• ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সকাল ৯:৪৬
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

বাসচালক এখন সবজি বিক্রেতা

bmahedi
প্রকাশিত মে ৩, ২০২১, ১২:৩৭ অপরাহ্ণ
বাসচালক এখন সবজি বিক্রেতা
ফেনী প্রতিনিধি ##  গণপরিবহন বন্ধ থাকায় বাসচালক, হেলপার, সুপারভাইজার, টিকেট কাউন্টার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই অন্য কোনো কাজ না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আবার অনেকে পরিবর্তন করছেন পেশা, যাদের মধ্যে অনেকেই বিক্রি করছেন সবজি।

বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ থানার বাসিন্দা আল-আমিন গত ১৭ বছর ধরে ফেনী শহরে বসবাস করছেন। বাসচালক হিসেবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় উপায়ান্তর না দেখে গত ১০-১২ দিন ধরে তাকে শহরের মহিপালে ভ্যানগাড়িতে সবজি বিক্রি করতে দেখা যায়।

আল-আমিন জানান, বেশ কয়েকবছর ধরে হেলপার হিসেবে চাকরির পর গত চার বছর ধরে তিনি সুগন্ধা পরিবহনের চালক। বাস চালিয়ে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা বেতন পান তিনি। সংক্রমণ রোধে গণপরিবহণ বন্ধ করে দেওয়ায় এখন সবজি বিক্রি করে ৩০০-৪০০ টাকা করে আয় করেন তিনি।

একাধিক মালিক ও শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেনী-ঢাকা, ফেনী-চট্টগ্রম, ফেনী-সোনাপুর, ফেনী-বসুরহাট, ফেনী-লক্ষীপুর, ফেনী-কুমিল্লা, ফেনী-পরশুরাম, ফেনী-সোনাগাজী, ফেনী-বারইয়ারহাট রুটে বাস ও মিনিবাস চলাচল করে। এসব পরিবহনে প্রায় ১০ হাজারের বেশি শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন। গত ৫ এপ্রিল থেকে চলমান লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকার আদেশের পর থেকে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অনেকে জীবিকার তাগিদে অন্য পেশা বেছে নিচ্ছেন।

ফেনী সদরের পাঁচগাছিয়া এলাকার ফরহাদ নামের একজন গত কিছুদিন ধরে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করছেন। সেখানে দিনমজুর হিসেবে রোজগার করে সংসার চালাচ্ছেন। রাজাপুর এলাকার আবুল কালাম নামের একজন মহিপালে ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে সবজি বিক্রি করছেন। পরিবহন বন্ধ হওয়ার পর থেকে সেনবাগের বাসিন্দা ইলিয়াছ এলাকায় দিনমজুরি করছেন।

স্টার লাইন পরিবহনের সুপারভাইজার হেদায়েত উল্যাহ মিলন বলেন, ‘কাঁচাবাজার, শপিং সেন্টার, অফিস আদালতে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউ। অথচ প্রাইভেট গাড়ি, সিএনজি, মোটরসাইকেল চললেও দূরপাল্লার পরিবহনগুলো বন্ধ রয়েছে। কর্মহীন হয়ে দুশ্চিন্তায় মানবেতর জীবনযাপন করছে বাস চালক-হেলপাররা। ঈদ উপলক্ষে পরিবহন খুলে দিলে দূর-দূরান্তের মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের সুযোগ পাবে অন্যদিকে বাস স্টাফরা পরিবার নিয়ে কোনমতে চলেতে পারবে।’

পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, ফেনী জেলা পরিবহন মালিক গ্রুপ, আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, ফেনী জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, ফেনী জেলা বাস, মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নসহ একাধিক সংগঠন থাকলেও গত একমাস ধরে চলা লকডাউনে কোনো শ্রমিকের পাশে দাঁড়ায়নি কেউই। ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবন বিপন্নের পথে।

আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের জেলা সাধারণ সম্পাদক আজম চৌধুরী জানান, লকডাউনে সরকারিভাবে কোনো অনুদান না পাওয়ায় শ্রমিকদের কোনো সাহায্য সহযোগিতা করা যায়নি।

ফেনী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি গোলাম নবী বলেন, ‘সরকার যেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে মার্কেট, বাজার খুলে দিলেও সেখানে যথাযথভাবে তা মানা হচ্ছে না। অথচ বাসেই স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব। তাই অবিলম্বে পরিবহন খুলে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

Sharing is caring!