিষ্ট ৩৩ জন ও অজ্ঞাত আরও ৮০-৯০  জনের বিরুদ্ধে মামলা করার পর চিহ্নিত আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। মগনামাবাসী শান্তিতে বসবাস করছেন এখন। তবে আতংক কাটেনি জনমনে কারণ পুলিশ বাদী মামলায় অজ্ঞাতনামা রয়েছে ৮০-৯০ জন। এলাকার কিছু কুচক্রী মহলের ইন্ধনে মগনামার শান্ত পরিবেশ কে অশান্ত করে তুলেছে কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। একে পর এক ঘটে যাচ্ছে হত্যা চেষ্টা ও হত্যাসহ নানা ধরনের অপরাধ কর্মকান্ড। যা পুলিশ প্রশাসন সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। সেই যেই হোক না কেন অপরাধ করলেই সে অপরাধী তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
স্থানীয়রা আরো বলেন, মগনামার ফুলতলার ব্যবসায়ী জয়নাল হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামিরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মগনামার চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম ও তাঁর পরিবারের লোকজনকে গুম খুন করার পরিকল্পনায় মেতে উঠেছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট ওয়াসিম চেয়ারম্যানের ভাই এনায়েত উল্লাহ চৌধুরী ও তাঁর মামাতো ভাই মো. আরাফাতকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
এ ঘটনার পর মগনামার সাধারণ জনতা হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও মিটিং-মিছিল করেছে। পুলিশ সাধারণ জনতার চাপের মুখে পড়ে মুহুরী পাড়া এলাকায় হামলাকারীদের ধরতে যান। এসময় মসজিদের মাইকে পুলিশকে ডাকাত ঘোষণা দিয়ে সংঘবদ্ধ শতাধিক নারী-পুরুষ পুলিশের ওপর হামলা করে। এসময় নাছির উদ্দিন বাদশা নামের একজন আসামিকে আটক করে নিয়ে আসার সময় পুলিশের ওপর মামলা করে আসামী ছিনিয়ে নেয় তারা। সংঘবদ্ধ নারী-পুরুষের হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। তাঁরা পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আসামিরা গা-ঢাকা দেওয়ায় মগনামা এলাকায় পরিবেশ শান্ত হয়ে গেছে।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম বলেন, মগনামায় কিছু দুর্বৃত্ত হত্যা ও হত্যা চেষ্টার রাজনীতি শুরু করেছে। তবে এখন মগনামার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আমি চাই মগনামায় কোনো নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হোক। সবাই আমার এলাকার নাগরিক। গুটিকয়েক যাঁরা দুর্বৃত্ত তাঁদের মগনামার সাধারণ জনতা প্রত্যাখ্যান করেছে। চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমার ভাইয়ের মামলায় যাঁরা জড়িত শুধু মাত্র তাঁদের ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের প্রতিও আমার ক্ষোভ নেই। আমার কামনা, আমার ভাই সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক। আইন আইনের গতিতে চলুক।
চেয়ারম্যান ওয়াসিম আরো বলেন, যাঁরা শান্ত মগনামাকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছে তাঁদের প্রতি আমার বিনয়ের সহিত অনুরোধ শান্ত মগনামাকে অশান্ত করার চেষ্টা না করে মগনামার সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে সর্বাত্মক সহযোগিতা করুন। রাজনৈতিক ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা না করে শান্তির পথে আসুন। সংঘাত কোনো সময় শান্তি আনতে পারে না। জয়নাল হত্যার পূর্বে মগনামা যেভাবে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ ছিল সবাই মিলে তেমন শান্তিপূর্ণ মগনামা পুন:প্রতিষ্ঠা করি।
চেয়ারম্যান ওয়াসিম অভিযোগ করেন, অনেকে আমার ভাইয়ের মামলায় আসামি করার ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমি বা আমার লোকজন পথে-ঘাটে হামলা করবে বলে অপপ্রচার করছে। এটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো। চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসে আমি ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যাঁরা জড়িত তাঁদের সবাইকে আমি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখছি।
কুচক্রী মহল কেন বারবার মগনামাকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম বলেন, আমার পাঁচ বছরের চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষের পথে। এই পাঁচ বছর মগনামার মানুষের সুখে দু:খে আমি পাশে ছিলাম। চলমান করোনাকালীন যাঁরা চেয়ারম্যানপ্রার্থী বলে প্রচারণা চালাচ্ছে তাঁদের কেউ জনগনের পাশে ছিল না। আমি প্রত্যেকের খবর নিয়েছি, জনগনকে আমার পরিবারের সদস্য মনে করেছি। আমার উন্নয়নে ইর্ষান্বিত হয়ে কিছু কুচক্রী মহল একের পর এক সংঘাত ও ইস্যু সৃষ্টি করে আমার গায়ে কালিমা লেপন ও আমাকে বিপদগামী  করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে আমি সবার সহযোগিতা কামনা করছি। অপরদিকে সাংবাদিক মুহাম্মদ হাসেম জানায়, আমার দুই ছেলেকে দুইটি মামলায় আসামি করেছে। দুইজনই স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্র। তারা চট্টগ্রাম শহরে থাকার পরও আসামি হয়েছে। পুলিশ বাদি মামলায় স্ত্রী,ছোট ভাই ও ভগ্নিপতিকেও আসামি করেছে। আল্লাহ একজন আছেন। ওনি সবকিছু দেখছেন।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও মামলার আসামী মমতাজুল ইসলাম জানায়, একসপ্তাহ ধরে ঢাকায় আছি। দুইটি মামলায় আমাকে ১নং আসামি করা হয়েছে। মামলা যেহেতু হয়েছে, আইনি মোকাবেলা করবো। ওয়াসিম চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমাদের চিংড়ি প্রজেক্ট থেকে মাছ লুট করেছে তার ক্যাডাররা। পুলিশ ওয়াসিমের টাকায় আওয়ামী নিধনে নেমেছে। রাতে বাড়িতে গিয়ে পুলিশ  আমার ঘর ভাংচুর করেছে। পুলিশের সাথে পাবলিকও ছিল।
মগনামা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও মামলার আসামী মো.রোকন জানায়, একটি মামলায় আমার স্ত্রীকে আসামি করেছে। এখন দেখছি চেয়ারম্যানের ভাইয়ের মামলায় আমাকে করা হয়েছে। আমাদের চিংড়িঘের থেকে মাছ লুট করেছে। পুলিশ ওয়াসিম চেয়ারম্যানের গোলাম। টাকার কাছে বিক্রি হয়েছে পুলিশ। রাতে বাড়িতে পুলিশ গিয়ে বাড়ি ভাংচুর করছে।
মামলা দায়ের করার পরবর্তী পরিস্থিতি প্রসঙ্গে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ইতিমধ্যে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। তাঁদের ধরতে পুলিশ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মগনামায় এখন শান্তি পূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।

Sharing is caring!