• ২৫শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ৩:২৯
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

বাংলা‌দে‌শের প্রথম এবং ডি‌জিটাল জেলা য‌শোর

bmahedi
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯, ১৫:০৪ অপরাহ্ণ

 এম মিজানুর রহমান (লিটন) :

যশোর একটি অতি প্রাচীন জনপদ। আনুমানিক ১৪৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে পীর খান জাহান আলীসহ বারজন আউলিয়া যশোরের মুড়লীতে ইসলাম ধর্ম প্রচারের প্রধান কেন্দ্র স্থাপন করেন। ক্রমে এ স্থানে মুড়লী কসবা নামে একটি নতুন শহর গড়ে উঠে । ১৫৫৫ খ্রীস্টাব্দের দিকে যশোর রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। যশোর-খুলনা-বনগাঁ এবং কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরের অংশ বিশেষ যশোর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। ১৭৪৭ খ্রিষ্টাব্দের দিকে যশোর নাটোরের রাণী ভবানীর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে যশোর একটি পৃথক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং এটিই হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম জেলা। ১৮৬৪ সালে ঘোষিত হয় যশোর পৌরসভা। ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দে যশোর জিলা স্কুল, ১৮৫১ খ্রিষ্টাব্দে যশোর পাবলিক লাইব্রেরি, বিংশ শতাব্দীর তৃতীয় ও চতুর্থ দশকে যশোর বিমান বন্দর এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে কলকাতার সাথে যশোরের রেল-যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্বাধীন হওয়া জেলাটি যশোর। য‌শোর জেলার আয়তন মোট ২৬০৬.৯৪ কিমি২ (১০০৬.৫৫ বর্গমাইল)উচ্চতা৭ মিটার (২৩ ফুট), জনসংখ্যা (২০১১ আদমশুমারি),মোট-২৭,৬৪,৫৪৭ • জনঘনত্ব১১০০, কিমি২ (২৭০০/বর্গমাইল), সাক্ষরতার হার • মোট ৯৫%। বর্তমা‌নে য‌শোর জেলায় ৮ টি থানা র‌য়ে‌ছে। যশোর জেলা বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন জেলা ও সমগ্র ভারতের মধ্যে প্রথম জেলা। ১৯৭১ সালে স্বাধীন হওয়া ১৯টি জেলার মধ্যে যশোরও একটি। একসময় বর্তমান খুলনা বিভাগ যশোর জেলার মহকুমা বলে পরিচিত ছিল। অথচ মহকুমাটি বিভাগে ও পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের মর্যাদা পেয়েছে। অথচ যশোর এখনো অবহেলিত। এ যশোরে ১৮৩৮ সালে জেলা স্কুল, ১৮৫৪ সালে পাবলিক লাইব্রেরি, ১৮৬৮ সালে দেশের প্রথম ইংরেজি প্রত্রিকা প্রকাশ, ১৮৭৫ সালে কেন্দ্রীয় কারাগার, ১৯০১ সালে সদর হাসপাতাল, ১৯৪১ সালে বিমানবন্দর স্থাপন, ভারত বিভাগের পর যশোরে প্রথম শ্রেণির সেনানিবাস গঠন করা হয়। যশোরের এ বিমানবন্দর বাংলাদেশের একমাত্র বিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও যশোর সেনানিবাস দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেনা সদস্যেদের বাসস্থান। ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে সময় হতেই যশোর শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠান আছে এ জেলায়। যশোরে নির্মিত হ‌য়ে‌ছে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক”। য‌শোরের ক‌য়েকজন বিখ্যাত মানুষ হ‌লেন সনাতন গোস্বামী (১৪৮০-১৫৫৮) রূপ গোস্বামী (১৪৮৯-১৫৫৮) শ্রীজীব গোস্বামী (১৫১৩-) সুরেন্দ্রনাথ মজুমদার (১৮৩৮-১৮৭৮) মাইকেল মধুসূদন দত্ত (২৫ জানুয়ারি ১৮২৪ – ২৯ জুন ১৮৭৩) – ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি কবি ও নাট্যকার; কিরণচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (১৮৯৩-১২ ডিসেম্বর ১৯৫৪) – ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী; ফররুখ আহমদ (১০ জুন ১৯১৮ – ১৯ অক্টোবর ১৯৭৪) – মুসলিম রেনেসাঁর কবি; সরোজ দত্ত – ভারতীয় বাঙালি বামপন্থী রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবী গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৪) – মুসলিম রেঁনেসার কবি; আবুল হোসেন (১৫ আগস্ট ১৯২২ – ২৯ জুন ২০১৪) – কবি; এস এম সুলতান (১০ আগস্ট ১৯২৩ – ১০ অক্টোবর ১৯৯৪) – প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী; ড. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান (১৮৯৭-১৯৩৬) – প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও মানবতাবাদী; বাঘা যতীন – ভারতের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী; ইলা মিত্র (১৮ অক্টোবর ১৯২৫ – ১৩ অক্টোবর ২০০২) – বিপ্লবী এবং সংগ্রামী কৃষক নেতা; কমরেড অমল সেন (১৯ জুলাই ১৯১৩ – ১৭ জানুয়ারি ২০০৩) – তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় নেতা; রাধাগোবিন্দ চন্দ্র (১৬ই জুলাই ১৮৭৮ – ৩রা এপ্রিল ১৯৭৫) – জ্যোতির্বিজ্ঞানী ,মুন্সি মেহেরুল্লা, রাজা প্রতাপাদিত্য, ড. শমসের আলী, কোহিনূর আক্তার সুচন্দা – অভিনেত্ৰী ফরিদা আক্তার ববিতা – অভিনেত্ৰী গুলশান আরা চম্পা – অভিনেত্ৰী প্রণব ঘোষ (জন্মঃ ১৯৫০) – সুরকার মিনু রহমান (জন্মঃ ১৯৫০) – অভিনেত্রী হাসান – কন্ঠ শিল্পী দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় – শিশুসাহিত্যিক ও সম্পাদক, অবনীভূষণ চট্টোপাধ্যায় – গণিতজ্ঞ ও লেখক, কাজল (জন্মঃ ১৯৬৭) – কৌতুক অভিনেতা, কামরুল হাসান নাসিম- লেখক, সাংবাদিক ও রাজনীতিক, হাসিবুর রেজা কল্লোল – চলচ্চিত্র পরিচালক, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান-(1936-2008)শিক্ষাবিদ,কবি,গীতিকার, গ‌বেষক। এছাড়াও যশোরের যশ খেজুরের রস’ প্রবাদ বাক্যটি বহুল প্রচলিত। তা ছাড়া ‘বউ ঠিলে ধুয়ে দে, গাছ কাটতি যাবো/সন্ধ্যি রস পাইড়ে আইনে জাউ রাইন্দে খাবো’—এমন কথার গান শীত এলেই যশোরের গ্রামাঞ্চলের মাঠেঘাটে শোনা যায়।শত শত বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে খেজুরের রস, গুড় ও পাটালি। এই ইতিহাসকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন যশোর ব্র্যান্ডিংয়ের স্লোগান নির্বাচন করেছে, ‘নানা রঙের ফুলের মেলা, খেজুর গুড়ের যশোর জেলা। ’ এদিকে, এই যশোর জেলা থেকে সূচনা হয় নীল বিদ্রোহ, বৃটিশ বিরোধী ভারত ছাড় আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন, বিধবা বিবাহ আন্দোলন, সতীদাহ প্রধা বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলনসহ নানা আন্দোলনের। এই জেলায় আছে দেশের প্রধান পাঁচটি রাজস্ব প্রদানকারী জেলার একটি। যশোর জেলা খাদ্যশস্য, মাছের পোনা, সবজি, খেজুরের গুড়, ফুল, গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনে বিখ্যাত।

Sharing is caring!