• ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রাত ১০:০০
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

বিএনপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিশ্বাসী কোনো দল নয় –অমিত

বার্তাকন্ঠ
প্রকাশিত আগস্ট ২১, ২০২১, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ণ
বিএনপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিশ্বাসী কোনো দল নয় –অমিত
যশোর ব্যুরো।। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বিএনপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিশ্বাসী কোনো দল নয়। আমরা চাইনা যে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মী বিমানের চাকা ধরে আকাশে পালিয়ে যাক। শুধু এতটুকু চাই এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হোক, যাতে সকল রাজনৈতিক দল রাজনীতি করার সুযোগ পাক। যে পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জনগণ তাদের পছন্দমত সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় বসাতে পারে। এক্ষেত্রে জনগণ যদি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে পছন্দ না করে অন্য কোনো দলকেও বেছে নেয় তাতেও আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু ভবিষ্যতে আর কোনো পাতানো সাজানো রাতের আঁধারের নির্বাচন জাতীয়তাবাদী দলসহ এ দেশের জনগণ কখনও আর মেনে নেবেনা।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির আলোচনায় এ কথা বলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটি এ সভার আয়োজন করে। সভায় বিশেষ অতিথির আলোচনা করেন জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেনে, কোনো আগ্রাসী বা আধিপত্যবাদী শক্তি জনগণের আবেগের বাইরে বা সমর্থনের বাইরে রাষ্ট্রক্ষমতায় যে চিরদিন রাখতে পারেনা সেটি স্পষ্ট হয়ে গেছে আফগানিস্তানে। ২০ বছর ধরে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী যে পুতুল সরকার স্থাপন করে প্রতিদিন শুধুমাত্র ৩০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করেও পার পায়নি। আমেরিকান সৈন্য সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার সাথে সাথেই জনভিত্তিহীন সেই অবৈধ সরকার রাতের আধারে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এ ঘটনা থেকে বর্তমান সরকাকে শিক্ষা নেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, এখন থেকে সংশোধন না হলে আপনাদেরও একই পরিণতি হবে।
তিনি বলেন, ক্ষমতার পালাবদল যে আসন্ন তা বিশ্ব মানচিত্রের দিকে তাকালেই বোঝা যাচ্ছে। আফগান্তিানের অবৈধ রাষ্ট্রপ্রধান পালানোর সময় যে পরিমান অর্থ ও সোনাদানা নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন হেলিকপ্টারে জায়গা না হওয়ার কারণে ফেলে যেতে হয়েছে। যদিও আমরা জানি আমাদের বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী আফগানিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর মতো বোকা নন। তারা বহু আগেই তাদের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে। তবে জনগণের ওপর থেকে অত্যাচার বন্ধ না করলে এ সরকারকে তাদের চেয়েও ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমরা আজ একটি সংকটময় মুহূর্তে উপনীত। মাত্র দুদিন আগেও এখানে নজিবিহীনভাবে বিএনপির এ কার্যালয়ে হামলা হয়েছে। যে ঘটনার মাধ্যমে সারা বাংলাদেশে যশোরে যে রাজনীতির সংস্কৃতি ও সম্প্রীতি ছিলো তার ব্যত্যয় ঘটেছে। যে হামলায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা দেলোয়ার হোসেন খোকন, গোলাম রেজা দুলুসহ আরও অনেক নেতা আহত হয়েছেন। আমরা এ ঘটনায় প্রতিশোধ না নিলেও প্রতিবাদ জানিয়েছি।
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ করে রাজনীতি করি। আমরা বিশ্বাস করি ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। সুতরাং আমরা যদি আমাদের পিতা মাতাকে নিরাপত্তা না দিতে পারি, আমরা যদি আমাদের ভাই-বোনদের সুরক্ষা না দিতে পারি, দলীয় কার্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারি তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আমাদের ওপর কীভাবে অস্থা রাখবে ?
তিনি বলেন, কারোর ওপর হামলা করার রাজনীতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এমনকি আমাদের প্রয়াত অভিভাবক মরহুম তরিকুল ইসলাম শেখাননি। কিন্তু আত্মরক্ষার কৌশল আমাদের জানা রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানও আত্মরক্ষার কৌশলের অধিকার আমাদের দিয়েছে। তাই স্পষ্ট করে বলতে চাই-আগামীতে কেউ যদি এ ধরনের ধৃষ্টতা দেখাতে আসে জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীরা অবশ্যই তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।।
অমিত বলেন, আজকের এই সংকটময় মুহূর্তে আমাদের সকলকে একতাবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদেরকে সর্বোচ্চ সংযমের পরিচয় দিতে হবে। কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। এমনকি সরকারের পাতা ফাঁদেও পা রাখা যাবেনা। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, সরকারের পতন ঘণ্টা বেজে উঠেছে। এটিকে ত্বরান্বিত করার জন্য আমাদেরকে ইস্পাত কঠিন ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার। এর বাইরে আমাদেরকে দলের প্রতি আনুগত্য তৈরি করে লক্ষ্য স্থির করে আমাদের কঠিন আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। সবাই এক হলে এ সরকারের পতন অনিবার্য। বাধা উপেক্ষা করেই আমাদেরকে রাজপথে নামতে হবে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমীর ফয়সালের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, আহবায়ক কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নুরুন্নবী, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলাম, হাজী আনিছুর রহমান মুকুল, শার্শা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান জহির, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এসএম মিজানুর রহমান, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক রানা, যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল হোসেন বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক কবীর হোসেন বাবু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হায়দার রানা, যুগ্ম সম্পাদক রেজানুল ইসলাম রিয়েল, সিনিয়র সহসভাপতি নির্মল কুমার বিট, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পী, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনেওয়াজ ইমরান, জেলা মৎস্যজীবীদলের আহবায়ক ইসমাইল হোসেন টেনিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হাসানুজ্জামান বাবলু, জেলা তাঁতী দলের আহবায়ক মাসুদুর রহমান প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের অসুস্থ নেতাকর্মীদের সুস্থতা ও প্রয়াত নেতাদের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

Sharing is caring!