• ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ১০:৩৮
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

বাগান বাড়ি সাজাবেন কি ভাবে

bmahedi
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯, ২০:২১ অপরাহ্ণ
জহিরুল ইসলাম রিপন ।।
কোলকাতা শহরের বুকে, খোদ হিন্দুস্তান পার্কের মতো জায়গায় এত সবুজে ভরা বাড়ি! ছবি তুলতে গিয়েই এই হেডলাইন মাথায় এল। এটা বাগানবাড়ি নয়তো কি! প্রবেশদ্বার থেকে ছাদ, এ বাড়ির আপাদমস্তক গাছগাছালিতে ভরা। আস্ত একটা তিনতলা বাড়ির সবুজের সঙ্গে এমন গভীর সখ্য চাট্টিখানি কথা নয়! অনিন্দিতা বরাবরই গাছপালা ভালবাসেন। যখন যেখানে থেকেছেন, যেটুকু সুযোগ পেয়েছেন, গাছপালার সঙ্গে মিতালি পাতানোর চেষ্টা করেছেন। আর এই চেষ্টায় সুযোগ্য সঙ্গত করেছেন অম্বরীশ। পেশা এবং নেশা, এই দুইয়ের জেরে দেশবিদেশ ঘুরে বেড়ান দাশগুপ্ত দম্পতি। সংগ্রহ করেন অর্কিড ও অন্যান্য গাছপালা। স্বভাব সৌখিন মানুষ এঁরা। তাই গোলাপ, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, পাম, অর্কিডের পাশাপাশি কিচেন গার্ডেন একটা বড় অংশ জুড়ে আছে এই বাগানবাড়িতে। নিজের বাগানের টাটকা ধনেপাতা, বেসিলের কোনও তুলনা হয় নাকি!

ছাদের ওপর প্রশস্ত সবুজ গালিচা। যে সে ঘাস নয়, মেক্সিকান গ্রাস। তার দুই কোনায় পেল্লায় টবে স্থান পেয়েছে কাঠচাঁপা আর তারই তুতো বোন প্লুমেরিয়া। তবে সৌরভে কাঠচাঁপার চেয়ে পিছিয়ে। সবুজ ঘাসকে জিইয়ে রাখতে নিয়মিত যত্ন নিতে হয় বই কী! তবে কেমিক্যাল বর্জিত যত্নের চেষ্টায় আছেন বাগানবাড়ির মালকিন।

বারান্দায় রোদ্দুর। সেই রোদে পিঠ দিয়ে রকিং চেয়ারে বসে চায়ে চুমুক। আর কী চাই! কিন্তু, এমন সুন্দর বাড়িতে ন্যাড়া বারান্দা তো মূর্তিমান রসভঙ্গ। তাই তো সাজানো হয়েছে পাতাবাহার আর কালিম্পং থেকে যত্নে আনা অর্কিডের সারিতে। মাটির কলসিরা জড়োসড়ো হয়ে বসে রয়েছে এক কোণে।


সাদা-কালো চক মেলানো মেঝে। বসার ঘর লাগোয়া বারান্দার কোনায় দিব্যি জায়গা করে নিয়েছে চাইনিজ় পাম। পাশেই বসার ব্যবস্থা। প্রকৃতির সঙ্গে পাল্লা দেয় কার সাধ্যি! বারান্দা আলো করতে এ গাছ একাই একশো।

ঝকঝকে মেঝে, কাঠের হাতলে শোভিত সিঁড়ি। সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামার পথে দেওয়ালে ছবির দিকে চোখ যাবে। তারই নীচে যুগলে দাঁড়ানো এরিকা পাম। এরিকার গঠনে বেশ এক ভরাট আমেজ, যা তার চারপাশের শূণ্যতাকে পূরণ করে।


এ বাড়ির এলাকাটি এত সুন্দর! বাড়ির চারপাশে গাছগাছালিতে ভরা। বাড়ির সামনের বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছটি শোভাবর্ধনের সঙ্গে সঙ্গে কী সুন্দর আবডাল রচনা করেছে। বারান্দায় বসার জন্য রাখা হয়েছে বেঞ্চ। পার্কের বেঞ্চের আদলে, আর একটু ইলাবোরেট। মাঝে সেন্টার টেবল। বেঞ্চ ও টেবলের রং ও কাঠামোগত সামঞ্জস্য রচনায় বেশ নজর দেওয়া হয়েছে বোঝা যাচ্ছে। মেঝেতে সারিবদ্ধভাবে সাজানো হয়েছে রঙিন টব। পাতাবাহার, কাঠচাঁপা ও আরও নানা ধরনের গাছপালায় উজ্জ্বল সবুজের নবীন সুর।

Sharing is caring!