• ২১শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:১৬
  • রেজিস্ট্রেশন ৪৬১

বেনাপোলে প্রথমবারের মতো ভারত থেকে আমদানিকৃত ২০০ কেজি ভায়াগ্রার চালান আটক

bmahedi
প্রকাশিত জুলাই ২৪, ২০১৯, ১৭:১৮ অপরাহ্ণ

রোকনুজ্জামান রিপন ।। 

অপঘোষনা দিয়ে ফ্লেভারের আড়ালে বেনাপোল বন্দরে প্রথমবারের মতো অবৈধভাবে ভারত থেকে আমদানিকৃত ২০০ কেজি “ভায়াগ্রার” চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক  ক্ষতিকর এই চালানের বিষয়ে  আজ বুধবার দুপুরে বেনাপোল কাস্টমস ক্লাবে এক সংবাদ বিঞপ্তিতে কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

কাস্টমস সুত্র জানায়, ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রোড গ্রীন ইন্টারন্যাশনাল, ভারত থেকে ৫’শ কেজি  ফ্লেবার আমদানি করেন। যার এলসি নং-২৯৬৬১৯০১০০৩৬, তারিখ: ০২/০৪/২০১৯। কাস্টমস মেনিফেস্ট নাম্বার- ১৩৬১৩তারিখ: ১০/০৪/২০১৯

বিল অব এন্ট্রি নাম্বার -সি-২৫৫৭৭, তারিখ: ১৩/০৪/২০১৯, পণ্য চালানটি রাজস্ব পরিশোধ করে বন্দর থেকে খালাশ নেয়ার সময় গোপন সুত্রে খবর পেয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা পন্য চালানটি আটক করে গত ১৬ এপ্রিল বিকেলে।

পণ্য চালানের সাথে  ফ্লেভার-৫০০ কেজি, সাদা পাউডার-২০০ কেজি, সিরিঞ্জ- ১,৯৪,০০০ পিস,ইমিটেশন জুয়েলারি-১১০.৭৭ কেজি, শাড়ি- ৩০৩ পিস, ওড়না- ১৪ পিস, কামিজ- ১০ পিস, সালোয়ার- ০৯ পিস, থ্রী-পিস- ৩৮ পিস, শার্ট- ১৯ পিস, প্যান্ট- ১২২ পিস।

পরে সতর্কতার সাথে কাস্টম হাউসের নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবে “রমন স্পেক্ট্রোমিটার’র” সহযোগীতায়  ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পরীক্ষা শেষে  ২০০’শ কেজি ভায়াগ্রা পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর পণ্য বিবেচনায় পণ্যের নমুনা খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) পাঠানো হয়। দীর্ঘ তিন মাস পর কুয়েট পরীক্ষা করে পণ্যটিকে ৯৮ % ভায়াগ্রা বলে রিপোর্ট প্রদান করেন। কুয়েটের প্রতিবেদন প্রাপ্তির পরেই অপঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত হয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ব কাস্টমস সংস্থার ১৮২ সদস্য দেশকে মাদক, বিস্ফোরক ও এ ধরনের ক্ষতিকর পণ্য চোরাচালানের বিষয়ে দীর্ঘদিন সর্তকবার্তা দিলেও বাংলাদেশেই প্রথম আটক হলো এ ধরনের পণ্য চালান। বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে জানানো হলে  তাঁরা ভবিষ্যতে আরো সতকর্তার সাথে কাজ করার নির্দেশনা দেন বেনাপোল সহ সকল কাস্টমস হাউসকে।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিস্ট সিএন্ডএফ এজেন্ট আহাদ এন্টারপ্রাইজ’র লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়। বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা করা হবে বলে কাস্টমস সুত্র জানান।

ইতোমধ্যে  এ ধরনের আর একটি চালান সন্দেহের তালিকায় রেখে খালাস স্থগিত করে নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে বন্দর অভ্যন্তরে।

দেশের অন্যান্য কাস্টমস পয়েন্টে সতর্কতাঃ বেনাপোল কাস্টম হাউসের সতর্কতার ফলে অসত্য ঘোষণায় আমদানিকৃত ভায়াগ্রার এ চালান আটক করা সম্ভব হয়েছে। বেনাপোলে নজরদারীর কারণে এমন চালান আটক হওয়ায় ভবিষ্যতে এ চক্রটি এ ধরনের পণ্যচালান আমদানিতে বেনাপোল ব্যবহার না করে অন্যান্য কাস্টম হাউস ও কাস্টমস স্টেশন ব্যবহার করতে পারে। সে লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে পত্র দেয়া হচ্ছে।
মিডিয়ার মাধ্যমে সতর্ক ও প্রতিহতকরণঃ দেশের সকল আমদানি স্টেশনে বিশেষ নিবিড় সতর্কতা অবলম্বন করার জন্যে এনবিআরকে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ধরনের আমদানি প্রতিহত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী কাস্টমস কর্মকর্তা, বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে এবং জনসাধারণকে ব্যাপকভাবে অবহিত করার লক্ষ্যে ইলেক্ট্রনিক , প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রচারের জন্য সংবাদ সম্মেলন করে কাস্টমস কতৃপক্ষ।
দৃশ্যত: দাবীদারবিহীনঃ আমদানিকারক কোনো ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নয়। তবুও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি ব্যতীত আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-২০১৮ এর শর্ত ভঙ্গ করে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ভায়াগ্রা আমদানি করেছে। বর্তমানে আমদানিকারক কেবল ৫০০ কেজি ফ্লেভার ব্যতীত অন্য পণ্য দাবী করছেনা। ২৫ প্যাকেজ (৫০০ কেজি) ফ্লেভার ব্যতীত অন্যান্য পণ্যের বিস্তারিত বিষয়ে জানা নেই মর্মে পণ্যচালান খালাসের কাজে নিয়োজিত সিএন্ডএফ এজেন্ট আহাদ এন্টারপ্রাইজ লিখিতভাবে জানান। ট্রাক খালাসের জন্য আবেদন পাওয়া গেলেও অপঘোষিত পণ্য কেউ দাবী করছে না। মূলত রমন স্পেক্ট্রোমিটারে প্রাথমিকভাবে ভায়াগ্রা সনাক্তের পর আর কেউ দাবী করছে না।
প্রাথমিক অনুসন্ধানঃ চালানটির আমদানিকারক ও খালাসের কাজে নিয়োজিত সিএন্ডএফ এজেন্ট আহাদ এন্টারপ্রাইজ কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।
পদক্ষেপঃ ১। সিএন্ডএফ এজেন্ট আহাদ এন্টারপ্রাইজ, বেনাপোল এর লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে।  ২। অধিকতর তদন্তের জন্য যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।  ৩। চালানটি আটক করা হয়েছে এবং এ দপ্তরের মূল্যবান গুদামে হেফাজতে আছে যা পরবর্তীতে আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি করা হবে। ৪। জালিয়াতি ও অবৈধ পণ্য সুকৌশলে আমদানির অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাবার পর দোষীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ৫। সংস্থা প্রধান সিনিয়র সচিব, আইআরডি জনাব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, এনডিসি, সদস্য জনাব খন্দকার আমিনুর রহমান ও সদস্য শুল্ক নীতি জনাব সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে।  ৬। পরবর্তী আমদানিকৃত সমজাতীয় পণ্য  চালানের বিষয়ে সতর্ক থাকতে টীমের সকল সদস্যকে অবহিত করা হয়েছে।  ৭। ইতোমধ্য আরেকটি চালান সন্দেহের তালিকায় আনা হয়েছে এবং খালাস স্থগিত করে নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ৮। দেশব্যাপী ও বিশ্বব্যাপী সচেতনতাকল্পে কার্যকরী প্রচারণার লক্ষে সকল মিডিয়াকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

Sharing is caring!